শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ হামলা! হামাস কমান্ডার হত্যার নামে কেবল নাগরিক হত্যা ইজরায়েলের?
Gaza Jabalia Camp Strike :হামাস বলছে, ওই শিবিরে কোনও সিনিয়র কমান্ডারকে ছিলেন না। ফলে তাঁকে হত্যা করার যে দাবি করছে ইজরায়েল তা ভুয়ো।

চার সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছে যুদ্ধের। ইজরায়েল হামাস জঙ্গিগোষ্ঠীকে শেষ করতে গাজা আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। হামাসকে হত্যা করতে গিয়ে প্রায় ১০ হাজার সাধারণ মানুষের প্রাণ গিয়েছে, অর্ধেকই শিশু। তবু থামেনি ইজরায়েল। ইজরায়েল জানাচ্ছে, তাদের একটি যুদ্ধবিমান একজন সিনিয়র হামাস কমান্ডারকে হত্যা করেছে। এই হামাস কমান্ডার ৭ অক্টোবরের ইজরায়েল হামলার জন্য দায়ী। ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এক্স-এ (আগের টুইটার) জানিয়েছে হামাসের সেন্ট্রাল জাবালিয়া ব্যাটালিয়নের কমান্ডার ইব্রাহিম বিয়ারিকে হত্যা করা হয়েছে।
আইডিএফ আরও জানাচ্ছে, জাবালিয়া ক্যাম্প এলাকায় তাঁদের হামলাতে হামাসের একাধিক নেতা এবং হামাসের নিয়ন্ত্রণ দুইই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একা ইব্রাহিম বিয়ারিই নন, তাঁর সঙ্গে থাকা বিপুল সংখ্যক সন্ত্রাসবাদীকেও নির্মূল করেছে ইজরায়েল। হামাসের একটি ভূগর্ভস্থ পরিকাঠামোও এই হামলার পরে ধসে পড়েছে। আইডিএফ ওই এলাকার বাসিন্দাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দক্ষিণে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আবারও।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Gaza Children Death : গাজার অনেক চিকিৎসক জানাচ্ছেন, নিহত ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহে যে পোড়া আঘাত তারা দেখেছেন তা দেখে বোঝা যাচ্ছে ইজরায়েল আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করছে।
রয়টার্স জানাচ্ছে, আইডিএফ গাজা উপত্যকায় একটি ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরে হামলা চালায়। বিয়ারি ছাড়াও কমপক্ষে ৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন তাতে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শরণার্থী শিবিরের বিস্ফোরণে অন্তত ৫০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৫০ জন আহত হয়েছেন। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলছেন, ওই শিবিরে কোনও সিনিয়র কমান্ডারকে ছিলেন না। ফলে তাঁকে হত্যা করার যে দাবি করছে ইজরায়েল তা ভুয়ো। আসলে কমান্ডার হত্যার অজুহাতে নাগরিকদেরই হত্যা করছে ইজরায়েল। হামাসের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাবালিয়ায় ৪০০ জন নিহত ও আহত হয়েছে। এই ক্যাম্পে ১৯৪৮ সালের ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের শরণার্থীদের পরিবার রয়েছে।
শরণার্থী শিবিরে এই বোমা হামলা সমগ্র আরব বিশ্ব জুড়ে ক্ষোভকে বাড়িয়ে তুলেছে আরও বিপুল হারে। ইজরায়েলি বিমান হামলা গাজাকে শিশুদের কবরস্থানে পরিণত করেছে। ২৫ দিন ধরে যুদ্ধ চলছে গাজায়। উত্তর গাজার শরণার্থী শিবিরে এই হামলার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ৪৭টি মৃতদেহ বের করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া লোহার রড সরিয়ে, কংক্রিটের চাঙড় সরিয়ে, দু'টি বিশাল গর্তের মধ্যে বেঁচে থাকা মানুষদের সন্ধান করছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Israel Hamas War : অপহৃতা শানি লুককে পিকআপ ট্রাকেই মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী কি জানত না জাবালিয়ায় এত এত নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিক রয়েছে? ইজরায়েলের সেনার এক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিচার্ড হেচট বলেছেন, ইজরায়েল একটি জটিল অভিযানে রয়েছে। সাধারণ মানুষের হতাহতের সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করেছে ইজরায়েল। যারা হামাসের সঙ্গে জড়িত নয় তাঁদের দক্ষিণে সরে যেতে বলা হয়েছে। আর গাজার মানুষরা বলছেন, সমগ্র গাজাই আসলে বধ্যভূমি, কেবল উত্তর নয়। দক্ষিণে গেলেও যে প্রাণে বাঁচবেন তার নিশ্চয়তা নেই। আস্ত গাজাটাই জীবন্ত নরক।
মঙ্গলবার একটি চুক্তির খবর প্রকাশ্যে আসে যেখানে প্রায় ৮০ জন গুরুতর আহত ফিলিস্তিনিকে মিশরে চিকিৎসার জন্য রাফাহ সীমান্ত অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন মার্কিন নাগরিকদের গাজা ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য একটি চুক্তির বিষয়ে কাতার এবং মিশরের সঙ্গে কথা চলছে।
হামাসের হামলার পর থেকে, ইজরায়েল গাজাতে খাবার, পানীয়, ওষুধ সবকিছুরই সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। নাগরিকের পাশাপাশি হামাসের জঙ্গিরাও খাবার ও অন্য রসদ পেয়ে যাবে এত আশঙ্কায় সব বন্ধ করে দেওয়া হয়। দৈনিক গড়ে ১৪ ট্রাক খাবার, জল এবং ওষুধ সরবরাহ করছে। ২.৩ মিলিয়ন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কমপক্ষে ১০০টি ট্রাক দরকার পড়ে। আগে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ ট্রাক গাজায় প্রবেশ করত।















