এবার পুজোয় মোট ছুটি দশ দিন! যেতে পারেন এই দশ সম্পূর্ণ অচেনা জায়গায়
আপনার জন্য রইল বাংলায় আশেপাশেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দশটি অফবিট হলিডে ডেস্টিনেশনের ঠিকানা।

পুজোর আর বাকি মাত্র একমাস। আস্তে আস্তে কিছুটা কেটেছে অতিমারীর কালো মেঘ। তাই এইবারের পুজোর ছবি খুব স্বাভাবিকভাবেই সম্পূর্ণ আলাদা হতে চলেছে। বাঙালির প্রাণের পুজোকে ইউনেসকো ‘হেরিটেজ’ তকমায় ভূষিত করায়, পুজোর চারটে দিন যে রাস্তায় পা রাখতেও রীতিমতো হিমশিম খেতে হবে, তা বোধহয় আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যদিকে এবার পুজো উপলক্ষে রাজ্য সরকার প্রায় দশদিনের ছুটির নোটিশ জারি করেছে। সারা বছর শহরের ধুলোমাখা কোলাহল থেকে পুজোর ক'টা দিন একটু শান্তিতে কাটানোর উপায় অনেকে ইতিমধ্যেই হয়তো খুঁজে ফেলেছেন; আর এখনও যদি তার হদিশ না মিলে থাকে, তবে আপনার জন্য রইল বাংলায় আশেপাশেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দশটি অফবিট হলিডে ডেস্টিনেশনের ঠিকানা।
জি প্লট, গোবর্ধনপুর সি বিচ
বকখালি আর মৌসুনি গিয়ে গিয়ে যারা ক্লান্ত কিংবা যারা একেবারেই দক্ষিণের বাসিন্দা, তাদের জন্য রইল এই সি বিচের ঠিকানাটি। বকখালির মতোই স্বল্প খরচে আবার মৌসুনির মতো টেন্টে দু'টি দিন কাটাতে চাইলে একবার ঘুরে আসতেই পারেন এই জায়গাটি থেকে। পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের শেষ সমুদ্রসৈকত এই গোবর্ধনপুর সি বিচ। এখানে আপনি সি বিচ থেকে মাত্র পাঁচ মিনিট হাঁটা পথেই পেয়ে যাবেন ব্যাকপ্যাকারস টেন্ট, মাথাপিছু ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার বিনিময়ে তিনবেলার খাবার-সহ পেয়ে যাবেন সন্ধেবেলার স্ন্যাক্সও। যারা দিঘা, মন্দারমণি কিংবা তাজপুরকে পাশ কাটিয়ে একটু নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চাইছেন এইবারের পুজোয়, তাদের জন্য বাংলার একেবারে দক্ষিণের এই সমুদ্রসৈকত হয়ে উঠতে পারে আদর্শ হলি’ডে ডেস্টিনেশন।

গোবর্ধনপুর সি বিচ
ফিকেলে গাঁও
নিরিবিলিতে সময় কাটানোর প্রসঙ্গ আসলেই সবার প্রথমে মনে পড়ে উত্তরবঙ্গের কথা। তাই তো শীত-বর্ষা-গ্রীষ্ম- সব ঋতুতেই ভ্রমণপিপাসু মধ্যবিত্ত বাঙালি তাদের প্রিয় এই পাহাড়ে ভিড় জমায়। বর্তমানে উত্তরবঙ্গে খুব কমই এমন জায়গা রয়েছে, যা সম্বন্ধে মানুষ জানে না। তবে ইচ্ছেগাঁও থেকে খানিকটা নীচে অবস্থিত ফিকেলে গাঁও, বলতে গেলে খানিকটা হলেও নতুন জায়গা। কালিম্পং থেকে মাত্র ৩০ মিনিট দূরে অবস্থিত এই স্থানে থাকার জন্য রয়েছে আপাতত একটি কি দু’টি হোম’স্টে। ৬০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত ফিকেলে গাঁও-তে একদিন থাকতে গেলে আপনার মাথাপিছু খরচ হবে মাত্র ১২০০ টাকা। সকালের জলখাবার থেকে শুরু করে সন্ধের চা-পকোড়া যোগে রাত্রের ডিনার সবকিছুই পেয়ে যাবেন এই টাকাতেই। তবে থাকার জায়গা কম হওয়ায়, পুজোর বেশ খানিকটা সময় আগে থেকেই হোম স্টে-গুলিতে ঘর বুক করে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
রঙ্গ
ডুয়ার্সের একটি ছোট্ট গ্রামের নাম রঙ্গ। নিউ মাল জংশন থেকে ৪০ কিমি দূরে অবস্থিত এই গ্রাম একেবারেই সদ্যনির্মিত একটি পর্যটনকেন্দ্র। রঙ্গ আবার সিঙ্কোনা গাছ চাষের জন্যও বিখ্যাত। রঙ্গোতে থাকার আদর্শ জায়গা হলো, রঙ্গো রিভারসাইড হোম স্টে। খরস্রোতা নদীর একেবারেই পাশে ২০২১ সালে এই হোম স্টেটি তৈরি করা হয়। তিন বেলার খাবার এবং স্ন্যাক্স দিয়ে মাথাপিছু খরচ পরবে ১৩০০ টাকা।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পুজোয় বেড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যদি তীর্থভ্রমণে যেতে চান, তাহলে কোথায় যাবেন?
