গ্রেট খালি-র গ্রেট ডায়েট! সারাদিনে কী কী খান এই বিশ্বখ্যাত কুস্তিগির, জানলে আশ্চর্য হবেন

ভারতের কুস্তি আর বিদেশের রেসলিং-এর মধ্যে তফাৎ রয়েছে। বিশেষত ডব্লিউডব্লিউই-তে যে ধরনের মল্লযুদ্ধ দেখানো হয়, তা জগতের আর পাঁচটা উপস্থাপনার থেকে আলাদা। স্পেক্ট‍্যাকল হিসেবে মন্দ নয়, একসময় এই জাতীয় রেসলিং-এর জনপ্রিয়তাও ছিল তুঙ্গে। ঘরে ঘরে টিভি চ্যানেলে এই খেলা দেখানো হত। এখন অবশ্য পরিস্থিতি আর আগের মতো নেই। দ্য রক, আন্ডারটেকার, বিগ শো, জন সিনা, রে মিস্টিরিও, কেন্‌– ধীরে ধীরে বিদায় নিয়েছেন সবাই। অনেকেই সিনে জগতে যথেষ্ট সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন। ডোয়েন জনসন ওরফে রক, বাতিস্তা, জন সিনা তার জ্বলন্ত উদাহরণ। যাঁর কথা আমরা বলছি, তাঁকেও বলিউডে দেখা গিয়েছে কয়েকবার। মূলত কমিক চরিত্রেই অভিনয় করেছেন দলীপ সিং রানা, যাঁকে আপনি-আমি চিনি দ্য গ্রেট খালি নামে। ১৯৭২-এর ২৭ আগস্ট হিমাচলের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম ধিরাইনাতে তাঁর জন্ম। পাহাড়ের কোলে কাটিয়েছেন ছেলেবেলা। অত্যন্ত অভাবী পরিবারের দলীপ আক্রোমেগালিতে আক্রান্ত। যার বহু বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একটি হল জাইগ্যান্টিজম বা অতিবৃদ্ধি রোগ। দলীপ সিমলায় সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করছিলেন। সেসময় এক পুলিশ অফিসারের সান্নিধ্যে আসেন তিনি। ১৯৯৩ নাগাদ পাঞ্জাব পুলিশে যোগ দেন। পাঞ্জাবের জলন্ধরে সেই সময়েই জিমে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন দলীপ। খুব কম সময়ের মধ্যেই আমেরিকার বিশেষ রেসলিং ট্রেনিং-এ সিলেক্টেড হন। প্রফেশনাল রেসলিং-এর জগতে খালি-র মতো বিখ্যাত আর কোনও ভারতীয়ই হননি কখনও।

জায়ান্ট সিং নামে অল প্রো রেসলিং-এ যখন প্রথম ম্যাচ খেলেন, তখন ২০০০ সাল। টোনি জোনসের সঙ্গে তাঁর জুটি লড়েছিল ওয়েস্টসাইড প্লায়াজের বিরুদ্ধে। পরের বছর সান ফ্রানসিস্কোতে এলেন ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ রেসলিং-এর জন্য। আট মাস ডব্লিউসিডব্লিউ-তে ছিলেন। এরপরে ডব্লিউসিডব্লিউ-কে তাদের প্রধান প্রতিযোগী ডব্লিউডব্লিউএফ কিনে নেয়। সেসময় নিউ জাপান প্রো রেসলিং থেকে ‘জায়ান্ট সিং’-এর জন্য আমন্ত্রণ আসে। টিম ২০০০-এর দলনেতা মাশারিও চোনো এবং জায়ান্ট সিলভা তাঁকে আমন্ত্রণ জানান। পেশাদার রেসলিং-এর এই দল ছিল সব থেকে লম্বা খেলোয়াড়দের দল। শুরুতে সুবিধে করতে পারেননি দলীপ। বারবার হেরে গিয়ে কেরিয়ারে দাগ পড়ে যাচ্ছিল দ্রুত। কিন্তু ২০০৬ সালে ডব্লিউডব্লিউই-তে তাঁর পদার্পণ পরিস্থিতি পালটে দিল। ডব্লিউডব্লিউই-তে এই প্রথম কোনও ভারতীয় রেসলারকে নেওয়া হয়েছিল। আন্তর্জাতিক রেসলিং-এর জগতে সমগ্র ভারতের প্রতিনিধি হয়ে উঠেছিলেন খালি। আন্ডারটেকারের সঙ্গে স্ম্যাক ডাউনের লড়াই, মূলত যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বীর ইমেজ ছিল তাঁর। প্রথম প্রথম ভিলেন হিসেবে উপস্থাপিত হলেও, দ্য গ্রেট খালি ডব্লিউডব্লিউই-র অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পান দ্রুত। আন্তর্জাতিক রেসলিং-এর অন্যতম কিংবদন্তির সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে যায় অঙ্গাঙ্গীভাবে। পরে সন মাইকেল, জন সিনা, বতিস্তার মতো রেসলারদের সঙ্গেও স্মরণীয় সব ম্যাচ খেলেন খালি। জেতেন ওয়ার্ল্ড হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নের খেতাব। প্রায় এক দশক ভক্তদের মনোরঞ্জন করার পর ২০১৪ সালে ডব্লিউডব্লিউই থেকে অবসর নেন তিনি।

