অস্ট্রেলিয়ার সৈকতে চন্দ্রযানের ভাঙা অংশ? রহস্যময় বস্তু নিয়ে যা জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা
Huge Mysterious Metal Object in Australia: চন্দ্রযান ৩ কিছুদিন আগেই মহাকাশে গিয়েছে। ঠিক তার পরেই অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে এই অংশটি মিলেছে।

সমুদ্র কিছুই নেয় না, সব ফিরিয়ে দেয়। 'অমোঘ' এই বাণী শুনে শুনেই বাঙালি দিঘা, পুরী, মন্দারমণি চষে ফেলে এবার পাড়ি দিয়েছে বাঁকিপুট, জুনপুট, মৌসুনী আইল্যান্ডের দিকে। ঝিনুক বিলুপ্ত প্রায়, তাই সৈকতে কাঁকড়া আর আবর্জনা ছাড়া ইদানীং কিছু মেলা মুশকিল। তবে সব সৈকতের কপাল ফুটো নয়। বালি ঘাঁটতে ঘাঁটতে সেখানে অমূল্য রতন মেলে। সম্প্রতি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার গ্রিন হেডের একটি সমুদ্র সৈকতে এক প্রকাণ্ড ধাতব বস্তু দেখা গিয়েছে। জিনিসটা যে কী ঠাহর করা মুশকিল। জাহাজের ভেঙে পড়া অংশ? কোনও বিশাল পাত্র? কোনও যন্ত্র? মহাকাশ যানের টুকরো? নাকি স্পেসশিপ! সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন এই নিয়েই হইচই। অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি এই অজ্ঞাত বস্তুর ঠিকুজি বের করার দায়িত্ব পেয়েছে। তার মানে স্পেসশিপ? এমন উৎফুল্ল হওয়ার কারণ অবশ্য মেলেনি। তারা মনে করছেন, এটি সম্ভবত একটি রকেটের অংশ। প্রাথমিকভাবে পার্থের ২৫০ কিলোমিটার উত্তরে এই জায়গাটির কাছাকাছি থাকা মানুষদের একটু সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা কারণ এই রহস্যময় বস্তুটির বিপজ্জনক হওয়ার সম্ভাবনাও এখনই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেই রাজ্যের দমকল বিভাগ যদিও বস্তুটিকে নিরাপদ বলেই ঘোষণা করেছে, তবে পুলিশ এটিকে পাহারা দিচ্ছে যাতে বিপদ না ঘটে।
বস্তুটির ব্যাস প্রায় ২ মিটার মানে সাড়ে ছ' ফুটের কাছাকাছি এবং প্রায় ততটাই উঁচু। মাথাটা সিলিন্ডারের উপরে গম্বুজের মতো। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর চন্দ্রযান ৩ কিছুদিন আগেই মহাকাশে গিয়েছে। ঠিক তার পরেই অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে এই অংশটি মিলেছে। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, চন্দ্রযান ৩-এর বিপদ ঘটেনি তো? তবে এই রহস্যময় বস্তুর নানা অংশ দেখে বোঝা যাচ্ছে, উপকূলে আসার আগে এটি সমুদ্রে দীর্ঘকাল ধরে ছিল। তাই চন্দ্রযান ৩-এর অংশ হতে পারে না এটি। তবে এর আগেকার নানা উৎক্ষেপণ থেকে রকেটের অংশ ভারত মহাসাগরে অবতরণ করত। এটি তাদের মধ্যে কোনও একটির অংশ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। অনেকে আবার মনে করছেন, নিখোঁজ MH370 বিমানের একটি অংশ এটি। যারা এই বস্তুটি সরিয়ে নিয়ে আসেন তারা জানাচ্ছেন, বিষয়টি যথেষ্ট হালকা। সম্ভবত কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরি এটি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Alien Invasion on The Earth : এক-দু’বার নয়, বেশ অনেকবারই নাকি দেখা গিয়েছে ভিনগ্রহীদের মহাকাশযান! এমন তথ্য পাওয়ার পরই একটু নড়েচড়ে বসেছে সবাই।

ইউরোপিয় মহাকাশ সংস্থার প্রকৌশলী আন্দ্রেয়া বয়েড জানাচ্ছেন, আকৃতি এবং আকারের উপর ভিত্তি করে তারা বেশ নিশ্চিত যে এটি একটি ভারতীয় রকেটের একটি উচ্চ পর্যায়ের ইঞ্জিন যা বিভিন্ন অভিযানের জন্য ব্যবহৃত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির গতি বেড়েছে নিঃসন্দেহে। তাই আশা করা যেতে পারে, বছর এক, দুইয়ের মধ্যেই সমুদ্রে পড়েছে এটি। তবে বয়েড এও বলছেন, বিষয়টির বয়স ২০ বছরেরও বেশি হতে পারে। আসলে সমুদ্রের মধ্যে কিছু পড়লে এটি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ পুরনো দেখায়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Chandrayaan-3: পৃথিবীর সব মহাকাশ সংস্থাগুলি এখনও পর্যন্ত মোট ৩৮ টি সফট ল্যান্ডিংয়ের চেষ্টা করেছে চাঁদের মাটিতে।
ভারত থেকে উৎক্ষেপণ হওয়ার পরে সাধারণত ভারত মহাসাগরেই এর অংশ খসে পড়তে পারে। আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরে কোরিওলিস বলের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তিক স্রোত উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়, যা অস্ট্রেলিয়া থেকে যেকোনও ধ্বংসাবশেষ দূরে সরিয়ে দেয়। ভারত মহাসাগরের পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল। লিউউইন সমুদ্র স্রোতের মধ্যে পড়া একটি বস্তু সহজেই পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় দিকে চলে যেতে পারে। ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির ডক্টর অ্যালিস গোরম্যান দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, এটি পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল রকেটের তৃতীয় পর্যায়ের অংশ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, কারণ আকারে এটি বেশ বড়।
জাতিসংঘের আউটার স্পেস চুক্তির অধীনে, যে সংস্থা উৎক্ষেপণ করছে তারাই যে কোনও ধরনের মহাকাশ বর্জ্যের জন্য দায়ী। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইনের মতোই এই নিয়মটি কার্যকরী হয়নি। যখন উপগ্রহ বা রকেটের যন্ত্রাংশ পৃথিবীতে পড়ে গুরুতর কোনও ক্ষতি করে তখন ক্ষতিপূরণ সাধারণত সাফাইয়ের খরচের একটি ভগ্নাংশে গিয়ে দাঁড়ায়। তবে, এই ধরনের ঘটনা এখনও পর্যন্ত বিরল।