রঙ্গ গ্রাম, ডুয়ার্স
পারেন বা প্যারেন
আপনারা যারা পাহাড়ের সঙ্গে সঙ্গেই আবার জঙ্গলের স্বাদ আস্বাদনে ইচ্ছুক, তাদের জন্য রইল প্যারেন-এর ঠিকানা। শিলিগুড়ি থেকে ১১২ কিমি দূরে, ভুটান সীমান্তের কাছে, ডুয়ার্সের একটি নিরিবিলি গ্রামের নাম পারেন বা প্যারেন। ডুয়ার্সের পশ্চিম অংশে ইন্দো-ভুটান সীমান্তের একদম কাছেই অবস্থিত এই গ্রামটি। খরস্রোতা নদী এবং উঁচু-নিচু পাহাড় ছাড়াও এখানে দেখা মিলবে পর্ণমোচী রেন ফরেস্টের। আলপাইন গাছের ঘন জঙ্গলে ঘেরা পার্বত্য দুর্গম রাস্তা দিয়ে আপনি চাইলে ট্রেকিং-এর অভিজ্ঞতাও সঞ্চয় করতে পারবেন। বর্ষার শেষে পুজোর সময় প্যারেন, ট্রেকিং-এর জন্য একটি আদর্শ জায়গা। প্যারেন তুলনামূলক নতুন পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার কারণে এখানে থাকার জায়গা বলতে রয়েছে পরিপাটি করে সাজানো-গোছানো পশ্চিমবঙ্গ বন বিভাগের নেচার রিসর্ট। ঘরপিছু এই রিসর্টের ভাড়া পড়বে প্রায় ২০০০ থেকে ২৫০০ মতো।
চেমটাবুরু
ঘুরতে যাওয়ার কথা যখন হচ্ছেই, তখন পশ্চিমবঙ্গের একেবারে পশ্চিমে অবস্থিত উঁচুনিচু মালভূমিবেষ্টিত লালমাটির দেশ, পুরুলিয়ার কথা না বললেই নয়। এই পুরুলিয়া জেলায় অবস্থিত পাহাড়গুলির মধ্যে সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম হলো চেমটাবুরু, ট্রেকিং-এর জন্য এই জায়গা হতে পারে আপনার আদর্শ গন্তব্য। ভাগ্য ভালো থাকলে এই ট্রেকিং-এর পথেই আপনার সঙ্গে দেখা মিলতে পারে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর। পুরুলিয়ার জজহাতু অঞ্চলে অবস্থিত এই চেমটাবুরু আরোহণের ইচ্ছা থাকলে আপনি থাকতে পারেন এখানকার বনপাহাড়ি ইকো স্টে-তে। তিনবেলার থাকা-খাওয়া মিলিয়ে আপনার খরচ পড়বে মাথা পিছু মাত্র ১২০০ টাকা।
লুংচু
লাভা থেকে প্রায় ১৮ কিমি দূরত্বে অবস্থিত সবুজ-নীলচে পাহাড় এবং ছেঁড়া তুলোর মতো সাদা মেঘে আবৃত এক নির্জন স্থানের নাম লুংচু। ন্যাওড়াভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে লুংচুতে, এই রাস্তাটির অবস্থা বিশেষ ভালো নয়। তবে একবার গন্তব্যে পৌঁছনোর পরে নিশ্চিত আপনার রাস্তার সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই। পাহাড়ের কোলে অবস্থিত লুংচু-তে থাকার জন্য রয়েছে অত্যন্ত পরিপাটি করে সাজানো একটি নেচার স্টে। এই হোম স্টে-তে চারজনের ঘরভাড়া বাবদ খরচ পরবে ২২০০ টাকা মতো। খাবারের জন্য লাগবে আলাদা খরচ।
পাবং
নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ৭৪ কিমি দূরে কালিম্পং-এ অবস্থিত পাবং একটি ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম। দূরে অবস্থিত বরফে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা কিম্বা পাহাড়ের ধাপে ধাপে ছড়িয়ে থাকা ঘন সবুজ চা বাগান অথবা নানা রঙের ফুলের বাগান– সব মিলিয়ে পাবং প্রকৃতিপ্রেমী।মানুষদের জন্য একটি মনোরম জায়গা। এছাড়াও আপনার যদি রং-বেরঙের পাখি দেখার শখ থাকে, তবে পাবং আপনার পছন্দের জায়গা হয়ে উঠতে পারে। পারং-এ থাকতে গেলে আপনার খরচ লাগতে পারে মাথাপিছু ১৩০০ টাকা মতো।
বাগদা সি বিচ
পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্য উড়িষ্যায় অবস্থিত বাগদা সি বিচ এখনও পর্যন্ত একটি ভার্জিন সি বিচ হিসেবে পরিচিত। নিরিবিলি এই সমুদ্রসৈকতে থাকার জায়গা বলতে এখানে রয়েছে বিচ থেকে কয়েক পা দূরত্বে হাতে গোনা কয়েকটি ক্যাম্প। তিনবেলার খাওয়া এবং সন্ধের স্ন্যাক্স মিলিয়ে আপনার মাথা পিছু খরচ পরতে পারে ১৩০০-১৫০০ টাকার মধ্যে।

বাগদা সি বিচ
বেলতার
কার্শিয়াং শহর থেকে মাত্র ১২ কিমি দূরে অবস্থিত বেলতার হলো একটি পার্বত্য উপত্যকা অঞ্চল। চারিদিকে উঁচু চা গাছে ঢাকা পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত বেলতার উল্লেখযোগ্য এবং জনপ্রিয় তার এক অপরূপ সুন্দর রিসর্টের জন্য। এছাড়াও বেলতারের আশপাশে প্রায় সমগ্র এলাকাজুড়েই রয়েছে চা বাগান এবং অসংখ্য চায়ের কারখানা। রিসর্টটির মূল আকর্ষণ হলো, পাহড়ের কোলে একটি বিরাট আকারের সুইমিং পুল। তবে অন্যান্য সমস্ত রিসর্টের থেকে খরচ এখানে অনেকটাই বেশি। একদিনের ভাড়া এখানে প্রায় ৩০০০ টাকা মতো।
Alstroemeria Farmhouse
নবদম্পতিরা, যাঁরা বিয়ের পর এই প্রথম দুর্গাপুজো একসঙ্গে কাটাবেন, তাদের জন্য রইল এই ফার্ম হাউজের ঠিকানাখানি। দার্জিলিং-সিঙ্গামারি বাসস্ট্যান্ড থেকে ৬ কিমি দূরে অবস্থিত এই বাঁশনির্মিত ফার্মহাউজটি একটি আদর্শ হানিমুন স্পট। দার্জিলিং থেকে মাত্র কয়েক কিমি দূরে অবস্থিত হলেও জনমানবের কোলাহল এখানে একেবারে নেই বললেই চলে। এখান থেকে বাজার যেতে গেলেও আপনাকে বেশ খানিকটা পথ পা’য়ে হেঁটে যেতে হবে। দু'জনের জন্য থাকা-খাওয়া মিলিয়ে এই ফার্ম হাউজে এক রাত্রে ভাড়া লাগবে ২৫০০ টাকা।
কোভিড অতিমারী কাটিয়ে আবার ব্যবসায় জোয়ার আনার উদ্দেশ্যে পুজোর সময় রিসর্ট কিংবা হোম স্টে-গুলি নিজেদের ভাড়া কিছুটা হলেও বাড়াতে পারে। এইবারের পুজোতে আপনার গন্তব্য যদি হয় উত্তরবঙ্গ, তবে কিন্তু আর দেরি না করে অতি সত্বর টিকিট কেটে ফেলতে হবে, নাহলে অন্তত এইবছর পুজোর সময় ট্রেনের টিকিট পাওয়া সম্ভব হবে না।
















