হামাসের কবল থেকে কবে ফিরবে প্রিয়জনেরা? শয্যা সাজিয়ে অপেক্ষায় জেরুজালেম

Israel-Hamas war: পরিবারের লোকেদের অপেক্ষা দীর্ঘতর হচ্ছে ক্রমশ। আর সে কথা মনে করিয়ে দিতেই কিবুটজ নির ওজের সদস্যরা ২৩৯টি খালি বিছানা পেতে রেখেছে জেরুজালেমের সাফরা স্কোয়ারে।

Sohini Das
৩ মিনিট
হামাসের কবল থেকে কবে ফিরবে প্রিয়জনেরা? শয্যা সাজিয়ে অপেক্ষায় জেরুজালেম

একদিকে গাজায় আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়ে চলেছে ইজরায়েল। হাসপাতাল থেকে শুরু করে গির্জা, ইজরায়েলের আগ্রাসনের হাত থেকে গাজায় বেঁচে নেই কিছুই। এমনকী শরণার্থী শিবিরগুলিকেও ছাড়ছে না নেতানিয়াহু সেনা। হামাস কম্যান্ডারদের খতম করতে গিয়ে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে অসংখ্য নিরাপরাধ মানুষ। অন্য়দিকে, ৭ অক্টোবর ইজরায়েল থেকে যে সব নিরপরাধ মানুষকে অপহরণ করে বন্দি করেছিল হামাস জঙ্গিরা, তাদের খোঁজ নেই এখনও। কেমন আছে তাঁরা, কোনওদিন বাড়ি ফেরা হবে কি তাদের, সে নিয়ে আদৌ কোনও মাথাব্যথা আছে ইজরায়েল সরকারের?

গত ৭ অক্টোবর ইজরায়েলের সমস্ত দিক দিয়ে আচমকা ঢুকে পড়েছিল হামাস জঙ্গিরা। অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের প্রাণ যায়। বন্দি বানিয়ে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয় অসংখ্য ইজরায়েলবাসীকে। কিবতুজ নির ওজ ছিল সেদিন হামাসদের হামলার কেন্দ্রস্থল। সেখানকার অসংখ্য মানুষকে অপহরণ করে জঙ্গিরা। তাঁরা আজও বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের লোকেদের অপেক্ষা দীর্ঘতর হচ্ছে ক্রমশ। আর সে কথা মনে করিয়ে দিতেই কিবুটজ নির ওজের সদস্যরা ২৩৯টি খালি বিছানা পেতে রেখেছে জেরুজালেমের সাফরা স্কোয়ারে। সেইসব বিছানা সাজিয়ে দিয়েছে তাঁরা প্রিয়জনদের ব্যক্তিগত পছন্দের জিনিসে। বালিশ, বিছানা, কম্বল, পছন্দের সামগ্রী প্রতিমুহূর্তে মনে করিয়ে দিচ্ছে এতগুলো মানুষ একদিন ধরে নিখোঁজ, তাঁরা ঘরে ফেরেনি। যাঁদের নিয়ে এতদিন ধরে তেমন মাথাব্যথা দেখায়নি ইজরায়েল সরকার। সেই সব বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেছেন পরিবারের মানুষ।

হামাসদের জিম্মায় থাকা সেই সব অসংখ্য ইজরায়েলবাসীর পরিবারের ফোরামোর তরফে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে এই মর্মে। ইজরায়েলি সরকারের কাছে তাদের দাবি, হামাসদের কবলে থাকা নিরাপরাধ সাধারণ মানুষ ও নিখোঁজ সেনাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুক নেতানিয়াহু সরকার। এই ঘটনা মানবতার পক্ষে অপরাধ বলেই জানিয়েছে তারা। ১ নভেম্বর দুপুর পর্যন্ত জেরুজালেমের সাফরা স্কোয়ারে ওই খালি বিছানার প্রদর্শনী করা হবে। তারপর ওই খালি বিছানাগুলি গাজা এনভেলোপের পরিবারগুলিকে দান করা হবে বলে জানানো হয়েছে হামাসদের হাতে বন্দিদের পরিবারের তরফে। সম্প্রতি নিখোঁজ মানুষের পরিবারের ফোরামের হেডকোয়ার্টারের তরফে জানানো হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বোমা-রকেটে ছারখার গাজা! কেন পিরিয়ড বন্ধের ওষুধ খুঁজছেন যুদ্ধবিধ্বস্ত মহিলারা!

