হামলা গাজার শরণার্থী শিবিরেও! রকেট হানায় নিশ্চিহ্ন সাংবাদিকের গোটা পরিবার
Israel-Gaza War: গাজায় সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার হয়ে কাজ করতেন ওয়ায়েল আল দাহদৌদ। বুধবার ইজরায়েলি বাহিনীর হানা রকেট হামলায় নিজের স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও নাতিকে হারিয়েছেন তিনি।

দেখতে দেখতে ২০ দিনে পড়ল গাজা-ইজরায়েল যুদ্ধ। অথচ শান্তি-সমঝোতার চিহ্নমাত্র নেই। বরং একের পর এক বিধ্বংসী হামলা চালিয়েই যাচ্ছে ইজরায়েল। হাসপাতাল, গির্জা বাদ যাচ্ছে না কোনও কিছুই। ইতিমধ্যেই গাজায় মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে সাড়ে ৬ হাজারের সীমা। আর তার মধ্যে ঠিক ক'জন হামাস জঙ্গি রয়েছে বলা মুশকিল। কিন্তু ওই সাড়ে ৬ হাজারের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্ক। যারা প্রতিদিন নেই হয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল আর হামাসের সংঘর্ষে। এবার গাজায় ইজরায়েলের নিশানায় সাংবাদিকের পরিবার। সম্প্রতি গাজায় ইজরায়েলের হামলায় মৃত্যু হয়েছে আলজাজিরার ব্যুরো চিফের পরিবারের। নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে তাঁর গোটা পরিবার।
গাজায় সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার হয়ে কাজ করতেন ওয়ায়েল আল দাহদৌদ। বুধবার ইজরায়েলি বাহিনীর হানা রকেট হামলায় নিজের স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও নাতিকে হারিয়েছেন তিনি। বুধবার মধ্য গাজায় নুসিরত শরণার্থী শিবির লক্ষ্য় করে রকেট হামলা চালায় নেতানিয়াহু সেনা। গাজায় ইজরায়েল হামলা শুরু করার পর গৃহহীন হয়ে পড়েছিলেন সাংবাদিক ওয়ায়েলের পরিবার। তাঁরা আশ্রয় নিয়েছিলেন ওই শরণার্থী শিবিরে। বুধবার সেখানেই হামলা চালায় ইজরায়েলি সেনা। আর তাতেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে ওই সাংবাদিকের গোটা পরিবার। ওয়ায়েলের নাতি আদমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি তাঁকে। দু-ঘণ্টা পরে মৃত্যু হয় তারও। যদিও সেই ঘটনায় দায় এখনও নেয়নি ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Israel-Hamas War: এত সব ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই হামাসরা মুক্তি দিল দুই মার্কিন বন্দিকে। জানানো হয়েছে, মানবিক কারণেই কাতার সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে তাঁদের।
গোটা পরিবারকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন আলজাজিরার ওই ব্যুরো চিফ। একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা গিয়েছে, পরিবারের নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে হাউ হাউ করে কাঁদছেন ওয়ায়েল। খুদে নাতির রক্তাক্ত শরীরটাকে বুকে তুলে আল আকসা মারটিয়ার্স হাসপাতালে ছুটতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। তাল এল হাওয়া থেকে এসে নুসিরত শরণার্থী শিবিরে তাঁরা আশ্রয় নিয়েছিলেন এই ভেবে যে, এখানে অন্তত তাঁরা সুরক্ষিত। কিন্তু সেই ভুল ভাঙল বুধবার, যখন ভয়াবহ হামলা নেমে এল ওই শরণার্থী শিবিরের উপরেই। ওয়ায়েলের ছেলে মহম্মদের বয়স মাত্র ১৫। আর তাঁর মেয়ে শামের বয়স ৭।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Gaza Hospital attack: গাজার হাসপাতালের উপরে সাম্প্রতিক রকেট হামলায় অন্তত ৫০০ নিরাপরাধ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। যার দায় হাত থেকে ঝেড়ে পিআইজি-র উপরে ঠেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নেতানিয়াহু সরকার।
প্যালেস্টাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রের খবর, বুধবারের ওই হামলায় আরও ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওয়ায়েলের পরিবারের উপরে এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে গোটা বিশ্বের মানবাধিকার মহল। ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ওয়ায়েল নিজেও। জানান, যা ঘটছে তা পরিষ্কার। গাজার শিশু, মহিলা আর সাধারণ মানুষকেই লাগাতার নিশানা বানানো হচ্ছে। যে সময় ঘটনাটি ঘটে, ওয়ালেল কাজের সূত্রে ছিলেন ইয়ারমোকে। যে কারণে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। কিন্তু পরিবার-পরিজনকে হারিয়ে সেই বেঁচে যাওয়াকে অর্থহীন মনে হচ্ছে তাঁর। এখনও পর্যন্ত গাজায় মৃত্যু হয়েছে কম করে হলেও ২২ জন সাংবাদিকের।
যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটার কোনও ভাবনাচিন্তাই নেই ইজরায়েল ও তাঁর যুদ্ধসঙ্গীদের। যুদ্ধবিরতি হলে লাভ হবে শুধুমাত্র হামাসদেরই, এমন দাবি করেছে হোয়াইট হাউসও। ফলে যুদ্ধ থামার আশা নেই, আশা নেই মৃত্যুমিছিল থামারও। সবচেয়ে খারাপ জায়গায় রয়েছে বোধহয় গাজার শিশুরা। মৃত্যু ক্রমশ গ্রাস করছে তাদের। যারা বেঁচেও রয়েছে, তারাও মৃতেরই শামিল। কারণ এই যুদ্ধের ধাক্কা তাদের ছোট্ট মগজে এঁকে দিচ্ছে এক ভয়ঙ্কর ট্রমা। অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে, গাজাকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন না করে বোধহয় থামবে না ইজরায়েলের আগ্রাসন, আর সে নিয়েই উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থাগুলির।







