খেলা ঘোরাতে ইউক্রেনের অমোঘ অস্ত্র ক্রিপ্টোকারেন্সি, বদলে যাচ্ছে গোটা অর্থব্যবস্থাই

Satyaki Tat
৩ মিনিট
খেলা ঘোরাতে ইউক্রেনের অমোঘ অস্ত্র ক্রিপ্টোকারেন্সি, বদলে যাচ্ছে গোটা অর্থব্যবস্থাই

সারা বিশ্বের তাবড় অর্থবিশেষজ্ঞর একটা বড় অংশই বলছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি, এক বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও বিস্ময়কর এক আবিষ্কার যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে আমাদের পৃথিবীর অর্থনীতির দিশা পাল্টে দেওয়ার। ক্ষমতাহীনদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার, গুটিকয়েক ক্ষমতাবানদের হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তা সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার। ইংরেজিতে যাকে বলা হচ্ছে Decentralized financial system. সেই ক্রিপ্টোকারেন্সি এই মুহূর্তে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের অন্যতম মুখ্য চরিত্র। কী ভাবে?

রুশ আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর ইউক্রেন সরকারের অর্থ প্রয়োজন হয়েছে। প্রথম বিশ্বের অনেক দেশই সাহায্য করছে তাদের। কিন্তু শুধু অন্যান্য দেশের সাহায্যের আশাতে বসে থাকেনি তারা। তারা সোশ্যাল মিডিয়াতে দুটি ক্রিপ্টো ওয়ালেটের তথ্য দিয়ে সরাসরি তাদের সাহায্য পাঠানোর আবেদন করেন। প্রথম চার দিনেই তারা অনুদান পান প্রায় সাড়ে দশ মিলিয়ন ডলার। তার পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় একশ মিলিয়ন ডলার অনুদান পেয়েছেন তাঁরা, জানাচ্ছেন মাইকেল চোবানিয়ন, যিনি "ক্রিপ্টো ফান্ড ফর ইউক্রেন" প্রোগ্রামের অধিকর্তা, সেই সাথে ক্রিপ্টো বিনিময়ের মাধ্যম কুনা ওয়ালেটের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। তিনি আরও জানাচ্ছেন, "আমরা এখনও অনুদান গ্রহণ করছি, এবং সেই অর্থ আমরা খরচ করছি রেশন এবং সেনার জন্যে মিলিটারি সামগ্রী, যেমন বুলেট প্রুফ ভেস্ট এবং হেলমেট কিনতে খরচ করছি।"

জানা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত ১৫ মিলিয়ন এই তহবিল থেকে ইউক্রেনের সরকার খরচ করেছে বুলেট প্রুফ ভেস্ট কেনার জন্যে। এই তহবিল তৈরিই করা হয়েছিল যাতে সেনাকে সাহায্য করা যায় এবং সেই সাথে যুদ্ধে আক্রান্ত সমস্ত মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছে দেওয়া যায়। কিন্তু যুদ্ধের তীব্রতা যে পরিমানে বাড়ছে, তাতে এখন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরো অর্থই সেনার সাহায্য করতে, মিলিটারি খাতে খরচ করা হবে।

মাইকেল চোবানিয়ন আরো জানাচ্ছেন, বেশিরভাগ ক্রিপ্টো অনুদান এসেছে বিটকয়েন এবং ইথেরিয়ামের মাধ্যমে।

এই ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অনুদান নেওয়ার কারণ কী? আমেরিকা এবং ইউরোপ থেকে তো মোটা অঙ্কের অনুদান আসছেই। জানা যাচ্ছে, ক্রিপ্টোর মাধ্যমে অনুদান নেওয়া হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষেরাও তাদের সাধ্য মতো অনুদান পাঠাতে পারেন, এবং যেহেতু ক্রিপ্টো একটি বিকেন্দ্রীভূত আর্থিক ব্যবস্থা, সেই কারণে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে খুব কম প্রসেসিং-ফি দিয়ে তাঁরা এই অনুদান পাঠাতে পারবেন। সবথেকে বড় বিষয় হল, এতে যুবসমাজ আরো বেশি করে এগিয়ে এসেছে এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে তাঁরা ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছে।

অনুদানের এই মাধ্যম বেছে নেওয়ার আরো একটি বড় কারণ হল, যুদ্ধের ফলে ইউক্রেনের যে মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে তার কোনো প্রভাব পড়বে না ক্রিপ্টোর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করলে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই ইউক্রেনের সরকারি মুদ্রার দাম অনেক পড়ে গেছে। ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অনুদান নিলে এই পড়ন্ত ইউক্রেনের সরকারি মুদ্রার দাম কোনো প্রভাব ফেলতে পারবেনা।

আরো একটি বিষয় হল লেনদেনের দ্রুততা। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় অর্থগ্রহন করলে তা প্রায় চব্বিশ ঘন্টা লেগে যেতে পারে। কিন্তু সেই জায়গায় ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন অনেক বেশী দ্রুততার সাথে করা সম্ভব। যুদ্ধের সময় এই লেনদেনের দ্রুততা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

চোবানিয়ন মনে করছেন ক্রিপ্টোকারেন্সির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে দেশের অর্থনীতির খুব গুরুত্বপূর্ণ এক অংশ হয়ে ওঠার। তার মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ জিতবে এবং তারপর তাঁরা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করবেন।

গত সপ্তাহেই এই পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে তার দেশ। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কি বিল পাশ করেছেন যা ভবিষ্যতে দেশে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহারকে আইনী অনুমোদন দেবে।

তবে ক্রিপ্টোকারেন্সির সুবিধা শুধু ইউক্রেনই নয়, রাশিয়াও নিচ্ছে, এবং মনে করা হচ্ছে, এত আর্থিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রাশিয়া আরো বেশি করে ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ব্লকচেন প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকবে।

রাশিয়ার এই আগ্রাসন, এই যুদ্ধ আমাদের পৃথিবীর অনেক কিছু বদলে দিয়েছে। বদলে দিয়েছে বিশ্ব রাজনীতির ভারসাম্য। সেই সঙ্গে অনেক দেশই এখন দেখছে ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষমতা এবং আগামী দিনে সব শক্তিশালী দেশই ক্রিপ্টোকে মুক্ত হস্তে গ্রহণ করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

লিখেছেন
Satyaki Tat
Satyaki Tat
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।