বেড়াতে গিয়ে পকেটে টান, কীভাবে সাশ্রয় করবেন কলেজ পড়ুয়ারা?

বাচ্চা থেকে বুড়ো ঘুরতে যেতে সকলেই ভালোবাসে। তবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন অভিজ্ঞতা সংগ্রহের আগ্রহ অনেক বেশি। তাছাড়া বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে কত তরুণ-তরুণী নতুন নতুন জায়গা ঘুরে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানায় সেখানে। তা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে কত কলেজ পড়ুয়া, সদ্য চাকরিজীবনে প্রবেশ করা ছেলে বা মেয়েটাও বেরিয়ে পড়ে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে। তবে ঘুরতে যাওয়ার অর্থ কিন্তু যথেচ্ছভাবে টাকা খরচ নয়। আর কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন হাতে টাকা থাকে সীমিত। সারা বছর একটু একটু করে টাকা জমিয়ে তবে বছর-শেষে ঘুরতে যাওয়া সম্ভব হয়। তাই ভালোভাবে প্রস্তুতি না নিলে আপনার সম্পূর্ণ ট্রিপের খরচ আকাশছোঁয়া হয়ে যেতে পারে। তাই ব্যাগ গোছানোর আগে অর্থ সাশ্রয়ের এই টিপসগুলি মাথায় রাখা জরুরি।

পরিকল্পনা করুন
কোথাও ঘুরতে যাওয়ার কথা উঠলেই প্রথম যে কথা মাথায় আসে, তা হল ট্রিপ প্ল্যানিং। শুধু অমুক জায়গায় ঘুরতে যেতে চাই বা গিয়ে কী কী করব, সেগুলি ভাবলে চলবে না, ট্রিপের খুঁটিনাটি বিষয় প্ল্যান করা অত্যন্ত জরুরি। আপনার সম্পূর্ণ ট্রিপের মুখ্য দিকটি হল পরিকল্পনা বা প্ল্যানিং। শেষ মুহূর্তে ট্রেনের টিকিট বা হোটেলের জন্য অতিরিক্ত খরচের তুলনায় কয়েক ঘণ্টা ধরে বসে প্ল্যান ছকে নেওয়া অনেক ভালো। আপনি যেখানে ঘুরতে যেতে চান, সেই জায়গা সম্পর্কে ভালোভাবে গবেষণা করুন এবং তার জন্য মোটামুটি কত খরচ হতে পারে, তার ধারণাও আগেভাগে নিয়ে রাখুন। আজকাল ট্রেন বা বাসের টিকিটবাবদ খরচ, হোটেল ভাড়া এবং আনুষঙ্গিক খরচ নিয়ে বিভিন্ন ভ্লগ রয়েছে ইউটিউবে। তাই সব তথ্য পেয়ে যাবেন একটু খুঁজলেই। যত ভালোভাবে প্ল্যান করে বাজেট তৈরি করবেন, ততই বাড়তি খরচ কমবে যা আপনার পক্ষেও ভালো।

একবারে সবকিছু কিনবেন না
কোথাও ঘুরতে যাওয়ার আগে সামান্য হলেও আমরা সকলেই কিছু কেনাকাটা করে থাকি। এক্ষেত্রে আগে থেকে প্ল্যান করা থাকলে সুবিধে হয়। একই মাসে সব জিনিস না কিনে প্রয়োজন অনুযায়ী অনেকদিন ধরে জিনিসগুলি কেনা যায়। আবার ছাড়ের সময়গুলোতেও কেনাকাটা করতে পারেন। এভাবে কেনাকাটা করলে যে মাসে ঘুরতে যাওয়া, সেই মাসে পকেটে চাপ পড়ে পড়বে না। ফিরে এসেও পুরো মাসেই হাতে টাকাও থাকবে।

আরও পড়ুন: দার্জিলিং নয়, চা-বাগানে ঘেরা এই পাহাড়ি গ্রাম থেকেই দেখা যাবে কাঞ্চনজঙ্ঘার শ্রেষ্ঠ রূপ

