'লাল সোনা' চাষ করে মাত্র কয়েক মাসেই লক্ষ লক্ষ উপার্জন! জেনে নিন, কীভাবে

বর্তমানে ভারতের একাধিক রাজ্যে জাফরানের চাষ করা হয়ে থাকে। যেমন উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা ও রাজস্থান-সহ আরও অন্যান্য প্রান্তে।

Sayan Das
৪ মিনিট
'লাল সোনা' চাষ করে মাত্র কয়েক মাসেই লক্ষ লক্ষ উপার্জন! জেনে নিন, কীভাবে

আমরা ভারতীয়রা খাবারের প্রসঙ্গে গোটা বিশ্বকে হার মানাতে পারি। আমাদের দেশে যেমন খাবারের একের পর এক নতুন নতুন পদ পাওয়া যায়, ঠিক সেরকমভাবেই 'খাদ্যরসিক' হিসেবে ভারতীয়দের নাম সবার প্রথমেই থাকে। এক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা রকম খাবারের দেখা মেলে; দেশের দক্ষিণ প্রান্তে গেলে যেমন ইডলি ও ধোসার দেখা মেলে, আবার পশ্চিমে ছোলে-বাটুরে আপনার জিভে জল আনতে বাধ্য। পাঞ্জাবে লস্যি-পরোটা তো আবার বাংলায় ভাত, শুক্তো এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি; খাবারের বিভিন্নতার মাঝে ঐক্য এই দেশে।

খাবার যাই-ই হোক না কেন, তাতে নিদারুণ স্বাদ নিয়ে আসে বিভিন্ন ধরনের মশলা; হলুদ, লঙ্কা, জিরে কিংবা অন্যান্য যে কোনও ধরনের মশলা খাবারের স্বাদ, সুগন্ধ সর্বত্রই অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। আজ যে মশলাটির প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হতে চলেছে, তা মূলত জম্মু-কাশ্মীরের, কিন্তু দেশজুড়েই তা জনপ্রিয়‌‌।

জাফরান বা কেশর খাবারের সুগন্ধ এবং রঙের পাশাপাশি স্বাদও বহু গুণে বাড়িয়ে দিতে সক্ষম। অতীতে এই জাফরান মশলাটি প্রধানত জম্মু-কাশ্মীরে চাষ করা হতো। ফলে দেশের একাধিক প্রান্তে পাওয়া গেলেও প্রধানত কাশ্মীরই ছিল এর উৎসস্থল। তবে বর্তমানে ভারতের একাধিক রাজ্যে জাফরানের চাষ করা হয়ে থাকে। যেমন উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা ও রাজস্থান-সহ আরও অন্যান্য প্রান্তে; তবে আজ প্রধানত এই মশলাটির চাষবাস সম্পর্কে একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব, কারণ এই জাফরান উৎপাদনের মাধ্যমে আপনি মাসে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করতে পারবেন। ফলে কেবলমাত্র চাষ করেই যদি আপনি লাখপতি হতে চান, তাহলে এই মুহূর্তেই জেনে নিন, জাফরান চাষের পদ্ধতি এবং মুনাফা সম্পর্কে‌।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নামমাত্র বিনিয়োগ, মুক্তো চাষে তিন লক্ষ আয় নিশ্চিত, জানুন কীভাবে শুরু করবেন

আপনি যদি এই মুক্তো ফার্মিং-এর ব্যবসা করতে পারেন, তাহলে আপনি সাফল্য পাবেন খুবই সহজে। উপরন্তু, সরকারের তরফ থেকেও সাহায্য করা হয়ে থাকে এই মুক্তো চাষের ব্যবসায়।

প্রথমেই বলে রাখা ভালো, এই জাফরান বা কেশর মশলা অত্যন্ত দামি হয়। এই কারণেই গোটা দেশবাসী এটিকে লাল সোনা বলেই চেনে। এক দিক থেকে দেখতে গেলে সোনার মতোই এর চাহিদা এবং মূল্য আকাশছোঁয়া হওয়ার কারণেই এটিকে সোনার সঙ্গে তুলনা করা হয়। বর্তমানে দেশে প্রতি কেজি জাফরানের দাম প্রায় ২.৫ থেকে ৩ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। এই কারণে যাঁরা কৃষিকার্য করে থাকেন, কিংবা বহু মানুষ যাঁরা বর্তমানে চাষবাস করে ব্যবসা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখে চলেছেন, তাদের জন্য এটি সুখবর। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো, যদি আপনার লক্ষ্য স্থির হয় এবং পরিশ্রম করার মনোভাব থাকে, তাহলে এখনই শুরু করে দিতে পারেন জাফরান চাষ; কারণ একবার যদি আপনার পরিশ্রম কাজে দেয়, তবে কয়েক বছরে আপনি কোটিপতিও হয়ে যেতে পারেন। কীভাবে এসব সম্ভব হবে, দেখে নেওয়া যাক!

