নকল জিনিস খেলেই বিপদ, এমনকী হতে পারে ক্যানসারও! খাঁটি দারুচিনি চিনবেন কী করে?

Real Cinnamon Stick Powder Identification :

inscript
৩ মিনিট
নকল জিনিস খেলেই বিপদ, এমনকী হতে পারে ক্যানসারও! খাঁটি দারুচিনি চিনবেন কী করে?

“দূর দ্বীপবাসিনী/ চিনি তোমারে চিনি/ দারুদিনিরও দেশে, তুমি বিদেশিনী গো/ সুমন্দ ভাষিণী”

সেই কবে কাজী নজরুল ইসলাম লিখে গিয়েছেন দারুচিনি দ্বীপের কথা। কেবল বাঙালি নয়, প্রতিটা ভারতীয়ের ঘরে একটু খুঁজলেই পাওয়া যাবে এই বিশেষ বস্তুটি। দারুচিনি বা দারচিনি। রান্নায় একটু দারুচিনির টুকরো বা মশলা দিয়ে দিলেই… আহা! সেই স্বাদই আলাদা! তবে কেবল ভারত নয়, গোটা বিশ্বেই ছড়িয়ে রয়েছে এই বিশেষ মশলাটি। কিন্তু আপনার ঘরে যে দারুচিনি রয়েছে, সেটি কি আদৌ খাঁটি? গবেষক ও ডাক্তাররা বলছেন, খাঁটি দারুচিনি অনেক উপকারী। কিন্তু নকল বা অন্য জাতের দারুচিনি খেলেই কিন্তু সমূহ বিপদ! শরীরে বাঁধবে রোগের বাসা।

দারুচিনির সাত সতেরো

দারুচিনি গাছের ছাল থেকে এই বিশেষ মশলাটিকে বের করা হয়। প্রথমে তো গাছের ছাল ভালো করে কেটে সংগ্রহ করা হয়। তারপর সেই শক্ত ছালের ভেতরের অংশটিকে বের করে নেওয়া হয়। সেটিই হল দারুচিনি মশলা। যার গন্ধই আপনাকে জানান দিয়ে দেবে। সেই বস্তুটি বের করে নেওয়ার পর শক্ত বাকলটি ফেলে দেওয়া হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারতের পরাধীনতার শুরু গোলমরিচ থেকে! স্বাদে-গুণে ভরপুর এই মশলার ইতিহাস অবিশ্বাস্য

খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি গোলমরিচের গুণাগুণের কারণেই এর বিপুল চাহিদা পৃথিবীজুড়ে।

এরপর এই দারুচিনিকে ভালো করে শুকানো হয়। এর ফলে দুটো জিনিস হয়। এক, দারুচিনির ভেতরের তেলটি আরও প্রখর হয়। মূলত এই বিশেষ বস্তুটিই দারুচিনির গন্ধের কারণ। আর দুই, শুকিয়ে যাওয়ার ফলে দারুচিনি একটু একটু করে গুটিয়ে যায়। লম্বা, গোল সেই কাঠিগুলোকেই দারুচিনি স্টিক না সিনামন স্টিক হিসেবে বিক্রি করা হয়। সেগুলো গুঁড়ো করেও ব্যবহার করা হয়।

ভারতের প্রাচীন শাস্ত্রে দারুচিনির নানা গুণের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। দারুচিনির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। সেইসঙ্গে আরও বেশকিছু উপকারী বস্তু রয়েছে। এসবের জন্য দারুচিনি মানুষের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও হৃদরোগের হাত থেকে রক্ষা করে, শরীরে প্রদাহ হতে দেয় না। সেইসঙ্গে দারুচিনির ভেতরের ওই বিশেষ তেল, যার নাম সিনামালডিহাইড, সেটি শরীরের মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। কেবল রান্নায় নয়, চা, মিষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন তেল ও আয়ুর্বেদিক প্রোডাক্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

দারুচিনির প্রকারভেদ

পৃথিবীতে প্রধানত দুই রকমের দারুচিনি পাওয়া যায়। এক, সেইলন সিনামন (Ceylon Cinnamon), যার বিজ্ঞানসম্মত নাম Cinnamomum verum। এই গাছ থেকেই এটি সংগ্রহ করা হয়। আরেকটি হল ক্যাশিয়া সিনামন (Cassia Cinnamon), যেটি Cinnamomum cassia গাছ থেকে পাওয়া যায়। খাঁটি আর নকল – দুটোর অহস্যই লুকিয়ে আছে এর মধ্যে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যে বাসনে রোজ রাঁধেন, সেখান থেকেই মারণ রোগ! অজান্তেই শরীরে তিল তিল করে বাড়ছে ক্যানসার

গবেষকরা আশঙ্কা করছেন, ইতিমধ্যেই যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে কারণ এই রাসায়নিকগুলি পূর্বানুমানের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক।

কোনটা খাঁটি, কোনটা ক্ষতিকর

মশলা গবেষক ও বিজ্ঞানীরা বলেন, সেইলন সিনামন সাধারণত দক্ষিণ ভারত ও শ্রীলঙ্কায় পাওয়া যায়। এই বিশেষ দারুচিনির রং হালকা বাদামি। অনেকগুলো স্টিক একসঙ্গে থাকে, আর একটু নরম হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভারত-শ্রীলঙ্কায় তৈরি হওয়া এই বিশেষ দারুচিনিটিই খাঁটি। আসল গুণ এর মধ্যেই আছে।

অন্যদিকে ক্যাশিয়া সিনামনকে চাইনিজ দারুচিনিও বলা হয়। শক্ত, খসখসে, গাঢ় বাদামি রঙের হয় এটি, সঙ্গে একটু লালের ছোঁয়া। বাজারে এই দারুচিনিই সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই ক্যাশিয়া দারুচিনিই ক্ষতিকারক। কিন্তু কেন?

কেন ক্ষতিকারক

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যাশিয়া দারুচিনির ভেতর এক ধরণের রাসায়নিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। এই বিশেষ রাসায়নিকের নাম ‘কৌমারিন’ (Coumarin)। এমনিতে এই বস্তুটি ঠিক আছে; কিন্তু বেশি মাত্রায় শরীরে জমলেই শুরু হয় বিভিন্ন রোগ। গবেষকরা দেখেছেন, অতিরিক্ত মাত্রায় শরীরে কৌমারিন গেলে সেটি লিভার, কিডনি এবং ফুসফুসের ক্ষতি করে। এমনকী সেই ক্ষতি কখনও কখনও মৃত্যুর দিকেও টেনে নিয়ে যায়। অনেকের মতে, এই কৌমারিন কার্সিনোজেনিক; অর্থাৎ ক্যানসারের কারণও হতে পারে। তাই ক্যাশিয়া দারুচিনি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

আর এখানেই আসল সমস্যা। বাজারে ক্যাশিয়া বা চাইনিজ দারুচিনির পরিমাণই সবচেয়ে বেশি। আর মানুষজনও না জেনে এই দারুচিনিই কিনে ঘরে নিয়ে যান। কারণ, এটি তুলনামূলকভাবে সস্তা। অন্যদিকে, ভারত-শ্রীলঙ্কার দারুচিনি উৎকৃষ্ট মানের হলেও, দামের দিক থেকে তুলনায় অনেক বেশি। তাই সবসময় এটি কিনে আনা যায় না। তবুও দারুচিনি চিনে সঠিকভাবে, পরিমিত ব্যবহার করুন। মশলা যেন আপনার মৃত্যুর কারণ না হয়।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।