অস্ট্রেলিয়ার সৈকতে চন্দ্রযানের ভাঙা অংশ? রহস্যময় বস্তু নিয়ে যা জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা

Huge Mysterious Metal Object in Australia: চন্দ্রযান ৩ কিছুদিন আগেই মহাকাশে গিয়েছে। ঠিক তার পরেই অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে এই অংশটি মিলেছে।

inscript
৩ মিনিট
অস্ট্রেলিয়ার সৈকতে চন্দ্রযানের ভাঙা অংশ? রহস্যময় বস্তু নিয়ে যা জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা

সমুদ্র কিছুই নেয় না, সব ফিরিয়ে দেয়। 'অমোঘ' এই বাণী শুনে শুনেই বাঙালি দিঘা, পুরী, মন্দারমণি চষে ফেলে এবার পাড়ি দিয়েছে বাঁকিপুট, জুনপুট, মৌসুনী আইল্যান্ডের দিকে। ঝিনুক বিলুপ্ত প্রায়, তাই সৈকতে কাঁকড়া আর আবর্জনা ছাড়া ইদানীং কিছু মেলা মুশকিল। তবে সব সৈকতের কপাল ফুটো নয়। বালি ঘাঁটতে ঘাঁটতে সেখানে অমূল্য রতন মেলে। সম্প্রতি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার গ্রিন হেডের একটি সমুদ্র সৈকতে এক প্রকাণ্ড ধাতব বস্তু দেখা গিয়েছে। জিনিসটা যে কী ঠাহর করা মুশকিল। জাহাজের ভেঙে পড়া অংশ? কোনও বিশাল পাত্র? কোনও যন্ত্র? মহাকাশ যানের টুকরো? নাকি স্পেসশিপ! সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন এই নিয়েই হইচই। অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি এই অজ্ঞাত বস্তুর ঠিকুজি বের করার দায়িত্ব পেয়েছে। তার মানে স্পেসশিপ? এমন উৎফুল্ল হওয়ার কারণ অবশ্য মেলেনি। তারা মনে করছেন, এটি সম্ভবত একটি রকেটের অংশ। প্রাথমিকভাবে পার্থের ২৫০ কিলোমিটার উত্তরে এই জায়গাটির কাছাকাছি থাকা মানুষদের একটু সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা কারণ এই রহস্যময় বস্তুটির বিপজ্জনক হওয়ার সম্ভাবনাও এখনই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেই রাজ্যের দমকল বিভাগ যদিও বস্তুটিকে নিরাপদ বলেই ঘোষণা করেছে, তবে পুলিশ এটিকে পাহারা দিচ্ছে যাতে বিপদ না ঘটে।

বস্তুটির ব্যাস প্রায় ২ মিটার মানে সাড়ে ছ' ফুটের কাছাকাছি এবং প্রায় ততটাই উঁচু। মাথাটা সিলিন্ডারের উপরে গম্বুজের মতো। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর চন্দ্রযান ৩ কিছুদিন আগেই মহাকাশে গিয়েছে। ঠিক তার পরেই অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে এই অংশটি মিলেছে। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, চন্দ্রযান ৩-এর বিপদ ঘটেনি তো? তবে এই রহস্যময় বস্তুর নানা অংশ দেখে বোঝা যাচ্ছে, উপকূলে আসার আগে এটি সমুদ্রে দীর্ঘকাল ধরে ছিল। তাই চন্দ্রযান ৩-এর অংশ হতে পারে না এটি। তবে এর আগেকার নানা উৎক্ষেপণ থেকে রকেটের অংশ ভারত মহাসাগরে অবতরণ করত। এটি তাদের মধ্যে কোনও একটির অংশ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। অনেকে আবার মনে করছেন, নিখোঁজ MH370 বিমানের একটি অংশ এটি। যারা এই বস্তুটি সরিয়ে নিয়ে আসেন তারা জানাচ্ছেন, বিষয়টি যথেষ্ট হালকা। সম্ভবত কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরি এটি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এবার কি সত্যিই আসতে চলেছে ভিনগ্রহীরা? আকাশের 'রহস্যময় আলো' নিয়ে তুলকালাম বিশ্ব

Alien Invasion on The Earth : এক-দু’বার নয়, বেশ অনেকবারই নাকি দেখা গিয়েছে ভিনগ্রহীদের মহাকাশযান! এমন তথ্য পাওয়ার পরই একটু নড়েচড়ে বসেছে সবাই।

ইউরোপিয় মহাকাশ সংস্থার প্রকৌশলী আন্দ্রেয়া বয়েড জানাচ্ছেন, আকৃতি এবং আকারের উপর ভিত্তি করে তারা বেশ নিশ্চিত যে এটি একটি ভারতীয় রকেটের একটি উচ্চ পর্যায়ের ইঞ্জিন যা বিভিন্ন অভিযানের জন্য ব্যবহৃত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির গতি বেড়েছে নিঃসন্দেহে। তাই আশা করা যেতে পারে, বছর এক, দুইয়ের মধ্যেই সমুদ্রে পড়েছে এটি। তবে বয়েড এও বলছেন, বিষয়টির বয়স ২০ বছরেরও বেশি হতে পারে। আসলে সমুদ্রের মধ্যে কিছু পড়লে এটি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ পুরনো দেখায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চাঁদে নামার সাফল্যের হার মাত্র ৫২%, চন্দ্রযান ৩ কি পারবে ইতিহাস গড়তে?

Chandrayaan-3: পৃথিবীর সব মহাকাশ সংস্থাগুলি এখনও পর্যন্ত মোট ৩৮ টি সফট ল্যান্ডিংয়ের চেষ্টা করেছে চাঁদের মাটিতে।

ভারত থেকে উৎক্ষেপণ হওয়ার পরে সাধারণত ভারত মহাসাগরেই এর অংশ খসে পড়তে পারে। আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরে কোরিওলিস বলের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তিক স্রোত উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়, যা অস্ট্রেলিয়া থেকে যেকোনও ধ্বংসাবশেষ দূরে সরিয়ে দেয়। ভারত মহাসাগরের পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল। লিউউইন সমুদ্র স্রোতের মধ্যে পড়া একটি বস্তু সহজেই পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় দিকে চলে যেতে পারে। ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির ডক্টর অ্যালিস গোরম্যান দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, এটি পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল রকেটের তৃতীয় পর্যায়ের অংশ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, কারণ আকারে এটি বেশ বড়।

জাতিসংঘের আউটার স্পেস চুক্তির অধীনে, যে সংস্থা উৎক্ষেপণ করছে তারাই যে কোনও ধরনের মহাকাশ বর্জ্যের জন্য দায়ী। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইনের মতোই এই নিয়মটি কার্যকরী হয়নি। যখন উপগ্রহ বা রকেটের যন্ত্রাংশ পৃথিবীতে পড়ে গুরুতর কোনও ক্ষতি করে তখন ক্ষতিপূরণ সাধারণত সাফাইয়ের খরচের একটি ভগ্নাংশে গিয়ে দাঁড়ায়। তবে, এই ধরনের ঘটনা এখনও পর্যন্ত বিরল।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।