তরুণ কৃষকের মৃত্যুতে আগুনে ঘি! ভোটের আগে যে পথে এগোচ্ছে দেশের কৃষক আন্দোলন

Farmer's Protest: বুধবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে শুভকরণের। সেই ঘটনার প্রতিবাদে সংযুক্ত কিসান মোর্চার তরফে শুক্রবার 'ব্ল্যাক ফ্রাইডে' পালনের ডাক দেওয়া হয়েছে।

Sohini Das
৩ মিনিট
তরুণ কৃষকের মৃত্যুতে আগুনে ঘি! ভোটের আগে যে পথে এগোচ্ছে দেশের কৃষক আন্দোলন

কৃষক আন্দোলনের ঢেউ ক্রমশ বড় হচ্ছে দেশ জুড়ে। এক দিন আগেই বিক্ষোভরত এক তরুণ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে পঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে। যার জেরে নয়া মাত্রা পেয়েছে এই বিক্ষোভ। ফেব্রুয়ারির গোড়া থেকেই ফের একাধিক দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছেন কৃষকেরা। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য-সহ একাধিক দাবি রয়েছে তাদের। ইতিমধ্যেই সেই সব দাবি নিয়ে চার-চার বার আলোচনায় বসেছেন কৃষকনেতারা। তবে এখনও কোনও সমাধানসূত্র তো মেলেইনি, বরং প্রতিদিন আরও একটু একটু করে কঠিন হচ্ছে পরিস্থিতি।

পঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্ত থেকে হাজার হাজার কৃষক দিল্লি চলো আন্দোলন শুরু করেছেন। বুধবার পঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে পুলিশি সংঘর্ষে নিহত হন শুভকরণ সিং নামে বছর বাইশের এক কৃষক। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি খানউরি সীমান্তে কৃষক আন্দোলনে শামিল হন শুভকরণ। দিল্লির ধারেকাছেও যাতে পৌঁছতে না পারেন কৃষকেরা, তার জন্য চেষ্টায় কোনও ত্রুটি রাখছে না প্রশাসন। ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে দিল্লি জুড়ে। নিরাপত্তায় মুড়ে দেওয়া হয়েছে রাজধানী। পঞ্জাব ও হরিয়ানা সীমান্ত থেকে এগোতে গেলেই কৃষকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধছে কৃষকদের। ছোড়া হচ্ছে কাঁদানে গ্যাস, শেল। আর তেমনই একটি সংঘর্ষে জড়িয়ে বুধবার মৃত্যু হয়েছে শুভকরণের। সেই ঘটনার প্রতিবাদে সংযুক্ত কিসান মোর্চার তরফে শুক্রবার 'ব্ল্যাক ফ্রাইডে' পালনের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকেই আন্দোলনে যোগ দেবে তারা। অন্যদিকে, ভারতীয় কিসান ইউনিয়নে (বিকেইউ) নেতা রাকেশ টিকাইত দিল্লিরক দিকে ট্র্যাক্টর মিছিল করার ডাক দিয়েছেন। ২০২০ সাল থেকেই কৃষিআইনের বিরোধিতায় চল্লিশটিরও বেশি কৃষক ইউনিয়ন পথে নেমেছে। ২০২১ সালেও উস্কে উঠেছিল বিক্ষোভ। সেই বিক্ষোভের মুখে পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছিল সরকার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হকের দাবিতে লড়তে গিয়ে ২২ বছরের তরুণ কৃষকের মৃত্যু! এই আন্দোলন বিপাকে ফেলবে বিজেপিকে?

Farmers’ protest: শুভকরণের মৃত্যু কি লোকসভা নির্বাচনের আগে বিপাকে ফেলবে বিজেপি সরকারকে?

খানাউরি সীমান্তে আন্দোলনরত যুবকের মৃত্যুর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের না করা নিয়ে পঞ্জাব সরকারকে নিশানা করেছে পঞ্জাব কিসান মজদুর সংগ্রাম কমিটি। সরকার যে ভাবে শহীদদের অবমাননা করেছে তা নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন পাঞ্জাব কিষাণ মজদুর সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক সারওয়ান সিং পান্ধের। এদিকে, ফিল্লাউরের কাছে অমৃতসর-দিল্লি জাতীয় মহাসড়ক, ভোগপুরে জলন্ধর-পাঠানকোট মহাসড়ক, শাহকোটের কাছে জালন্ধর-মোগা সড়ক এবং তরন তারন শহরের কাছে অমৃতসর-বাথিন্দা জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করে শুক্রবার পঞ্জাবের কৃষকেরা। প্রায় দু ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে অবরোধ। হরিয়ানাতেও দেখা গিয়েছে একই ছবি। সেখানেও কৃষকরা ম্বালা, কুরুক্ষেত্র, কারনাল, যমুনানগর, ভিওয়ানি, হিসার, রোহতক, জিন্দ এবং রাজ্যের অন্যান্য অংশ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। যার ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে ওই সব এলাকায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কৃষকদের ফের আলোচনায় বসার ডাক! ভোটের মুখে অবস্থান থেকে সরবে বিজেপি সরকার?

Farmers’ protest 2024: গত ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশে ছোড়া কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেটে অন্তত ৬০ জন জখম হয়েছেন বলে খবর। ওই ঘটনায় দুজন চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন এবং হৃদরোগে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

শুক্রবার সংযুক্ত কিসান মোর্চার তরফে জনআক্রোশ সমাবেশের ডাক তো দেওয়া হয়েইছে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি দেশ জুড়ে ট্র্যাক্টর সমাবেশ ও ১৪ মার্চ দিল্লির রামলীলা ময়দানে একটি মহাপঞ্চায়েতের আয়োজন করা হয়েছে। বিকেইউ নেতা রাকেশ টিকাইত বলেন, কৃষকরা ট্রাক্টর নিয়ে মহাসড়ক ধরে দিল্লি যাবেন। এটি হবে একদিনের কর্মসূচি।হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টার এবং রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল ভিজের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করার দাবি জানিয়েছে পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে আন্দোলনকারী কৃষকের । এসকেএম নেতা বলবীর সিং রাজেওয়ালও খট্টর ও ভিজের পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।

সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতি হলে আন্দোলনরত কৃষকদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। শাপাশি বিক্ষোভকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিজ করা হবে বলেও হুমকি দিয়েছে হপিয়ানা পুলিশ। হরিয়ানা সংলগ্ন শম্ভু সীমান্তে কৃষকেরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করে। ছোড়া হয় পাথর। তাতে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের পাশাপাশি সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে। শুধু ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের দাবিই নয়, কৃষি ঋণ মকুব ছাড়াও একাধিক দাবি রয়েছে কৃষকদের। ইতিমধ্যেই সেসব সমাধানের জন্য আরও একবার কৃষকনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়েছে সরকারপক্ষ। কৃষক স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন কৃষকনেতা অর্জুন মুন্ডা। তবে আদৌ সেই পথে সমাধান মিলবে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়প্রকাশ করছেন অভিজ্ঞমহল। আর তরুণ কৃষকের মৃত্যু ঘিরে কার্যত কৃষকদের আন্দোলনে ঘি পড়েছে। ভোটের আগে এই বিক্ষোভ বিজেপির ঠিক কতটা দুশ্চিন্তার কারণ হয়, সেটাই ভাবাচ্ছে ওয়াকিবহাল মহলকে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।