আপের বাজিমাত, বেকায়দায় তৃণমূল, কেন জাতীয় দলের তকমা হারাল ঘাসফুল শিবির?

TMC National Party Status Loss : এতদিন জাতীয় দলের মর্যাদা পেয়ে আসছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। এবার সেই তকমাও হারাল ঘাসফুল শিবির।

inscript
৩ মিনিট
আপের বাজিমাত, বেকায়দায় তৃণমূল, কেন জাতীয় দলের তকমা হারাল ঘাসফুল শিবির?

এই মুহূর্তে ভারতের মাটিতে চলছে ক্রিকেটের মরসুম। আইপিএলের দামামা তো প্রতিবারই এই সময় বেজে ওঠে। তবে এসবের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানও নিজের খেল দেখাচ্ছে। ২০২২ সালের শেষের দিকে গুজরাত নির্বাচন থেকে শুরু হয়েছে ভোটের মেলা। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনের ঘণ্টা বাজবে। পশ্চিমবঙ্গেও আসন্ন পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে উত্তেজনা ও রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। তবে এসবের মধ্যেই রীতিমতো বড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এতদিন জাতীয় দলের মর্যাদা পেয়ে আসছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। এবার সেই তকমাও হারাল ঘাসফুল শিবির। এবার থেকে জাতীয় দলের তকমা তো বটেই, কোনও সুযোগ সুবিধাও পাবে না তৃণমূল।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছিল, কেন এখনও জাতীয় দলের তকমা ধরে রেখেছে তৃণমূল। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্কও উঠেছে। এই প্রসঙ্গে কথা বলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং খোদ দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু জাতীয় দলের তকমা তখনও কায়েম ছিল। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন থেকে এই জাতীয় দলের ইস্যু নিয়েই প্রশ্ন করা হয়েছিল তৃণমূলকে। তারপরই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা।

ঠিক কী বলা হয়েছে? নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ঘাসফুল শিবিরকে জাতীয় দলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। কেবল তৃণমূল নয়, সিপিআই-কেও জাতীয় দলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বদলে সেই জায়গায় উঠে এসেছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি বা আপ। তবে তৃণমূল যে এই সিদ্ধান্তে খুশি নয়, সেটা প্রথম থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দিকেও পা বাড়িয়েছে তারা। অন্যদিকে, জাতীয় দলের তকমা পাওয়ায় আপের মুকুটে নতুন পালকও জুড়ল। বিরোধি শক্তির মুখ হিসেবে তাহলে উঠে আসবেন কেজরিওয়াল?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অনুব্রতর ফিসচুলায় রক্ত, মেঝেতেই ঘুমোন পার্থ, কেমন আছেন তৃণমূলের পুরাতনীরা?

Anubrata Partha Conditions TMC : তৃণমূলের একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ দুই নেতা এখন আর মাঠে ময়দানে নেই। কেমন আছেন তৃণমূলের পুরনো নেতারা?

সেসব তো সময় বলবে। তবে জাতীয় দলের তকমা পাওয়া বা হারানো, এগুলো কাদের ওপর নির্ভর করে? ঠিক কোন কোন বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখা হয়? উল্লেখ্য, কেন্দ্রের প্রধান নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে কোনও রাজনৈতিক দলকে এই তকমা দেওয়া হয়। তবে নিজে থেকে ইচ্ছেমতো এটি দেওয়া যায় না। জাতীয় দলের মর্যাদা পেতে হলে বেশকিছু শর্ত মানতে হবে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, মোট তিনটে শর্ত আছে –

১) লোকসভা নির্বাচনে ওই নির্দিষ্ট দলকে কমপক্ষে তিনটি রাজ্য থেকে ভোটে দাঁড়াতে হবে। এবং সেখানে দুই শতাংশ আসনে জিততেও হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
‘নোটা’র কাছেও গো হারা হারল তৃণমূল! কেন ত্রিপুরায় এমন ভরাডুবি হল জোড়াফুলের?

Tripura assembly election 2023 results : ২০২১ সালের পুরভোটে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় প্রায় ২০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল তৃণমূল। সেবারের ভোটে জেতা প্রার্থীও ছিল জোড়া ফুলের। তবে কেন এমন পরিস্থিতি হল?

২) লোকসভা কিংবা বিধানসভা – যে কোনও একটি নির্বাচনে অন্তত চারটি রাজ্যে ৬ শতাংশ করে ভোট পেতে হবে। এরই পাশাপাশি চারটি আসনও পেতে হবে।

৩) কমপক্ষে চারটি রাজ্যের মধ্যে রাজ্য দলের তকমা পেতে হবে সংশ্লিষ্ট দলকে।

এই তিনটির মধ্যে যে কোনও একটি শর্ত পূরণ করলেই জাতীয় দলের মর্যাদা পাওয়া যাবে। ১৯৯৮ সালে তৈরি হওয়া তৃণমূল কংগ্রেস সেই শর্ত পূরণ করে ২০১৬ সালে। তাই ওই বছরই জাতীয় দলের মর্যাদা পায় ঘাসফুল। তৃণমূল কংগ্রেস হয়ে যায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের নির্বাচনগুলিতে তৃণমূল সেভাবে দাগ কাটতে পারেনি। পশ্চিমবঙ্গ আর কিছুটা মেঘালয় ছাড়া আর কোনও রাজ্যে দাঁত ফোটাতে পারেনি মমতা ব্রিগেড। অন্যদিকে দিল্লি, গোয়া, পাঞ্জাব ও গুজরাত নির্বাচনে অভাবনীয় ফলাফল দেখিয়েছে আম আদমি পার্টি। সেজন্য জাতীয় দলের শিরোপা তার মাথায়।

আপাতত এই তকমা হারানোর ফলে ‘সর্বভারতীয়’ শব্দটি আর ব্যবহার করতে পারবে না তৃণমূল। ইভিএমে প্রথম সারিতে নামও থাকবে না দলের। সেইসঙ্গে নির্বাচনের দিন কিংবা বিধি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বৈঠকে সর্বভারতীয় দলগুলির মতামত নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে তৃণমূল সেই অধিকারও হারাল। তবে পরে নির্বাচনের মাধ্যমে শর্ত পূরণ করলে ফের জাতীয় দলের তকমা পেতে পারে ঘাসফুল।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।