পিক সিজন এড়িয়ে চলুন
কোনও জায়গায় পিক সিজনে ঘুরতে গেলে একরাশ মানুষের ভিড় আর প্রচুর টাকা খরচ ছাড়া কিছুই হয় না। তাই চেষ্টা করুন অন্য সময় যাওয়ার। পিক সিজনে অতিরিক্ত ট্যুরিস্ট থাকার কারণে হোটেলগুলি মাত্রাতিরিক্ত দর হেঁকে বসে। তাই খরচ বাঁচাতে ফাঁকা সময়ই যাওয়া ভালো। অফ সিজনে হোটেল খরচ, ট্রেনের টিকিট বা ফ্লাইটের টিকিটের দাম অনেকটাই কম থাকে, ফলে ট্রিপের সম্পূর্ণ খরচ অনেকটাই কম হয়, আবার ভালোভাবে ফাঁকায় ঘুরেও দেখা যায় সব সাইটগুলি।

ট্রাভেল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারেন
অল্পবয়সে অনেকেরই ধারণা থাকে, কোথাও ঘুরতে গেলে বোধহয় অনেক টাকা সঞ্চয় করার প্রয়োজন হয়। আবার অনেক ভ্রমণপিপাসু তরুণ-তরুণী টিফিনের টাকা বা হাতখরচের টাকা বাঁচিয়ে ঘোরার জন্য টাকা সঞ্চয় করেন। এক্ষেত্রে ট্রাভেল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে জরুরি প্রয়োজনে হাতে ক্যাশ টাকাও থাকে আবার এই ধরনের কার্ড ব্যবহারে অনেক ছাড় বা পয়েন্ট সংগ্রহ করা যায়, যার ফলে ভবিষ্যতে ট্রিপ প্ল্যান করলেও ছাড়ের সুযোগ থাকে।

সঠিক ভাড়ার খোঁজ চালান
ফ্লাইটের টিকিট, হোটেল বুকিংয়ের আগে অনলাইনে বিভিন্ন সাইটে খরচ তুলনা করে দেখে নিন। কোনও একটি সাইটে দেখেই ভুলেও টিকিট কাটবেন না বা হোটেলে বুক করবেন না। এতে সবথেকে ভালো বিকল্পটি হাতছাড়া হতে পারে। আর হ্যাঁ, ট্র্যাভেল ইনশিওরেন্স করাতে কিন্তু মোটেও ভুলবেন না।

নিজের ট্রিপ প্ল্যান করার সময় বা ধৈর্য না থাকলে ট্র্যাভেল এজেন্সির সঙ্গেও ঘুরতে যেতে পারেন। এক্ষেত্রে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো অনেক সময় নানা ধরনের ছাড় দিয়ে থাকে। ওই সময় যদি যেতে পারেন, তাহলে অনেক কম টাকায় ঘুরে আসতে পারবেন। তবে দু'-একটা ট্র্যাভেল এজেন্সির সঙ্গে কথা বলে দেখুন, যেখানে কম খরচ পড়বে, সেটিই বেছে নিন।

নিজেই একটি ফান্ড তৈরি করে ফেলুন। প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ‘ট্র‍্যাভেল ফান্ডে’ জমা রাখুন। ঘুরতে যাওয়ার সময় টাকার খোঁজে এদিক-ওদিক হাত পাততে হবে না। নিজের জমানো টাকা দিয়েই ঘুরে আসতে পারবেন পছন্দের জায়গায়।

ঘুরতে গিয়ে চেষ্টা করুন, যেখানে স্থানীয় মানুষরা খাবার খান, তেমন কোনও হোটেল বেছে নেওয়ার। এতে বড় রেস্তোরাঁয় ট্যাক্স-বাবদ যে বাড়তি খরচ হয়, তা বাঁচানো যাবে। যার ফলে খরচও খানিক কম হবে।

বড় কোনও লাক্সারি গাড়ির বদলে সেই জায়গার পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বেছে নিন। এর ফলে দু'দিন বা তিনদিন থাকলে গাড়ির যা খরচ পড়বে, তার থেকে অনেক কমেই ঘুরে দেখতে পারবেন জায়গাটি। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে আলাপ হলে সেখানকার সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচয় ঘটবে, যা আপনার ভ্রমণস্মৃতির অংশ হয়ে থেকে যাবে হৃদয়ে।

 

More Articles

;