এক দশকেও মিটল না সমস্যা, দেশ ছাড়ছেন লাকি আলি?

তিনি দাবি করেছেন, এর সঙ্গে যুক্ত কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মচারী। এতদিন ধরে তিনি অপেক্ষা করেছেন, কিন্তু এইবার তিনি বড় পদক্ষেপ নেবেন। সরকার যদি কোনও তৎপরতা না দেখায় তবে তিনি পাকাপাকিভাবে দেশ ছেড়ে চলে যাবেন, ফের এই দেশে আর পা রাখবেন না।

Arunima Mukherjee
৩ মিনিট
এক দশকেও মিটল না সমস্যা, দেশ ছাড়ছেন লাকি আলি?

যারা নয়ের দশকে জন্মগ্রহণ করেছে, তাদের জীবনের সঙ্গে মাকসুদ মাহমুদ আলি ওরফে লাকি আলির নাম অনেকাংশেই জড়িয়ে আছে, জড়িয়ে আছে তাঁর গানের কারণেই। বলিউডের বিখ্যাত তারকা হৃতিক রোশনের ডেবিউ ফিল্ম ‘কহো না পেয়ার হ‍্যায়’-এর হিট সব গানে তখন লাকি আলির নাম। আলি তাঁর কেরিয়ার শুরু করেছিল ‘ও সনম’ গানটির মাধ্যমে, যা আজও বর্তমান প্রজন্মের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়। চিরকাল খানিক নিরিবিলিতেই থাকতে পছন্দ করতেন এই তারকা। বর্তমানে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা তিনি। সম্প্রতি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি পোস্ট, শ্রোতামহলে রীতিমতো উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তিনি সেই পোস্টে লিখেছেন, তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে রাখা হয়েছে। জমি ফেরত পাওয়ার আশায় তিনি একাধিকবার সরকারের দ্বারস্থ হওয়া সত্ত্বেও, কোনও লাভ হয়নি। এইদিন তিনি স্পষ্টই জানান, ক্ষমতা, প্রতিপত্তি এবং টাকার জোরে জমি-মাফিয়ারা তাঁর একশো একর জমি বেআইনিভাবে দখল নিয়ে রেখেছে। শুধু তাই নয়, তিনি দাবি করেছেন, এর সঙ্গে যুক্ত কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মচারী। এতদিন ধরে তিনি অপেক্ষা করেছেন, কিন্তু এইবার তিনি বড় পদক্ষেপ নেবেন। সরকার যদি কোনও তৎপরতা না দেখায় তবে তিনি পাকাপাকিভাবে দেশ ছেড়ে চলে যাবেন, ফের এই দেশে আর পা রাখবেন না।

এই পোস্টের পর স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়ে গেছে প্রিয় গায়কের অনুগামী মহলে। কমেন্ট বক্সে অনেকেই তাঁকে ঠান্ডা মাথায় পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে, কেউ কেউ আবার কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতেও পিছপা হয়নি।

যে মানুষটি বরাবরের জন্য লোকচক্ষু থেকে খানিক আড়ালেই থাকতে পছন্দ করতেন, তিনি কতখানি বিতৃষ্ণা থেকে এমন এক সিদ্ধান্তের কথা মিডিয়া-মাধ্যমে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেকথা বলার অবকাশ বোধ হয় থাকে না। এখন প্রশ্ন হলো, ঠিক কী হয়েছে তাঁর পৈতৃক সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে, যে কারণে বাষট্টি বছর বয়সে এসেও এহেন সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধ্য হচ্ছেন লাকি আলি? এর উত্তর খুঁজতে গেলে পিছিয়ে যেতে হবে বেশ কিছু বছর।