Gaza Women Period Control : যে কয়েকটি দোকান ও ফার্মেসি খোলা আছে সেখানে পর্যাপ্ত স্যানিটারি প্যাড নেই। জলের অভাব চরম।

৭ অক্টোবরের ঘটনায় বিধ্বস্ত কিবুটজের সদস্য়রা সারা দেশ জুড়ে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করছেন। মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। অথচ হামাসদের হাতে বন্দি ইজরায়েলবাসীর জন্য বিন্দুমাত্র ভাবছে না বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকার। ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সের তরফে জানানো হয়েছে, গাজায় হামাসের হাতে বন্দির সংখ্যা ২৪০-এর কাছাকাছি। ইতিমধ্যেই হামাসের হাতে অপহৃত এক ইজরায়েলি সেনাকে উদ্ধার করেছে আইডিএফ। তবে বাকিদের ভবিষ্যৎ এখনও ঝুলছে হামাসের হাতে, গাজায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ হামলা! হামাস কমান্ডার হত্যার নামে কেবল নাগরিক হত্যা ইজরায়েলের?

Gaza Jabalia Camp Strike :হামাস বলছে, ওই শিবিরে কোনও সিনিয়র কমান্ডারকে ছিলেন না। ফলে তাঁকে হত্যা করার যে দাবি করছে ইজরায়েল তা ভুয়ো।

এদিকে গাজায় ইজরায়েল যত আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়েছে, ততই বন্দিদের নিয়ে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে হামাস। জঙ্গিগোষ্ঠী হামাসের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে বেশ কয়েক জন বিদেশি বন্দিকে মুক্তি দেবে তারা। পাশাপাশি গাজাকে ইজরায়েলি সেনার কবরস্থানে পরিণত করার হুমকি দিয়েছে তারা। ইতিমধ্যেই বন্দিমুক্তি নিয়ে বেশ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতা করেছে হামাসের সঙ্গে। হামাসের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বেশ কয়েকজন বিদেশি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

৭ অক্টোবরের পর ইজরায়েলের বহু মানুষকে বন্দি বানিয়ে গাজায় নিয়ে এসেছিল হামাস। ইজরায়েল জুড়ে ভয়ঙ্কর গুলি-বোমার হামলা তো চালিয়েছিলই। এখনও পর্যন্ত বন্দিদের মধ্যে পাঁচজনকে মুক্তি দিয়েছে জঙ্গিরা। তার মধ্যে বেশিরভাগই বিদেশি। হামাস জঙ্গিদের খতম করার নামে বারবার যে ভয়ানক হামলা চালিয়ে চলেছে ইজরায়েলি সেনা, তাতে সাড়ে আট হাজারেরও বেশি সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে অন্তত সাড়ে ৩ হাজারের বেশি শিশু।

গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুটছে গাজা। যে ভাবে মঙ্গলবার গভীর রাতে অতর্কিতে আকাশপথে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল, তা অ্যালার্মিং বলেই জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা। গাজায় যেভাবে মানবাধিকারের লঙ্ঘন হচ্ছে, তা কার্যত নজিরবিহীন। এদিনের হামলায় কম করে হলেও ৫০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে গাজায়। আলজাজিরা সংবাদমাধ্যমের এক ইঞ্জিনিয়ারের ১৯ জন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে ওই হামলায়। প্যালেস্টাইনে বোমা ফেলে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে সমস্ত যোগাযোগব্যবস্থা। বন্দ ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ। জল নেই, খাবার নেই, ভয়ানক অবস্থায় রয়েছে গোটা গাজা। রাফা ক্রসিং দিয়ে মিশরের হাসপাতালে যাতে জখম ফিলিস্তিনিদের নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়, তার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। কবে থামবে গাজায় এই ভয়ঙ্কর রক্তক্ষয়ী হামলা? কবে নিজের দেশে ফিরবে গাজায় হামাসের হাতে বন্দি নিরপরাধ ইজরায়েলিরা। এই প্রশ্নের উত্তর বোধহয় নেই কারওর কাছেই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।