মাত্র পাঁচ মাস বয়সে ৮৫০০ মাইল পাড়ি! যে উড়ান নিয়ে তাজ্জব খোদ গিনেস বুক
Godwit bird : একটানা ১১ দিন ধরে উড়ে সে পার করেছে ১৩,৫৬০ কিলোমিটার অর্থাৎ ৮,৪৩৫ মাইল পথ

ডানা থাকবার এই এক বিরাট সুখ। যখন খুশি উড়ে যেতে মানা নেই। কথায় কথায় অনেকেই বলেন, পাখি হতে পার্কে দারুণ হতো জীবনটা। কেমন ওপর থেকে দেখা যেত নিচের পৃথিবীকে! তবে এই পাখি যেমন তেমন কোনও পাখি নয়। রীতিমত গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড-এ নাম তোলা পাখি এটি। নাম গডউইট পাখি।
বয়স মাত্র পাঁচ মাস। তাতেই বিশ্ব রেকর্ডের শিরোপা। একটানা ১১ দিন ধরে উড়ে সে পার করেছে ১৩,৫৬০ কিলোমিটার অর্থাৎ ৮,৪৩৫ মাইল পথ। সম্প্রতি একটি পরীক্ষা করা হয় পাখিটির ওপর। আলাস্কা থেকে রওনা হয়ে গত ২৪ অক্টোবর ওই পাখিটি তার সফর শেষ করে অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ায়।
ছোট্ট দুটি ডানায় কতোই না জোর। লন্ডন অথবা নিউইয়র্কের মতো শহরকে তিন তিনবার ঘুরতে পারে সে এক উড়ানেই। রীতিমত শরীর সচেতন বললে ভুল হয় না একে। জানা গিয়েছে দীর্ঘ এই সফরের পড়ে দেহের ওজনও কমিয়ে ফেলেছে পাখিটি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Migratory Birds science : পাখিদের শরীরেও একটি 'ঘড়ি' থাকে। এর সাহায্যে তারা বোঝে, বছরের ঠিক কোন সময়ে তাদের উড়ে যেতে হবে।
বিরামহীন এই যাত্রাপথের ওপর নজরদারি চালিয়েছিল গিনেস বুক সংস্থা। তার যাত্রাপথে নজর রাখা হয় পাখিটির পিঠের নিচের দিকে 5G স্যাটেলাইট ট্যাগ লাগিয়ে। একটানা ১১ দিন এক ঘণ্টার পথ, নির্দ্বিধায় উড়ে যায় ছোট্ট দুটি ডানায়। সফর শেষে হিসেব কষে দেখা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই সে ভেঙে দিয়েছে পুরনো সব রেকর্ড।
এর আগে দীর্ঘ উড়ানের রেকর্ডটি ছিল একই প্রজাতির অন্য একটি পাখির ঝুলিতে। ২০২০ সালের সেই রেকর্ডটি এক লহমায় ভেঙে দেয় পাঁচ মাসের এই বার-টেইলড গডউইট। শুধু তেই নয়, যাত্রাপথের ব্যবধান তৈরি করেছে প্রায় ২১৭ মাইল। যেন কোন এক চিরন্তন দৌড়ে নেমেছিল সে।
বার্ডলাইফ তাসমানিয়ার এক আধিকারিক এরিক ওহেলারের মতে, এই একটানা ১১ দিন উড়ে যাওয়ার ফলে শরীরের অর্ধেক ওজনের বেশি ঝরিয়ে ডেকে পাখিটি। পাখিটি সম্পর্কে তিনি আরো বেশ কিছু তথ্য সামনে আনেন। একই প্রজাতির অন্য পাখিদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শর্ট টেইলড শিয়ারওয়াটার্স ও মাটন বার্ডস জলে নেমে খেতে পারলেও গডউইট জলে নামতে পারে না। জলে নামলেই এরা মরে যাবে। কারণ এদের পায়ের পাতা জোড়া নয়, ফলে জল থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না তারা। তাই যদি খুব ক্লান্ত না হয় তাহলে তারা আকাশেই থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। একান্তই কাহিল হয়ে পড়লে অথবা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকলে সমুদ্র তীরবর্তী জল বিহীন স্থানে অবতরণ করে গডউইট।
অন্যদিকে, আর্কটিক টার্নস পাখিটিও বছরের পর বছর ধরে নজির গড়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস সংস্থার তবে পাঁচ বয়সী গডউইট যেন সত্যিই তাক লাগিয়ে দিয়েছে। বার-টেইলড গডউইট পাখির প্রিয় গন্তব্য হল নিউজিল্যান্ড তাই তাসমানিয়ার পথে এই উড়ান শুধুই যে রেকর্ড তা নয়, পাশাপাশি পরিযায়ী পাখিদের নিরিখে এ এক বিরল ঘটনাও বটে।
















