আপের বাজিমাত, বেকায়দায় তৃণমূল, কেন জাতীয় দলের তকমা হারাল ঘাসফুল শিবির?
TMC National Party Status Loss : এতদিন জাতীয় দলের মর্যাদা পেয়ে আসছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। এবার সেই তকমাও হারাল ঘাসফুল শিবির।

এই মুহূর্তে ভারতের মাটিতে চলছে ক্রিকেটের মরসুম। আইপিএলের দামামা তো প্রতিবারই এই সময় বেজে ওঠে। তবে এসবের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানও নিজের খেল দেখাচ্ছে। ২০২২ সালের শেষের দিকে গুজরাত নির্বাচন থেকে শুরু হয়েছে ভোটের মেলা। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনের ঘণ্টা বাজবে। পশ্চিমবঙ্গেও আসন্ন পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে উত্তেজনা ও রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। তবে এসবের মধ্যেই রীতিমতো বড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এতদিন জাতীয় দলের মর্যাদা পেয়ে আসছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। এবার সেই তকমাও হারাল ঘাসফুল শিবির। এবার থেকে জাতীয় দলের তকমা তো বটেই, কোনও সুযোগ সুবিধাও পাবে না তৃণমূল।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছিল, কেন এখনও জাতীয় দলের তকমা ধরে রেখেছে তৃণমূল। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্কও উঠেছে। এই প্রসঙ্গে কথা বলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং খোদ দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু জাতীয় দলের তকমা তখনও কায়েম ছিল। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন থেকে এই জাতীয় দলের ইস্যু নিয়েই প্রশ্ন করা হয়েছিল তৃণমূলকে। তারপরই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা।
ঠিক কী বলা হয়েছে? নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ঘাসফুল শিবিরকে জাতীয় দলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। কেবল তৃণমূল নয়, সিপিআই-কেও জাতীয় দলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বদলে সেই জায়গায় উঠে এসেছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি বা আপ। তবে তৃণমূল যে এই সিদ্ধান্তে খুশি নয়, সেটা প্রথম থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দিকেও পা বাড়িয়েছে তারা। অন্যদিকে, জাতীয় দলের তকমা পাওয়ায় আপের মুকুটে নতুন পালকও জুড়ল। বিরোধি শক্তির মুখ হিসেবে তাহলে উঠে আসবেন কেজরিওয়াল?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Anubrata Partha Conditions TMC : তৃণমূলের একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ দুই নেতা এখন আর মাঠে ময়দানে নেই। কেমন আছেন তৃণমূলের পুরনো নেতারা?
সেসব তো সময় বলবে। তবে জাতীয় দলের তকমা পাওয়া বা হারানো, এগুলো কাদের ওপর নির্ভর করে? ঠিক কোন কোন বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখা হয়? উল্লেখ্য, কেন্দ্রের প্রধান নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে কোনও রাজনৈতিক দলকে এই তকমা দেওয়া হয়। তবে নিজে থেকে ইচ্ছেমতো এটি দেওয়া যায় না। জাতীয় দলের মর্যাদা পেতে হলে বেশকিছু শর্ত মানতে হবে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, মোট তিনটে শর্ত আছে –
১) লোকসভা নির্বাচনে ওই নির্দিষ্ট দলকে কমপক্ষে তিনটি রাজ্য থেকে ভোটে দাঁড়াতে হবে। এবং সেখানে দুই শতাংশ আসনে জিততেও হবে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Tripura assembly election 2023 results : ২০২১ সালের পুরভোটে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় প্রায় ২০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল তৃণমূল। সেবারের ভোটে জেতা প্রার্থীও ছিল জোড়া ফুলের। তবে কেন এমন পরিস্থিতি হল?
২) লোকসভা কিংবা বিধানসভা – যে কোনও একটি নির্বাচনে অন্তত চারটি রাজ্যে ৬ শতাংশ করে ভোট পেতে হবে। এরই পাশাপাশি চারটি আসনও পেতে হবে।
৩) কমপক্ষে চারটি রাজ্যের মধ্যে রাজ্য দলের তকমা পেতে হবে সংশ্লিষ্ট দলকে।
এই তিনটির মধ্যে যে কোনও একটি শর্ত পূরণ করলেই জাতীয় দলের মর্যাদা পাওয়া যাবে। ১৯৯৮ সালে তৈরি হওয়া তৃণমূল কংগ্রেস সেই শর্ত পূরণ করে ২০১৬ সালে। তাই ওই বছরই জাতীয় দলের মর্যাদা পায় ঘাসফুল। তৃণমূল কংগ্রেস হয়ে যায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের নির্বাচনগুলিতে তৃণমূল সেভাবে দাগ কাটতে পারেনি। পশ্চিমবঙ্গ আর কিছুটা মেঘালয় ছাড়া আর কোনও রাজ্যে দাঁত ফোটাতে পারেনি মমতা ব্রিগেড। অন্যদিকে দিল্লি, গোয়া, পাঞ্জাব ও গুজরাত নির্বাচনে অভাবনীয় ফলাফল দেখিয়েছে আম আদমি পার্টি। সেজন্য জাতীয় দলের শিরোপা তার মাথায়।
আপাতত এই তকমা হারানোর ফলে ‘সর্বভারতীয়’ শব্দটি আর ব্যবহার করতে পারবে না তৃণমূল। ইভিএমে প্রথম সারিতে নামও থাকবে না দলের। সেইসঙ্গে নির্বাচনের দিন কিংবা বিধি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বৈঠকে সর্বভারতীয় দলগুলির মতামত নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে তৃণমূল সেই অধিকারও হারাল। তবে পরে নির্বাচনের মাধ্যমে শর্ত পূরণ করলে ফের জাতীয় দলের তকমা পেতে পারে ঘাসফুল।