আর চার-পাঁচজন পেশাদার কুস্তিবিদের মতো খালিরও কড়া নিয়মে বাঁধা ডায়েট রয়েছে। ব্যায়ামের সময়-ক্ষণ রয়েছে নির্দিষ্ট। এই নিয়মানুবর্তিতাই রেসলিং-এর ক্ষেত্রটিতে, ডব্লিউডব্লিউই-র ক্ষেত্রটিতে তাকে নিজের জায়গা করে নিতে সাহায্য করেছিল। কীভাবে রেসলিং ম্যাচের জন্য তৈরি হতেন খালি? আসুন, আজ তাঁর ডায়েট ও ব্যায়ামের রুটিন থেকে সেই উদ্যোগ বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করা যাক।

আরও পড়ুন: মেন্থল সিগারেট নিষিদ্ধ করছে আমেরিকা, কারণ জানলে ঘুম ছুটবে ধূমপায়ীদের


খালির ডায়েট

খালির উচ্চতা ৭ ফুট ১ ইঞ্চি। ৪০০ পাউন্ডের এই বিশালাকার দেহের খেয়ালও রাখতে হয় ঠিকঠাক। দেহের মতোই পাহাড়প্রমাণ খাবার রোজ খেতে হয় তাঁকে।

Khali


সকালের খাবার

সকালবেলায় ফলের রস এবং ফল খেয়ে দিন শুরু করেন। খান দুই কোয়ার্ট, অর্থাৎ প্রায় লিটার দুয়েক দুধ, আটটি ডিম এবং ১০০ গ্রাম ড্রাই ফ্রুট। জলখাবারের আগে প্রচুর পরিমাণে জল খান খালি, হেঁটে আসেন কয়েক মিনিট। তারপরে প্রচুর পরিমাণে রুটি ও মুরগির মাংস দিয়ে সেরে ফেলেন নাশতা।

দুপুরের খাবার
দুপুরে নানারকম ঝোল, ডাল, সবজি, গমের রুটি, চাল, এক কিলো মুরগির মাংস, ডিম ও ড্রাই ফ্রুট।

রাতের খাবার
রাতে খালি চিজ খান, খান কলাইয়ের ডাল, সবজি, খানদশেক গমের রুটি, ব্রাউন রাইস, মুরগির মাংস, ডিম। ডিনারের পর বরফ দিয়ে দু'-লিটার দুধ খান।

আইসক্রিম, দই, কফি, ক্যান্ডি–এইসবও খান খালি।

ব্যায়ামের রুটিন
খালির এই বিরাট পেশিবহুল শরীর ঠিক রাখার জন্য ব্যায়ামও করতে হয় প্রচুর। আসুন, সেই রুটিন জেনে নেওয়া যাক।

রবিবার খালি বুকের পেশির কাজ করেন। ফ্ল্যাট, ইনক্লাইন, এবং ডিক্লাইন বেঞ্চ প্রেস, সঙ্গে পুশ আপ। সোমবার বাইসেপ এবং ট্রাইসেপের দিন। বার্বেল এবং ডাম্বেল কার্ভের অনেকগুলো সিটিং, সঙ্গে ট্রাইসেপ ডিপস। সোমবারের খাতে থাকে পুশ আপও। মঙ্গলবার মূলত কার্ডিওর দিন। ট্রেড মিলে ৩০ মিনিট, ২০ মিনিট সাইকেল চালানো, অ্যাবডোমিনাল ওয়ার্কআউট এবং ক্রাঞ্চ। বুধবার কাঁধ ও ঘাড়ের ব্যায়ামের দিন। কয়েক ধরনের মিলিটারি প্রেস সিটিং এবং ডাম্বেল মিলিটারি প্রেস এই দিনের বরাদ্দ। সঙ্গে ল্যাটারাল রাইসেস এবং রিয়ার ল্যাটারাল রাইসেসও থাকে। বৃহস্পতিবারে খালি তাঁর পিঠ ও পেটের মাসলের ব্যায়াম করেন। বেন্ট ওভার বার্বেল রো এবং পুশ আপ বেশ কয়েক খেপে করা হয় এদিন। ক্রাঞ্চ এবং লেগ রাইসেসও থাকে সঙ্গে। শুক্রবারে ফের পা ও পেটের মাসলের এক্সারসাইজ। বেশ কয়েক ধরনের লেগ এক্সটেনশনের সিটিং, লেগ প্রেস এবং স্কোয়াট থাকে এদিন। এছাড়াও থাকে কাফ রাইসেস ও ১০০ খানা ক্রাঞ্চ। শনিবার এই বিপুল ওয়ার্কআউট শিডিউল থেকে ছুটি। কেবলমাত্র মিনিট তিরিশেকের হালকা জগিং ট্রেড মিলে।

 

More Articles

;