ভারতে আসছে পাবলো এস্কোবারের ৬০টি 'কোকেন হিপো', কেন এমন অদ্ভুত নাম জলহস্তীর?
Cocaine Hippo coming India : আগেও এরকম হয়েছে, এবার এত হইচই কেন? কারণ, এই জলহস্তীগুলি সাধারণ নয়, এরা রীতিমতো সেলেব্রিটি!

কলম্বিয়ার নদীতে, জলাশয়ে ঘুরে বেড়ায় বিশালাকার জলহস্তীর দল। এক দু’টো নয়, সংখ্যায় অনেকগুলি! আর তাদের নিয়েই মহা বিপদে পড়েছে সেখানকার প্রশাসন। এতগুলো বিশাল, দানবের মতো জলহস্তীকে নিয়ে ঠিক কী করা হবে? ঠিক হল, বিভিন্ন দেশে এই প্রাণীগুলিকে পাঠানো হবে। সেই তালিকায় চলে এল ভারতও। সামান্য জলহস্তীকে এক দেশ থেকে আরেক দেশে পাঠানো হবে, এটা তো সাধারণ একটি ব্যাপার। এর আগেও কতবার এরকম হয়েছে! তবে এবার এত হইচই কেন? কারণ, এই জলহস্তীগুলি সাধারণ নয়, এরা সেলেব্রিটি! গোটা পৃথিবী এদের চেনে ‘কোকেন হিপো’ (Cocaine Hippo) নামে। আর এদের মালিক? কুখ্যাত মাফিয়া কিংপিন পাবলো এস্কোবার (Pablo Escobar)।
কেবল কলম্বিয়ায় নয়, গোটা পৃথিবীতে পাবলো এস্কোবার ত্রাসের নাম, একটা জলজ্যান্ত চরিত্র। ১৯৯৩ সালে পুলিশের এনকাউন্টারে তিনি মারা যান। কিন্তু ততদিনে গোটা পৃথিবীর মানুষ তাঁকে চিনে গিয়েছে। কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক ছিলেন পাবলো। খুন, মাফিয়ারাজ তো ছিলই, সেইসঙ্গে ছিল ড্রাগের ব্যবসা। সেটাই ছিল মূল ‘ধান্দা’। একটা সময় এমন হয় যে, কোকেন আর পাবলো এস্কোবারের নাম সমার্থক হয়ে যায়। অবশ্য কলম্বিয়ার সাধারণ, খেতে না পাওয়া মানুষের কাছে তিনি ছিলেন ‘রবিনহুড’। ড্রাগের ব্যবসা, মাফিয়ারাজ করে যা টাকা উপার্জন হতো, অনেকটাই নিজের দেশের গরিব মানুষগুলোর কাছে বিলিয়ে দিতেন পাবলো।
কলম্বিয়ায় তাঁরই ঝাঁ চকচকে, বিলাসবহুল এস্টেট হাসিয়েন্দা নাপলস (Hacienda Napoles) ছিল দেখার মতো একটা জায়গা। সেখানেই পাবলো তৈরি করেছিলেন নিজস্ব চিড়িয়াখানা। ১৯৭০-র দশকের শেষের দিক। সুদূর আফ্রিকা থেকে চোরাপথে চারটি বিশাল জলহস্তীকে নিজের এস্টেটে নিয়ে আসলেন পাবলো। সেখান থেকেই শুরু হয় এই জলহস্তীদের যাত্রা। চার থেকে সংখ্যাটি আস্তে আস্তে বেড়েছে। তবে ১৯৯৩ সালে পাবলো এস্কোবারের নিহত হওয়ার পর এই প্রাণীগুলিকে দেখার কেউ ছিল না। কোকেন, ড্রাগ মাফিয়া পাবলোর পোষা জলহস্তী হওয়ার জন্যই এগুলোর নাম হয়ে যায় ‘কোকেন হিপো’। আজও গোটা পৃথিবী এই নামেই একে চেনে।
🇨🇴🦛 The fate of Pablo Escobar's cocaine hippos hangs in the balance as Colombia officially label the 1.8 ton herbivores an invasive species
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এই মুহূর্তে কলোম্বিয়ার ম্যাগডালেনা নদীতে বেড়েই চলেছে জলহস্তীর সংখ্যা। ২০২১ সালে বায়োলজিক্যাল কনজার্ভেশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কলম্বিয়ার এই জলহস্তীগুলিকে মেরে ফেলা দরকার।
— AFP News Agency (@AFP)
অবশ্য এখনও পাবলোর সেই এস্টেট আর এই জলহস্তীগুলিকে দেখতে ভিড় করেন মানুষেরা। কিন্তু অন্তত তিন টন ওজনের এই বিশাল জলহস্তীগুলোকে নিয়েই বিপদে পড়েছে কলম্বিয়া সরকার। বংশবৃদ্ধি হওয়ার জন্য অনেকগুলি জলহস্তী এস্টেট পেরিয়ে আশেপাশের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। স্রেফ অ্যান্টিকুইয়া প্রদেশে এদের সংখ্যা ১৩০ ছাড়িয়েছে। এখনই না রোখা গেলে এদের সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে। পরিবেশবিদদের বক্তব্য, বাইরে চলে আসার ফলে কলম্বিয়ার ওই অঞ্চলের স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র বিগড়ে যাচ্ছে। নদী দূষিত হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি অন্যান্য প্রাণী, এমনকী মানুষকেও মাঝে মাঝে আক্রমণ করছে জলহস্তীগুলি।
তাই বিভিন্ন দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কলম্বিয়া প্রশাসনের তরফ থেকে। আপাতত ঠিক হয়েছে, ভারত আর মেক্সিকোয় মোট ৭০টি জলহস্তী পাঠানো হবে। গুজরাতের গ্রিনস জুওলজিকাল রেসকিউ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন কিংডমে ৬০টি জলহস্তী রাখা হবে। আগামী এক বছরের মধ্যেই এই কাজ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।















