প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু গ্রেফতার! যে বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে স্তম্ভিত দেশ

Chandrababu Naidu arrested: এফআইআরে ২৫ জনের নাম আছে অভিযুক্ত হিসাবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এফআইআরে চন্দ্রবাবু নাইডুর নাম অভিযুক্ত হিসেবে ছিলই না।

inscript
৩ মিনিট
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু গ্রেফতার! যে বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে স্তম্ভিত দেশ

২৫০ কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ! দক্ষতা উন্নয়ন কেলেঙ্কারির মামলায় দুর্নীতির অভিযোগে অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) প্রধান এন চন্দ্রবাবু নাইডুকে গ্রেফতার করল সিআইডি। চন্দ্রবাবু নাইডু দলের গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজ্য সফর করছিলেন। ভোর তিনটে নাগাদ, নাইডু তখন বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অন্ধ্রপ্রদেশের নান্দিয়ালা শহরের একটি জনসমাবেশে ভাষণ দেওয়ার পরে তাঁর ভ্যানিটি ভ্যানে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। শনিবার ভোরবেলা ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ধারা ৫০ (১) (২) এর অধীনে চন্দ্রবাবু নাইডুর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এই ২৫০ কোটির কেলেঙ্কারিতে যুক্ত প্রথম নামটিই চন্দ্রবাবুর।

গ্রেফতারির পরে যদিও চন্দ্রবাবু নাইডু বলছেন, তিনি কোনও ভুল করেননি। জনগণ এবং কর্মীদের কাছে অনুরোধ করেছেন, তাঁকে ভুল না বোঝার। তাঁর দোষ না থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তারা এসে কোনও প্রমাণ না দেখিয়েই নাকি তাঁকে গ্রেফতার করে নেয়। চন্দ্রবাবুর দাবি, কী কারণে তাঁকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, জানতে চান তিনি, প্রমাণও দাবি করেন। কিন্তু সিআইডি যে এফআইআরটি দেখায় তাতে তাঁর কোনও ভূমিকাই উল্লিখিত নেই। চন্দ্রবাবু নাইডুকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নান্দিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। যেতে চাননি তিনি। ফলে একটি ক্যাম্পেই তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়।

উল্লেখ্য, এই কেলেঙ্কারির মামলায় প্রথম এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল ২০২১ সালে। ওই এফআইআরে ২৫ জনের নাম আছে অভিযুক্ত হিসাবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এফআইআরে চন্দ্রবাবু নাইডুর নাম অভিযুক্ত হিসেবে ছিলই না। সিআইডির দাবি, তদন্তে বেরিয়ে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই নাইডুকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এই এফআইআরের বিশদ বিবরণ এবং অন্যান্য তথ্য চন্দ্রবাবু নাইডুর আইনজীবীদেরও দেওয়া হয়েছে। আইনজীবীরাও বলছেন, এফআইআর রিপোর্টে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। আইনজীবীদের জবাবে পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিমান্ড রিপোর্টে সমস্ত তথ্য দেবে বলে আশ্বাসও দিয়েছে। চন্দ্রবাবু নাইডুর বিরুদ্ধে আরোপিত ধারাগুলো জামিন অযোগ্য। অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে শীঘ্রই আদালতে পেশ করা হবে।

কিন্তু এই অন্ধ্রপ্রদেশ স্টেট স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন কেলেঙ্কারি বা দক্ষতা উন্নয়ন কেলেঙ্কারিটি আসলে কী?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
খোদ উত্তরপ্রদেশেই ইন্ডিয়ার কাছে হেরে ভূত বিজেপি! কেন এই শোচনীয় হার?

Ghosi bypoll Results 2023: উত্তরপ্রদেশেই এই সেদিনের ইন্ডিয়া জোটের কাছে হেরে গেল বিজেপি!

মার্চ মাসে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ পূর্ববর্তী তেলগু দেশম পার্টির শাসনামলে ঘটা APSSDC-তে ৩,৩০০ কোটি টাকার একটি কেলেঙ্কারির তদন্ত শুরু করেছিল। ভারতীয় রেলওয়ে ট্রাফিক সার্ভিসের প্রাক্তন আধিকারিক আরজা শ্রীকান্তকে একটি নোটিশ জারি করা হয়েছিল। তিনি ২০১৬ সালে APSSDC-এর সিইও ছিলেন। ২০১৬ সালে, টিডিপি সরকারের আমলে, APSSDC প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে।

| Criminal Investigation Department (CID) arrest former Andhra Pradesh CM and TDP chief N Chandrababu Naidu.

(Video Source: TDP)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ধূপগুড়ি ছিনিয়ে নিল তৃণমূল! বিজেপির দখল কি তবে দুর্বল হচ্ছে উত্তরবঙ্গে?

Dhupguri Bypoll Result 2023: গত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে একটি উপনির্বাচনেও জিততে পারেনি বিজেপি।

— ANI (@ANI)

সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, টিডিপি সরকার ৩,৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের জন্য একটি মউ সাক্ষর করেছে। এতে সিমেন্স ইন্ডাস্ট্রি সফটওয়্যার ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং ডিজাইন টেক সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেড যুক্ত আছে। সিমেন্স ইন্ডাস্ট্রি সফটওয়্যার ইন্ডিয়াকে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ছয়টি উৎকর্ষ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কথা ছিল, রাজ্য সরকারের মোট প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ১০% দেবে। বাকিটা সিমেন্স এবং ডিজাইন টেক অনুদান দেবে।

সিআইডির তদন্তে বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়ে। যথাযথ দরপত্র না হেঁকেই প্রকল্পটি শুরু করা হয়েছিল। রাজ্য মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পের জন্য কোনও অনুমোদন দেয়নি। সিমেন্স ইন্ডাস্ট্রি সফ্টওয়্যার ইন্ডিয়া এই প্রকল্পে নিজস্ব কোনও টাকা ঢালেনি এবং পরিবর্তে রাজ্য কর্তৃক বরাদ্দ করা ৩৭১ কোটি টাকার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন শেল কোম্পানির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। সিমেন্স গ্লোবাল কর্পোরেট অফিস প্রকল্পটির একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে এবং দেখে সরকারের টাকা যাচ্ছেতাইভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে।

সম্প্রতি চন্দ্রবাবু নাইডু দাবি করেছিলেন, খুব শিগগিরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে। অন্ধ্রপ্রদেশের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মেরুগা নাগার্জুন জনসাধারণের অর্থ লুট করার জন্য চন্দ্রবাবু নাইডুর গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছিলেন। নাগার্জুনের দাবি, ভোটের মামলায় পালিয়ে যাওয়ার আগে চন্দ্রবাবু হায়দরাবাদের লেক ভিউ গেস্ট হাউসের মেরামতের জন্য ১০ কোটি টাকা খরচা করেছিলেন৷ মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে আরও ১০ কোটি টাকা, চার্টার্ড বিমানের জন্য ১০০ কোটি এবং ধর্ম পোরাতা দীক্ষার জন্য ৮০ কোটি টাকা খরচা করেছেন নাইডু।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ১২০বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), ৪২০ (প্রতারণা এবং অসৎভাবে সম্পত্তি বিতরণে প্ররোচিত করা) এবং ৪৬৫ (জালিয়াতি) সহ ভারতীয় দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারার অধীনে গ্রেফতার করা হয়েছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।