এক্ষেত্রে প্রথমেই বলে রাখি, জাফরান চাষের দ্বারা আপনি যে পরিমাণ আয় করতে চলেছেন, এর সম্পূর্ণটাই নির্ভর করে মশলার চাহিদার ওপর। গোটা বিশ্বের মধ্যে 'অধিক দামি' হিসেবে যেসব মশলাকে তালিকাভুক্ত করা হয়, তার মধ্যে প্রথমেই থাকবে 'লাল সোনা' জাফরানের নাম। সেই কারণেই ভারতের পাশাপাশি এশিয়া এবং ইউরোপের একাধিক দেশে এটির চাহিদা বর্তমানে অধিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এবার দেখে নেওয়া যাক, জাফরান চাষ করার উপযুক্ত সময়। কারণ, এটি এমন একটি মশলা, যা ১২ মাসই চাষ করা সম্ভব নয়; এটিকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উৎপাদন করতে হয়। এক্ষেত্রে, জাফরান চাষ করার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ এবং সময়- উভয়দিকেই আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। যদি পরিবেশের কথায় আসা যায়, তবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন কিলোমিটার উচ্চতায় যে কোনও স্থানে এটি চাষ করা উচিত। অবশ্য এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, চাষযোগ্য জমিতে কখনওই জল জমতে দেওয়া যাবে না। কারণ জলের উপস্থিতি জাফরানের জন্য উপযুক্ত নয়; সঙ্গে চাই বেলে মাটি কিংবা দোঁয়াশ মাটি। অন্যান্য জমিতে জাফরান চাষ একপ্রকার অসম্ভব।

এবার আসা যাক সময়ের প্রসঙ্গে। আপনি যদি জাফরান চাষের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চান, তবে এই চাষ একমাত্র আপনাকে গরমকালেই করতে হবে। এক্ষেত্রে শীত এবং বর্ষা মশলাটির জন্য উপযুক্ত নয়, আর সেই কারণেই শুধুমাত্র গ্রীষ্মকালে এটির চাষ সম্ভব।

জাফরান চাষ করে আপনি ঠিক কত মুনাফা উপার্জন করতে পারবেন? এই প্রশ্নটি মোটামুটি সকলের মাথাতেই ঘোরে। কারণ, যে কোনও ক্ষেত্রে ব্যবসা শুরু করার জন্য অবশ্যই মুনাফার দিকটি প্রথমে ভেবে নেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে বলা যায়, যদি আপনি ৪ কেজি জাফরানও বিক্রি করতে সক্ষম হন, তবে আপনার মুনাফার পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। এক্ষেত্রে অবশ্য আপনি যত বেশি মশলা বিক্রি করবেন, আপনার উপার্জনের পরিমাণ তত বৃদ্ধি পাবে। এক্ষেত্রে এমন অনেকেই রয়েছেন, যাঁরা মাসে ১২ কেজির বেশি জাফরান বিক্রি করে থাকেন। এমন অনেক উদাহরণও পাওয়া যায়, যেখানে এটি চাষ করে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে মানুষ কোটিপতি হয়ে গিয়েছেন। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো, অফলাইন এবং অনলাইন, দু'ক্ষেত্রেই এর সহজলভ্যতা। অর্থাৎ, খোলাবাজার-সহ অনলাইনেও আপনি এই মশলাটি বিক্রি করতে সক্ষম হবেন। আপনার আশপাশে কিংবা দেশের যে কোনও প্রান্তের বাজারে যেমন আপনি এটি বিক্রি করতে পারবেন, ঠিক তেমনভাবে অনলাইনেও বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে এটি পৌঁছে দিতে পারবেন সকলের ঘরে।

প্রসঙ্গত, আপনি যদি সমভূমি অঞ্চলে থাকেন তবে জাফরান মশলাটির বীজ রোপণ করার জন্য উপযুক্ত সময় হলো ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাস। আবার পাহাড়ি এলাকায় এই সময়কাল জুলাই থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে হওয়া প্রয়োজন, তবেই আপনি উপযুক্ত ফল পাবেন। এক্ষেত্রে, আপনাকে শুধুমাত্র মাথায় রাখতে হবে যে, এটির চাষ প্রক্রিয়া যেন সঠিকভাবে হয়; কারণ উপযুক্ত পরিবেশে চাষ এবং পরবর্তীতে ভালোভাবে প্যাকিং করে বিক্রির মাধ্যমে যদি আপনি এর চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হন, তবে আপনাকে আর ফিরে তাকাতে হবে না। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই লাল সোনার চাষ আপনাকে বানিয়ে দিতে পারে কোটিপতি।

লিখেছেন
Sayan Das
Sayan Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।