ভিভিপ্যাট মামলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে কমিশন! কী জবাব দিলেন নির্বাচনী আধিকারিক?

EVM-VVPAT case: সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়দানের কথা ছিল বুধবার। তার আগে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার বেঞ্চ বেশ কয়েকটি প্রশ্ন রাখল ইলেকশন কমিশনের সামনে।

Sohini Das
৪ মিনিট
ভিভিপ্যাট মামলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে কমিশন! কী জবাব দিলেন নির্বাচনী আধিকারিক?

দেশ জুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে লোকসভা ভোট। দীর্ঘদিন ধরেই এ দেশের ভোটে ইভিএম মেশিন কারচুপির অভিযোগ জানিয়ে আসছে বিরোধী দলগুলি। সেই নিয়ে মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। ইভিএমের সঙ্গে সমস্ত ভিভিপ্যাট স্লিপ মিলিয়ে দেখার দাবি জানিয়ে আবেদন জানানো হয়েছিল। আর সেই মামলাই উঠেছিল সুপ্রিম কোর্টে। বিরোধীদের দাবি ছিল, ভোটপ্রক্রিয়া স্পষ্ট ও স্বচ্ছ করার জন্যই ওই প্রক্রিয়া চালু করা প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের পাল্টা দাবি ছিল, এমন প্রক্রিয়া চালু হলে ফের ব্যালট বক্সের জমানায় ফেরত যেতে হবে। বুধবার সেই মামলা নিয়ে রায় দিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে একগুচ্ছ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

বিরোধীদের এই দাবি অবশ্য আজকের নয়। ২০১৯ ভোটের পরেই এই সংক্রান্ত দুটি মামলা দায়ের হয়েছিল শীর্ষ আদালতে। আইনজীবী অরুণ কুমার আগরওয়াল এই সংক্রান্ত একটি মামলা করেন। অন্য মামলাটি করেছিস অ্যাসোসিয়েশন অব ডেমোক্রেটিক রিফর্মস বা এডিআর। আইনজীবী অরুণ কুমারের আবেদনের সঙ্গে ট্যাগ করা হয় এডিআর-এর করা মামলাটিও। সেই আবেদনে দাবি করা হয়েছিল, সমস্ত ইভিএম ভোটের সঙ্গে যেন ভিভিপ্যাট স্লিপ মিলিয়ে দেখা হয়। একই সঙ্গে ভোটাররা যাতে নিজেরাই ওই স্লিপ একটি ব্যালট বক্সে ফেলতে পারেন। সেই আবেদনও জানানো হয়েছিল।

সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়দানের কথা ছিল বুধবার। তার আগে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার বেঞ্চ বেশ কয়েকটি প্রশ্ন রাখল ইলেকশন কমিশনের সামনে। এদিন সকালেই কমিশনের এক পদস্থ কর্তাকে আদালতে তলব করে বিচারপতিদের বেঞ্চ। তাকে শীর্ষ আদালত জানায়, এই সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি উত্তর আদালতের প্রয়োজন। কী সেই প্রশ্ন?

প্রথম প্রশ্ন: সব ভিভিপ্যাটেই কি মাইক্রো কন্ট্রোলার ইনস্টল করা আছে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট মেলালেই ভোটারদের ভোট সঠিক জায়গায় যাবে?

VVPAT Slip Counting: সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, প্রতি বিধানসভা পিছু দুটো করে ভিভিপ্যাট গোনা হবে ২০১৯ সালে। দুটো করে মেশিন গুনলেই ইভিএম নিয়ে মানুষের বিশ্বাস ফিরবে?

দ্বিতীয় প্রশ্ন: এই মাইক্রো কন্ট্রোলারকে কি এক বারই প্রোগ্রাম করা যায়?

তৃতীয় প্রশ্ন: নির্বাচন কমিশনের কাছে কতগুলো সিম্বল লোডিং ইউনিট রয়েছে?

চতুর্থ প্রশ্ন: নির্বাচনী হলফনামা জমা দেওয়ার সময় এক মাস অর্থাৎ তিরিশ দিন। আর সমস্ত রেকর্ড ৪৫ পর্যন্ত মজুত করা থাকে। এই ভ্রম সংশোধন করা প্রয়োজন বলেই জানায় আদালত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গুনতে হবে সমস্ত ভিভিপ্যাট স্লিপ, কেন ভোটের আগেই এমন দাবি বিরোধীদের?

Lok Sabha Election 2024: আবেদনকারী অরুণ কুমার আগরওয়াল তাঁর আবেদনে জানিয়েছেন, সরকার ৫ কোটি টাকা খরচ করে প্রায় ২৪ লক্ষ ভিভিপ্যাট কিনেছে। আর সেখানে মাত্র ২০ হাজারের মতো ভিভিপ্যাট স্লিপ যাচাই হয় ভোটগণনার সময়ে।

