চিনকে হারাল ভারত! কীভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার মালিক হলো এই দেশ?
Most Populous Country India: ২০১১ সাল থেকে আদমশুমারি করা হয়নি ভারতে। ২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারীর কারণে তা হয়নি

জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লয়েছে, অবশেষে রয়েছে। ভারতবর্ষ এখন চিনের থেকেও এগিয়ে! অন্যান্য ক্ষেত্রে টেক্কা না দিতে পারলেও জনসংখ্যার দিক থেকে প্রতিবেশী চিনরাষ্ট্রকে টপকে গিয়েছে ভারত। জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভারতবর্ষের জনসংখ্যা ১৪২.৮৬ কোটি! ফলে এত এত মানুষকে বগলদাবা করে জনসংখ্যা নিরিখে চিনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হয়ে উঠেছে আমাদের দেশ। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, চিনের এখন জনসংখ্যা ১৪২.৫৭ কোটি, দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল দেশ চিন। জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে যে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি বিশ্বের জনসংখ্যা ৮.০৪৫ বিলিয়ন হবে।
জাতিসংঘের বিশ্ব জনসংখ্যার তথ্য বলছে, ভারতের জনসংখ্যার ২৫ শতাংশের বয়স ০-১৪ বছরের মধ্যে, ১৮ শতাংশ মানুষ রয়েছেন ১০-১৯ বছর বয়সের গণ্ডিতে, ২৬ শতাংশ জনসংখ্যার বয়স ১০-২৪ বছর, ১৫-৬৪ বছর বয়সিদের আছে ৬৮ শতাংশ এবং ৬৫ বছরের উপরে আছে ৭ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেরল এবং পঞ্জাবে বয়স্ক জনসংখ্যা বেশি রয়েছে, অন্যদিকে উত্তর প্রদেশ এবং বিহারে তরুণ জনসংখ্যা বেশি রয়েছে।
বিভিন্ন সংস্থা পরিচালিত বেশ কিছু গবেষণায় দেখানো হয়েছে, ভারতের জনসংখ্যা ১৬৫ কোটিতে পৌঁছনোর আগে প্রায় তিন দশক ধরে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তারপর জনসংখ্যা কমতে শুরু করবে বলেই জানানো হয়েছে ওই প্রতিবেদনগুলিতে। ১৯৫০ সাল থেকে জনসংখ্যার তথ্য সংগ্রহ করা শুরু হয়। সেই থেকে এই প্রথমবার ভারত সর্বাধিক জনবহুল দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। জন্মহার কমে যাওয়া এবং শ্রমশক্তির বয়স বাড়ার কারণে চিন জনসংখ্যাগত পতনের মুখোমুখি হচ্ছে। বেশ কয়েকটি অঞ্চলে জন্মহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছে চিন, কিন্তু সরকারি প্রচেষ্টা এখনও জনসংখ্যা হ্রাস রুখতে ব্যর্থ হয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
China's Population Shrinks: ২০২২ সালের শেষে চিনের জনসংখ্যা প্রায় ১,৪১১,৭৫০,০০০-এ দাঁড়িয়েছে

তবে মনে রাখতে হবে, ২০১১ সাল থেকে আদমশুমারি করা হয়নি ভারতে। ২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারীর কারণে তা হয়নি, তাই ভারতের কাছে নিজের জনসংখ্যা সম্পর্কিত সাম্প্রতিক কোনও সরকারি তথ্য নেই।

জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) ভারতের প্রতিনিধি আন্দ্রেয়া ওয়াজনারের মতে, "ভারতের ১.৪ বিলিয়ন মানুষকে অবশ্যই ১.৪ বিলিয়ন সুযোগ হিসাবে দেখা উচিত। সর্ববৃহৎ যুবদলের দেশ হিসাবে (ভারতের জনসংখ্যার ২৫৪ মিলিয়ন যুব সম্প্রদায়ের মানুষ, ১৫-২৪ বছর বয়সি) উদ্ভাবন, নতুন চিন্তাভাবনা এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের উত্স হতে পারে এই জনসংখ্যা।"
আন্দ্রেয়ার মতে, ভারতের নারীরা যদি সমান শিক্ষাগত এবং দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ, প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল উদ্ভাবনের সুযোগ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে নিজেদের প্রজনন অধিকার এবং পছন্দগুলি সম্পূর্ণরূপে প্রয়োগ করার জন্য তথ্য ও ক্ষমতা পায় তবে ভারত এগিয়ে যেতে পারে। জাতিসংঘের এই কর্মকর্তার মতে, লিঙ্গসাম্য, ক্ষমতায়ন এবং নারীদের জন্য বৃহত্তর শারীরিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করাই টেকসই ভবিষ্যতের মূল নির্ধারক।
যৌন এবং প্রজনন নীতির মূলে রাখতে হবে মহিলাদের। সমস্ত মানুষের অধিকার, পছন্দ এবং সমান মূল্যকে সত্যি করে যদি সম্মান করা হয় তাহলেই ভবিষ্যতের অসীম সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে। কিন্তু ভারতে আদৌ সম্ভব? ভারতের রাজনীতিতে এবং কেন্দ্রের হাতে থাকা আইনে এই বিষয়ক কোনও সুরাহা কি দেখতে পাচ্ছেন শুভবুদ্ধির মানুষরা?















