ভারত ভুলবে না কখনও, পাকিস্তান যে ভাবে পুষেছিল লাদেনকে
India-Pakistan : ভারত-পাক সংঘাতে উঠে এল লাদেনের প্রসঙ্গ, পাকিস্তানের যে ভূমিকা আজও বিতর্কিতই সারা বিশ্বে

স্বাধীনতার ৭৫ বছর কেটে গিয়েছে, কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে এখনও মেটেনি বিতর্ক। জবাব, পাল্টা জবাবের গড়িয়েছে দুই দেশের অভ্যন্তরে। বিরোধ মেটেনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। গতকাল রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মিটিং-এ জম্মু কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলায় সন্ত্রাসদমনে পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই পালটা প্রশ্ন তুললেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কার্যত পাকিস্তানের তুলোধনা করে তিনি বলেন, “যে দেশ আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেয় এবং প্রতিবেশী দেশের সংসদে আক্রমণ করে, তাদের রাষ্ট্রসঙ্ঘের ক্ষমতা নিয়ে বলার মতো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।” এর পাশাপাশি ২০০১ সালের সংসদ হামলার ঘটনাও উঠে আসে বিতর্কে।
লাদেনকে সামনে রেখে যে বিতর্ক আবার উস্কে দিলেন বিদেশমন্ত্রী, তার জেরেই ফিরে যেতে হয় স্মৃতির পাতায়। কেন এই ধরনের একটা দায় চাপানো হল পাকিস্তানের ওপর, কীভাবেই বা পাকিস্তান সাহায্য করেছিল লাদেনকে ইত্যাদি প্রশ্ন জড়ো হয়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Pakistani Serial: বিনোদন কোথাও গিয়ে দুই দেশকে এক করেছে এবং করে চলেছে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। এদিন ভোরবেলা নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে নেমে আসে আকস্মিক হামলা। ছিনতাই করা একটি উড়োজাহাজ দিয়ে কার্যত চোখের সামনে গুঁড়িয়ে ফেলা হয় একটা সাম্রাজ্য। ১১০ তলার গগনচুম্বী যে ভবন দুটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের শৌর্য ও মর্যাদার প্রতীক, সেদুটি মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে নিমেষে পরিণত হয় ধুলো ঝড়ে। এ ঘটনার জেরে নেমে আসে ভয়ংকর অন্ধকার। আহত এবং নিহতের তালিকা প্রস্তুত করলেও হিসেবটা আশঙ্কা দেয় আজও। তিন হাজারের বেশি নিরপরাধ সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান এই ঘটনায়। এই এতো বড় বিধ্বংসী ঘটনাটি মোটেই মামুলি কোনও ঘটনা ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় তখন জর্জ ডব্লিউ বুশ জুনিয়র। হামলায় আঙুল উঠল সৌদি ধনকুবের ওসামা বিন লাদেনের আল–কায়েদার দিকে। বলা হল লাদেনের নেতৃত্বেই গোষ্ঠীবদ্ধ হামলার শিকার হয় টুইন টাওয়ার। প্রেসিডেন্ট বুশ ডাক দিলেন যুদ্ধের। প্রাথমিকভাবে লাদেনকে আশ্রয় দিতে এগিয়ে এল আফগানিস্তান। ওসামা বিন লাদেনকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে হস্তান্তর করতে অস্বীকার করল তারা। অতঃপর অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ল যুদ্ধ।
আফগানিস্তানের বড় প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান। সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের ভাষায়, দুটি দেশ আপন ভাইয়ের মতো। দুই দেশের সীমান্তও উন্মুক্ত থাকে। প্রেসিডেন্ট বুশ জানতেন, আফগানিস্তানে তালেবান ও আল–কায়েদা উৎখাতে তিনি ন্যাটোসহ অধিকাংশ বড় শক্তির সহায়তা পাবেন। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে পাকিস্তানের সহায়তা।তবে পাকিস্তান সহায়তা করেনি। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদে তখন শক্তিশালী সেনা কর্মকর্তা পারভেজ মোশাররফ। একদিকে হযরত নিরাপত্তা সমস্যা অন্য দিকে রক্ষণশীল দেশের ধর্মের টান বাধা হয়ে দাঁড়ায় পথে। যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে যোগ দেওয়ার অর্থ ছিল নিজ দেশের খেপে থাকা ধর্মীয় কট্টরপন্থী অংশটিকে আরও তাতিয়ে দেওয়া। ফলে ধর্মের দোহাই দিয়েই তারা সুযোগ করে দিয়েছিল লাদেনকে। প্রতিবেশী ‘মুসলিম ভাইয়ের’ বিরুদ্ধে রক্তারক্তিতে নামতে চায়নি তারা, বরং সাহায্যই করেছিল। তাই আজকের অধিবেশনে ভারতের ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত অবৈধ ও একতরফা বলে যখন তোপ দাগেন পাক প্রধানমন্ত্রী, তখন পালটা এ তোপ খানিকটা অনিবার্য ছিল। সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা পাকিস্তানের রূপকে এখনও ভোলেনি কেউই।
