ব্যালট বক্সের জমানা গিয়েছে। তার জায়গা নিয়ে ইলেকট্রনিক্স ভোটিং মেশিন বা ইভিএম। এই ইভিএমের একটি যন্ত্রে ভোটদান করার পর দ্বিতীয় যন্ত্র অর্থাৎ ভিভিপ্যাটে দেখিয়ে দেওয়া হয়, ভোটারের ভোটটি ঠিকঠাক জায়গায় জমা পড়ল কিনা। সেই কাগজটি কিন্তু ভোটগণনার কাজে তেমন ভাবে কাজে লাগে না। শুধু শুধু একটি পাত্রে জমা হয়। আইনজীবী অরুণ কুমার আগরওয়াল সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা আবেদনে জানিয়েছে, সরকার ৫ কোটি টাকা খরচ করে ৪৪ লক্ষ ভিভিপ্যাট মেশিন কিনেছে। অথচ তার মধ্য়ে মাত্র ২০ হাজারের আশপাশের ভিভিপ্যাট স্লিপ যাচাই করা হয় ভোটগণনার সময়ে। সেই নিয়ম পাল্টে একশো শতাংশ ভিভিপ্যাট স্লিপ যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছিল বিরোধীরা।

প্রতিবছর ভোট যেতে না যেতেই ইভিএম কারচুপির অভিযোগ জমা হতে থাকে। যে-ই হারেন, তারা ইভিএমের গন্ডোগোলকে দোষেন। সংখ্যায় বহু সময় রকমফের হতে থাকে ইভিএম ও ভিভিপ্যাটের নম্বর না মেলার জন্য। সেই পরিস্থিতিটাকেই বদলাতে চেয়েছেন আইনজীবী অরুণ কুমার ও এডিআর।

ইভিএমে ভোট দেওয়ার পর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ওই ভিভিপ্যাট মেশিন থেকে একটি কাগজ বেরিয়ে আসে, যেখানে ভোটদাতার মনোনীত প্রার্থীর নাম ও তার দলের প্রতীক। সেই কাগজ এদ্দিন জমা হত একটি পাত্রে। সেই মামলাতেই এবার নির্বাচন কমিশনের কাছে একগুচ্ছ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে আদালত। সেই প্রশ্নের উত্তর পেলে তবেই রায়দান সম্ভব বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে বিচারপতিদের ডিভিশনাল বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে যে নির্বাচন নিয়ন্ত্রণের অধিকার বা ক্ষমতা তাদের নেই। তবে নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিঘানিক কর্তৃপক্ষের কাজকর্ম পর্যবেক্ষণ করার অধিকার তাদের রয়েছে।

গত ১৬ এপ্রিল এই ইভিএম সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ইভিএমগত সমস্যার জন্য দুষেছিলেন সাধারণ মানুষকে। বলেছিলেন, মানুষের হস্তক্ষেপ না হলে ইভিএমের ফলাফল সঠিক আসবে। তবে বুধবার বিষয়টি নিয়ে আরও গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করল শীর্ষ আদালত। এতদিন নিয়ম ছিল প্রতিটি বিধানসভায় মোট দুশোটি ভিভিপ্যাট মেশিনের থেকে মাত্র পাঁচটির স্লিপ পরীক্ষা করা হত। সেই সংখ্যা একশো শতাংশ করতে কোথায় সমস্যা, কোথায়ই বা সুবিধা- খতিয়ে দেখছে আদালত।

নির্বাচনী আধিকারিক ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বেশ কিছু উত্তর দিয়েছেন। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ইভিএম ও ভিভিপ্যাট ভোটগ্রহণের পরে ৪৫ দিন পর্যন্ত কেন তার তথ্য সংগ্রহ করে, তা নিয়ে সদুত্তর দিয়েছে কমিশন। আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কোনও নির্বাচনী পিটিশন রয়েছে কিনা তা দেখার জন্য বিভিন্ন হাইকোর্টে চিঠি দেন। যদি তা নমা হয়, তবে সেই রেকর্ড স্টোরেজ থেকে বের করে নেওয়া হয়। নির্বাচনী আধিকারিক এ-ও জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের আগে ভিভিপ্যাট ও ইভিএম আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হয়। এবং ভোটগ্রহণের পর সেটিকে একটি ইউনিট হিসেবে ধরা হয়। যা সিলগালা করা হয় ভোটের আগে। এবং ভোটের পর সবকটি মেশিনকে সিল করে নির্বাচনী আধিকারিকদের দিয়ে সই করে তবে তোলা হয়। নির্বাচনী আধিকারিক এ-ও জানান, ইভিএমের স্টোরজ ফ্ল্যাশ মেমরি। যা ১০২৪টি প্রতীক জমিয়ে রাখতে পারে। ইভিএম আলাদা করে কোনও প্রতীক বা দলের নাম চিনতে পারে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচনী আধিকারিক। ইভিএমের প্রোগ্রামিং করে দেয় প্রস্তুতকারক সংস্থাই। তবে কোন দল কত নম্বর বাটন পেতে চলেছে ভোটযন্ত্রে, তা হয়তো কখনও জানতে পারেন না ভোটযন্ত্র নির্মাতা। ফলে দুর্নীতির সুযোগ কম বলেই মনে করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার এই রায়দান মুলতুবি রেখেছে শীর্ষ আদালত। ভোটের আগেই কি ইভিএম-ভিভিপ্যাটকে জড়িয়ে এই বিতর্কের শেষ হবে, না সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পাল্টে যাবে ভোটবাক্সের সমীকরণ, সেটাই দেখার এখন।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।