শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ হামলা! হামাস কমান্ডার হত্যার নামে কেবল নাগরিক হত্যা ইজরায়েলের?

Gaza Jabalia Camp Strike :হামাস বলছে, ওই শিবিরে কোনও সিনিয়র কমান্ডারকে ছিলেন না। ফলে তাঁকে হত্যা করার যে দাবি করছে ইজরায়েল তা ভুয়ো।

inscript
২ মিনিট
শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ হামলা! হামাস কমান্ডার হত্যার নামে কেবল নাগরিক হত্যা ইজরায়েলের?

চার সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছে যুদ্ধের। ইজরায়েল হামাস জঙ্গিগোষ্ঠীকে শেষ করতে গাজা আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। হামাসকে হত্যা করতে গিয়ে প্রায় ১০ হাজার সাধারণ মানুষের প্রাণ গিয়েছে, অর্ধেকই শিশু। তবু থামেনি ইজরায়েল। ইজরায়েল জানাচ্ছে, তাদের একটি যুদ্ধবিমান একজন সিনিয়র হামাস কমান্ডারকে হত্যা করেছে। এই হামাস কমান্ডার ৭ অক্টোবরের ইজরায়েল হামলার জন্য দায়ী। ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এক্স-এ (আগের টুইটার) জানিয়েছে হামাসের সেন্ট্রাল জাবালিয়া ব্যাটালিয়নের কমান্ডার ইব্রাহিম বিয়ারিকে হত্যা করা হয়েছে।

আইডিএফ আরও জানাচ্ছে, জাবালিয়া ক্যাম্প এলাকায় তাঁদের হামলাতে হামাসের একাধিক নেতা এবং হামাসের নিয়ন্ত্রণ দুইই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একা ইব্রাহিম বিয়ারিই নন, তাঁর সঙ্গে থাকা বিপুল সংখ্যক সন্ত্রাসবাদীকেও নির্মূল করেছে ইজরায়েল। হামাসের একটি ভূগর্ভস্থ পরিকাঠামোও এই হামলার পরে ধসে পড়েছে। আইডিএফ ওই এলাকার বাসিন্দাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দক্ষিণে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আবারও।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গাজায় নিথর ৩,৫০০ শিশু! বেঁচে থাকা সন্তানদের গায়ে নাম লিখে রাখছেন কেন মা-বাবারা?

Gaza Children Death : গাজার অনেক চিকিৎসক জানাচ্ছেন, নিহত ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহে যে পোড়া আঘাত তারা দেখেছেন তা দেখে বোঝা যাচ্ছে ইজরায়েল আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করছে।

রয়টার্স জানাচ্ছে, আইডিএফ গাজা উপত্যকায় একটি ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরে হামলা চালায়। বিয়ারি ছাড়াও কমপক্ষে ৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন তাতে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শরণার্থী শিবিরের বিস্ফোরণে অন্তত ৫০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৫০ জন আহত হয়েছেন। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলছেন, ওই শিবিরে কোনও সিনিয়র কমান্ডারকে ছিলেন না। ফলে তাঁকে হত্যা করার যে দাবি করছে ইজরায়েল তা ভুয়ো। আসলে কমান্ডার হত্যার অজুহাতে নাগরিকদেরই হত্যা করছে ইজরায়েল। হামাসের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাবালিয়ায় ৪০০ জন নিহত ও আহত হয়েছে। এই ক্যাম্পে ১৯৪৮ সালের ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের শরণার্থীদের পরিবার রয়েছে।

শরণার্থী শিবিরে এই বোমা হামলা সমগ্র আরব বিশ্ব জুড়ে ক্ষোভকে বাড়িয়ে তুলেছে আরও বিপুল হারে। ইজরায়েলি বিমান হামলা গাজাকে শিশুদের কবরস্থানে পরিণত করেছে। ২৫ দিন ধরে যুদ্ধ চলছে গাজায়। উত্তর গাজার শরণার্থী শিবিরে এই হামলার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ৪৭টি মৃতদেহ বের করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া লোহার রড সরিয়ে, কংক্রিটের চাঙড় সরিয়ে, দু'টি বিশাল গর্তের মধ্যে বেঁচে থাকা মানুষদের সন্ধান করছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জয়ী না হওয়া অবধি যুদ্ধ চলবে! ৮,৩০০ মৃত্যুর পর কোন পথে এগোবে ইজরায়েল?

Israel Hamas War : অপহৃতা শানি লুককে পিকআপ ট্রাকেই মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী কি জানত না জাবালিয়ায় এত এত নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিক রয়েছে? ইজরায়েলের সেনার এক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিচার্ড হেচট বলেছেন, ইজরায়েল একটি জটিল অভিযানে রয়েছে। সাধারণ মানুষের হতাহতের সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করেছে ইজরায়েল। যারা হামাসের সঙ্গে জড়িত নয় তাঁদের দক্ষিণে সরে যেতে বলা হয়েছে। আর গাজার মানুষরা বলছেন, সমগ্র গাজাই আসলে বধ্যভূমি, কেবল উত্তর নয়। দক্ষিণে গেলেও যে প্রাণে বাঁচবেন তার নিশ্চয়তা নেই। আস্ত গাজাটাই জীবন্ত নরক।

মঙ্গলবার একটি চুক্তির খবর প্রকাশ্যে আসে যেখানে প্রায় ৮০ জন গুরুতর আহত ফিলিস্তিনিকে মিশরে চিকিৎসার জন্য রাফাহ সীমান্ত অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন মার্কিন নাগরিকদের গাজা ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য একটি চুক্তির বিষয়ে কাতার এবং মিশরের সঙ্গে কথা চলছে।

হামাসের হামলার পর থেকে, ইজরায়েল গাজাতে খাবার, পানীয়, ওষুধ সবকিছুরই সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। নাগরিকের পাশাপাশি হামাসের জঙ্গিরাও খাবার ও অন্য রসদ পেয়ে যাবে এত আশঙ্কায় সব বন্ধ করে দেওয়া হয়। দৈনিক গড়ে ১৪ ট্রাক খাবার, জল এবং ওষুধ সরবরাহ করছে। ২.৩ মিলিয়ন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কমপক্ষে ১০০টি ট্রাক দরকার পড়ে। আগে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ ট্রাক গাজায় প্রবেশ করত।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।