লাকি আলির বাবা, বিখ্যাত কৌতুক-অভিনেতা মেহমুদ বেঙ্গালুরুর ইয়েলাহাঙ্কায় ১৬৭ একর জমি কিনে সেখানে আলি স্টার্ড ফার্ম নামে একটি ফার্ম স্থাপন করেছিলেন। সেখানে তিনি একটি বাড়িও বানান। ২০০২ সালে তিনি চিকিৎসার কারণে আমেরিকায় চলে যান, এবং দুই বছর পরে অর্থাৎ, ২০০৪ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। মেহমুদের মৃত্যুর পর থেকেই আলি পরিবারে জমি-সংক্রান্ত সমস্যার সূত্রপাত ঘটে। আলি জানান, প্রথম প্রথম তাঁর বাবার সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের জন্য বিল্ডার্সের ভাই মাঝে মাঝেই আসতেন। কিন্তু যখন তাঁর বাবা অসুস্থ ছিলেন, তখন থেকেই নির্মাণ সংস্থার লোকজন দাবি জানাতে থাকে যে, মেহমুদ অসুস্থতার সময় রঘুনাথ নামে এক ব্যক্তিকে তাঁর সমস্ত সম্পত্তির ‘জেনারেল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি’ দিয়ে গেছেন এবং এই রঘুনাথ পরবর্তীতে তাঁদের কাছে সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দেয় ৩৫ লাখ টাকার বিনিময়ে। যদিও আলি তাঁদের কোনও কথাই বিশ্বাস করতে নারাজ ছিলেন, এবং সেইসময় এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য তিনি কোর্টে হাজির হয়েছিলেন। তিনি এই কথাও জানান যে, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে নথিতে থাকা সইটি ছিল একটি জাল সই। এছাড়াও মেহমুদ এই সম্পত্তির ৮৭ একর জমি তাঁর ছয় ছেলে ও একজন মেয়ের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার জন্য মোট চারটি ট্রাস্ট গঠন করেছিলেন। এই প্রসঙ্গ টেনে নিয়েও গায়ক যুক্তি দেখিয়ে বলেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসারে আদালতের অনুমোদন ছাড়া ট্রাস্টের সম্পত্তি বিক্রি করা কার্যত বেআইনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শ্রীলঙ্কার সংকটে বন্ধু ভারত, কীভাবে দেউলিয়া প্রতিবেশীকে সাহায্য করছে মোদি সরকার?

সমস্যা ছিল শ্রীলঙ্কাকে সাহায্যের ক্ষেত্রে। তামিলদের স্বার্থের কথা ভেবে এবং পরবর্তী সময় শ্রীলঙ্কার সুবিধার কথা ভেবে ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করার দিকে নজর দিয়েছে।

২০১৫ সালের একটি রিপোর্ট থেকে জানা যায়, লাকি আলি প্রথম থেকেই এইচ জাসান্ত সেনয় নামে এক নির্মাণ সংস্থার মালিকের বিরুদ্ধে ইয়েলাহাঙ্কা গ্রামে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তির ১৬৫ একর জমি দখল করে রাখার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু আলির পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁরা এই উক্তিকে সমর্থন করেন না। বরং মিডিয়ার সামনে তাঁরা গায়কের জমি জবরদখলের কথাটিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলেই ঘোষণা করেছিলেন। তাঁরা সেই সময় জানিয়েছিলেন, গ্রিন অরচার্ডস ফার্মহাউসই জমির আসল মালিক এবং জমির মালিকের বিরুদ্ধে তাঁদের কোন অভিযোগ নেই।

ঘটনার মোড় ঘোরে ২০১৪ সালে নভেম্বর মাসে। এই সময় ইয়েলাহাঙ্কার কাছে অবস্থিত গায়কের বাড়িতে সশস্ত্র গুন্ডাবাহিনী হামলা চালায়। কিন্তু সেই সময় তিনি একটি কনসার্টের কারণে দিল্লিতে ছিলেন। আলি আশঙ্কা করেছিলেন, সম্ভবত তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়েই সেইদিন গুন্ডাবাহিনী তাঁর বাড়িতে হানা দেয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ আট জনকে সেইসময় গ্রেপ্তারও করেছিল। খুব স্বাভাবিকভাবেই গুন্ডাবাহিনী পাঠানোর পিছনে নাম জড়িয়ে পরে সেই নির্মাণ সংস্থার মালিকের। এই ঘটনার পরে আলি পুলিশের কাছে নির্মাতা, নির্মাতার ভাইয়ের সঙ্গে সন্দেহভাজন আরও তিনজনের নামে অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন। যদিও সেই সময় পুলিশ গায়ককে যথাসম্ভব সাহায্য করেছিল এবং বাড়তি সুরক্ষাবাহিনী প্রদানের আশ্বাসও দিয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী লাকি আলির ভাইবোনরা এরপর আবার একবারের জন্য জমি মামলায় সাক্ষী দেওয়ার কারণে দেশে ফেরার কথা বললেও, পরবর্তীতে তাঁরা আর আসেননি।

সেই সময় থেকে আজ অবধি এই জমি সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। তাই হয়তো গায়ক খানিক ক্লান্ত হয়েই সমস্ত রাগ, অভিমান উগরে দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টটি করেন। সত্য ঘটনা কী, তা একমাত্র সঠিক তদন্ত দ্বারাই বোঝা সম্ভব।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।