নজরে ২৬: নন্দীগ্রামে বামেদের প্রার্থী হতে পারেন দীপ্সিতা ধর?
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বলেই দিচ্ছে, নন্দীগ্রাম হট সিট। এখানে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। সেখানে দীপ্সিতাকে এগিয়ে দিয়ে আদতে তাঁকে ফের হারের দিকে ঠেলে দেওয়া বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
প্রতীক উর রহমানের সিপিএম থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর্বে তাঁকে ঘিরেও গুঞ্জন উঠেছিল। অভিমানী প্রতীক উরের পথে কি দীপ্সিতা ধরও? পশ্চিমবঙ্গে দলের কোনো কাজে সেভাবে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যাচ্ছিল না তাঁকে। জল্পনা তৈরি হয় যে, রাজনীতি থেকে সরে আসবেন দীপ্সিতা। তাঁর তৃণমূলে যোগদানের বিষয়েও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক মহলে। অবশ্য সেসব সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিয়ে দীপ্সিতা জানান, তিনি কোথাও যাচ্ছেন না। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সেই দীপ্সিতা ধরকেই নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী করতে পারে বলে খবর।
পারিবারিক পরম্পরায় দীপ্সিতার বাম রাজনীতির প্রতি আকর্ষণ। ডোমজুরের তিনবারের বিধায়ক পদ্মা নিধি ধরের নাতনি তিনি। সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই থেকে তাঁর উত্থান। দক্ষিণ কলকাতার আশুতোষ কলেজে ভূগোলে স্নাতক করার সময় SFI-তে যোগ দেন এবং সংগঠনের কলেজ ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন। পরে কলকাতা জেলা কমিটির সদস্য হওয়া। ২০১৩ সালে স্নাতকোত্তরের জন্য জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর স্কুল অফ সোশ্যাল সায়েন্সের কাউন্সিলর হন, যা ২০১২ সালে JNUSU-এর বিপর্যয়ের পর SFI-এর প্রথম জয়। এরপর ২০১৫ সালে দিল্লি রাজ্য কমিটিতে এসএফআই-এর সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। এবং পরে স্টুডেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের সদস্য হন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জয়ের সম্ভাবনা আছে এমন আসনে প্রার্থী করার মাধ্যমে সিপিআইএম কি বুঝিয়ে দিতে চাইছে তৃণমূলের যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছে, বামেদেরও তৈরি হচ্ছে মীনাক্ষী!
জনসংখ্যা ভূগোলে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী দীপ্সিতার বক্তব্য শুনতে ভালোবাসেন বাম সমর্থকরা। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বাইরেও তাঁর জনসমর্থন রয়েছে। তাই সিপিএম-ও তাঁকে জায়গা দিয়েছিল অনেকটাই। তবে গত লোকসভা নির্বাচনে শ্রীরামপুর আসনে দীপ্সিতা হেরে যাওয়ার পর তাঁকে সেভাবে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি রাজনীতিতে। যে কারণেই তাঁর রাজনৈতিক অবসর নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়।
এমনকী সাম্প্রতিককালে সিপিএমের প্রাথমিক সদস্যদপদ পুনর্নবীকরণ না করানো নিয়ে দীপ্সিতার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে রাজনৈতিক মহলে। যদিও দীপ্সিতার দলীয় সদস্যপদ পশ্চিমবঙ্গে নয়, দিল্লিতে। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার দরুন সেখানেই তাঁর সদস্যপদ। নিয়ম মেনে তিনি সদস্যপদ নবীকরণও করে ফেলেছেন বলে খবর। প্রতীক উর অভিযোগ করেছেন, তাঁদের একপ্রকার সাইডলাইন করা হচ্ছিল। কেন সৃজনকে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে সংগঠনের কাজ দেওয়া হয়েছে? এ প্রশ্নও সদ্য দলত্যাগী সিপিএম যুবনেতা তোলেন। বিদ্রোহী প্রতীক উরের ক্ষোভের মুখে রাজনৈতিক মহলে নানান প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে সিপিএম-কেও। রাজনীতি সচেতন মানুষরা প্রশ্ন তুলছেন, প্রতীক উরের প্রশ্নগুলোও ভেবে দেখা প্রয়োজন। এই আবহেই কি মেপে পা ফেলতে চাইছে আলিমুদ্দিন! তরুণ তুর্কিদের সন্তুষ্ট রাখতেই কি তাঁদের নির্বাচনী লড়াইয়ে এগিয়ে দেওয়া?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রতীক উর রহমানের দলবদল রাজনীতি সচেতন তরুণ প্রজন্মকেও 'রাজনৈতিক ব্যবস্থা'র প্রতি অবিশ্বাসী করে তুলতে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করবে।
খবর, নন্দীগ্রামে সিপিএমের প্রার্থী হতে পারেন দীপ্সিতা ধর। যে কেন্দ্রে গত বিধানসভা নিবার্চনে বামেদের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। সিপিএমের ক্যাপ্টেনের প্রতিপক্ষ ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই নির্বাচন বিশেষ স্থান করে নিয়েছে, কারণ মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী বিরোধী দলের প্রার্থীর কাছে হেরে যান। শোচনীয় পরাজয় হয় মীনাক্ষীরও। মাত্র ২.৭৪% ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানাধিকার হন তিনি। সেই আসনেই এবার দীপ্সিতা ধর সিপিএমের প্রার্থী হতে পারেন বলে খবর।
নন্দীগ্রাম অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ আসন। শুভেন্দু অধিকারীর গড়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও টার্গেট করছেন এই কেন্দ্রটিকে। ডায়মন্ড হারবার মডেলে নন্দীগ্রামে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে ‘সেবাশ্রয়’ শুরু হয়েছে ২০২৬-এর জানুয়ারিতেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত নির্বাচনে এই আসনে তৎকালীন সদ্য তৃণমূলত্যাগী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করে ১,৯৫৬ ভোট কম পাওয়ার দরুন হেরে যান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট পেয়েছিলেন ১,০৮,৮০৮ (৪৭.৬৪%) এবং শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছিলেন ৪৮.৪৯ শতাংশ। তাই গত নির্বাচনে হাতছাড়া হওয়া এই বিধানসভা আসনটির দিকে এবার পাখির চোখ শাসকদলের। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বলেই দিচ্ছে, নন্দীগ্রাম হট সিট। এখানে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। সেখানে দীপ্সিতাকে এগিয়ে দিয়ে আদতে তাঁকে ফের হারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
অন্যদিকে গত লোকসভা নির্বাচনে যেখানে শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে দীপ্সিতা লড়লেন, উত্তরপাড়া বিধানসভা আসনে ভালো ভোট পেয়েছিলেন। সেই কেন্দ্রে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে প্রার্থী করা হবে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এখানেই উঠছে প্রশ্ন, কেন ঘরের মেয়ে দীপ্সিতাকেএ এই আসনে প্রার্থী করা যায় না? জয়ের সম্ভাবনা আছে এমন আসনে মীনাক্ষীকে কেন এগিয়ে দেওয়া হচ্ছে? যেনতেন প্রকারে মীনাক্ষীকে জেতানোটাই কি সিপিএমের কাছে বড় লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে? অন্যদিকে এই ঘটনার অভিঘাতে দীপ্সিতাও যাতে মনঃক্ষুণ্ন না হন, তার জন্যই কি তাঁকেও হেভিওয়েট আসনে প্রার্থী করার ভাবনা?






