ভারতে আসছে পাবলো এস্কোবারের ৬০টি 'কোকেন হিপো', কেন এমন অদ্ভুত নাম জলহস্তীর?

Cocaine Hippo coming India : আগেও এরকম হয়েছে, এবার এত হইচই কেন? কারণ, এই জলহস্তীগুলি সাধারণ নয়, এরা রীতিমতো সেলেব্রিটি!

inscript
২ মিনিট
ভারতে আসছে পাবলো এস্কোবারের ৬০টি 'কোকেন হিপো', কেন এমন অদ্ভুত নাম জলহস্তীর?

কলম্বিয়ার নদীতে, জলাশয়ে ঘুরে বেড়ায় বিশালাকার জলহস্তীর দল। এক দু’টো নয়, সংখ্যায় অনেকগুলি! আর তাদের নিয়েই মহা বিপদে পড়েছে সেখানকার প্রশাসন। এতগুলো বিশাল, দানবের মতো জলহস্তীকে নিয়ে ঠিক কী করা হবে? ঠিক হল, বিভিন্ন দেশে এই প্রাণীগুলিকে পাঠানো হবে। সেই তালিকায় চলে এল ভারতও। সামান্য জলহস্তীকে এক দেশ থেকে আরেক দেশে পাঠানো হবে, এটা তো সাধারণ একটি ব্যাপার। এর আগেও কতবার এরকম হয়েছে! তবে এবার এত হইচই কেন? কারণ, এই জলহস্তীগুলি সাধারণ নয়, এরা সেলেব্রিটি! গোটা পৃথিবী এদের চেনে ‘কোকেন হিপো’ (Cocaine Hippo) নামে। আর এদের মালিক? কুখ্যাত মাফিয়া কিংপিন পাবলো এস্কোবার (Pablo Escobar)।

কেবল কলম্বিয়ায় নয়, গোটা পৃথিবীতে পাবলো এস্কোবার ত্রাসের নাম, একটা জলজ্যান্ত চরিত্র। ১৯৯৩ সালে পুলিশের এনকাউন্টারে তিনি মারা যান। কিন্তু ততদিনে গোটা পৃথিবীর মানুষ তাঁকে চিনে গিয়েছে। কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক ছিলেন পাবলো। খুন, মাফিয়ারাজ তো ছিলই, সেইসঙ্গে ছিল ড্রাগের ব্যবসা। সেটাই ছিল মূল ‘ধান্দা’। একটা সময় এমন হয় যে, কোকেন আর পাবলো এস্কোবারের নাম সমার্থক হয়ে যায়। অবশ্য কলম্বিয়ার সাধারণ, খেতে না পাওয়া মানুষের কাছে তিনি ছিলেন ‘রবিনহুড’। ড্রাগের ব্যবসা, মাফিয়ারাজ করে যা টাকা উপার্জন হতো, অনেকটাই নিজের দেশের গরিব মানুষগুলোর কাছে বিলিয়ে দিতেন পাবলো।

কলম্বিয়ায় তাঁরই ঝাঁ চকচকে, বিলাসবহুল এস্টেট হাসিয়েন্দা নাপলস (Hacienda Napoles) ছিল দেখার মতো একটা জায়গা। সেখানেই পাবলো তৈরি করেছিলেন নিজস্ব চিড়িয়াখানা। ১৯৭০-র দশকের শেষের দিক। সুদূর আফ্রিকা থেকে চোরাপথে চারটি বিশাল জলহস্তীকে নিজের এস্টেটে নিয়ে আসলেন পাবলো। সেখান থেকেই শুরু হয় এই জলহস্তীদের যাত্রা। চার থেকে সংখ্যাটি আস্তে আস্তে বেড়েছে। তবে ১৯৯৩ সালে পাবলো এস্কোবারের নিহত হওয়ার পর এই প্রাণীগুলিকে দেখার কেউ ছিল না। কোকেন, ড্রাগ মাফিয়া পাবলোর পোষা জলহস্তী হওয়ার জন্যই এগুলোর নাম হয়ে যায় ‘কোকেন হিপো’। আজও গোটা পৃথিবী এই নামেই একে চেনে।

🇨🇴🦛 The fate of Pablo Escobar's cocaine hippos hangs in the balance as Colombia officially label the 1.8 ton herbivores an invasive species

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কলম্বিয়ার কোকেন-হিপো! কেন উদ্বাস্তু জলহস্তীরা?

এই মুহূর্তে কলোম্বিয়ার ম্যাগডালেনা নদীতে বেড়েই চলেছে জলহস্তীর সংখ্যা। ২০২১ সালে বায়োলজিক্যাল কনজার্ভেশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কলম্বিয়ার এই জলহস্তীগুলিকে মেরে ফেলা দরকার।

— AFP News Agency (@AFP)

অবশ্য এখনও পাবলোর সেই এস্টেট আর এই জলহস্তীগুলিকে দেখতে ভিড় করেন মানুষেরা। কিন্তু অন্তত তিন টন ওজনের এই বিশাল জলহস্তীগুলোকে নিয়েই বিপদে পড়েছে কলম্বিয়া সরকার। বংশবৃদ্ধি হওয়ার জন্য অনেকগুলি জলহস্তী এস্টেট পেরিয়ে আশেপাশের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। স্রেফ অ্যান্টিকুইয়া প্রদেশে এদের সংখ্যা ১৩০ ছাড়িয়েছে। এখনই না রোখা গেলে এদের সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে। পরিবেশবিদদের বক্তব্য, বাইরে চলে আসার ফলে কলম্বিয়ার ওই অঞ্চলের স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র বিগড়ে যাচ্ছে। নদী দূষিত হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি অন্যান্য প্রাণী, এমনকী মানুষকেও মাঝে মাঝে আক্রমণ করছে জলহস্তীগুলি।

তাই বিভিন্ন দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কলম্বিয়া প্রশাসনের তরফ থেকে। আপাতত ঠিক হয়েছে, ভারত আর মেক্সিকোয় মোট ৭০টি জলহস্তী পাঠানো হবে। গুজরাতের গ্রিনস জুওলজিকাল রেসকিউ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন কিংডমে ৬০টি জলহস্তী রাখা হবে। আগামী এক বছরের মধ্যেই এই কাজ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।