মেলায় সঙ্গী খুঁজে বিয়ের আগেই সহবাস, গর্ভধারণ! আজও ভারতের এই জায়গায় রীতি এটাই
Indian tribe tradition : আমাদের দেশেই রয়েছে এই আদিবাসি জনগোষ্ঠী, বিয়ের আগে সহবাস তো বটেই পাশাপাশি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার রীতিও প্রচলিত রয়েছে

“দাদা পায়ে পড়ি রে, মেলা থেকে বউ এনে দে”, বহুল প্রচলিত এই বাংলা গানের ঠিক বিপরীত ঘটনাটি বাস্তবে ঘটে ভারতেরই কয়েকটি রাজ্যে। বউ নয়, মেলা থেকে বর বাছাই করা হয় সেখানে। গুজরাত ও রাজস্থানের কিছু অংশে বসবাসকারি গারাসিয়া গোষ্ঠীর মধ্যেই প্রচলন রয়েছে এই রীতির। এদেশের বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে থাকা আদিবাসীদের মধ্যে এরকম বহু রীতিই লক্ষ্য করা যায়। গারাসিয়া গোষ্ঠীও ব্যতিক্রম নয়। প্রতিবছর দুই দিন মেলা বসে উক্ত অঞ্চলগুলিতে। সেই মেলাতেই হয় স্বয়ংবর সভা সেখান থেকেই আদিবাসী মেয়েরা নিজেদের পছন্দমত বর খুঁজে নিতে পারেন।
বর্তমান সমাজে আধুনিকতার উত্থান ঘটলেও সংস্কার নিয়ে ছুঁৎমার্গ এখনও রয়েছে। কলকাতার হাতে গোনা কিছু অঞ্চলে অথবা রাজ্যের বাইরে বেশ কিছু জায়গায় লিভ ইন সম্পর্ক নিয়ে সংস্কার কিছুটা কমলেও বেশিরভাগ জায়গাতেই এই বিষয়ে চোখ টাটায় সমাজ। আর সেখানে এই ভারতেই আদিবাসীদের মধ্যে এমন এক রীতি প্রচলিত রয়েছে যেখানে মেলা থেকে পছন্দসই বর খুঁজে নেওয়া যায়, এমনকী বিয়ের আগে শুধু সহবাসই করেন না, বিয়ের আগেই এই গোষ্ঠীর মহিলারা অন্তঃসত্ত্বা হন এবং সন্তানেরও জন্ম দেন। এটাই নাকি রীতি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Mangarh Massacre: সন্ধে নামার পর ব্রিটিশ এজেন্ট হ্যামিল্টন সাহেবের আদেশ পেয়েই ঝলসে ওঠে সেসব আগ্নেয়াস্ত্র। মুহূর্তে রক্তাক্ত হয়ে ওঠে গোটা অঞ্চল। লুটিয়ে পড়ে প্রায় দেড় হাজার দেহ।
ভাবা যায়, আজকের দিনে দঁড়িয়েও যেখানে সম্পর্ক নিয়ে সমাজের চোখ রাঙানি কমেনি, সেখানে আজ থেকে ১০০ বছর আগেই গুজরাত ও রাজস্থানের কিছু অংশে বসবাসকারি গারাসিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে এই রীতির চল শুরু হয়েছিল। যে তথাকথিত সমাজের স্বপ্ন নিয়ে আজকের প্রজন্ম শ্লোগানে শ্লোগানে গলা ফাটায়, সেই রীতি এদের কাছে জলভাত।
নারী স্বাধীনতার দিকটাও লক্ষ্য করার মতো। মেলায় বর পছন্দ করার স্বাধীনতা থাকে আদিবাসী মেয়েদেরই। তারপর সেই পছন্দের বরের সঙ্গে ঘর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় মেয়েটি। পরিবার থেকে দূরে আলাদা করে ‘লিভ ইন’ বা সহবাস করে। বিনা বাধায় মিলিত হয়। এমনকী সন্তানের জন্ম অবধি দেয়। শুধু তাই নয়, এই গোটা ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের পরিবার কোনও রকম চাপ দেয় না। উপরন্তু ছেলের পরিবার মেয়ের পরিবারকে টাকা দেয়। এই সহবাসের সম্পর্ক থেকে তাদের সন্তানও জন্মের পর যদি তারা ঠিক করে যে বিয়ে করা উচিৎ তবেই বিয়ে করে, নচেৎ নয়। এই নিয়ে আদিবাসী সমাজ কখনওই একটি মেয়েকে কোণঠাসা করে না।
এখানেই শেষ নয়, ওই আদিবাসী সমাজের কোনও মেয়েকেই একজন পুরুষের সঙ্গেই সারাজীবন কাটানোর জন্য বাধ্য করা হয় না। ইচ্ছে অনুযায়ী সঙ্গী বদলেও কোনও আপত্তি নেই গারাসিয়া সমাজে। মেয়েটি চাইলেই বর্তমান সঙ্গীকে ছেড়ে অন্য কারও সঙ্গে ঘর বাঁধতে পারে। তবে, সেক্ষেত্রে নতুন সঙ্গীকে মেয়েটির পরিবারকে পুরনো সঙ্গীর থেকে বেশি টাকা দিতে হবে।
কিন্তু গারাসিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে এমন অদ্ভুত প্রথা শুরু হল, এই প্রশ্ন জাগে অবশ্যই। কথিত আছে, আজ থেকে অনেক অনেক বছর আগে এই গোষ্ঠীর চার ভাইয়ের মধ্যে তিন ভাইয়ের বিয়ে হয়ে যায় এবং চতুর্থ ভাই বিয়ে না করে একটি মেয়ের সঙ্গে সহবাস করে। পরবর্তীকালে দেখা যায় প্রথম তিন ভাইয়ের কোনও সন্তান হয় না, কিন্তু চতুর্থ ভাই অর্থাৎ যে বিয়ে না করেই সহবাস করছিল তার সন্তান হয়। সেই থেকেই নাকি এই গোষ্ঠী মনে করে, বিয়ে না করে সহবস করাতেই মঙ্গল। এবং সময়ের সঙ্গে এটিই রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমানে।















