রোজ এত ধুলো? জানেন, ঘর ঝাড় দিয়ে যা ফেলছেন তা আসলে আপনারই মৃত চামড়া!
House Dust: ধুলোতে চামড়া ছাড়াও জৈব ফাইবার থেকে শুরু করে বিল্ডিং তৈরি উপকরণ সবই আছে।

রোজ ঘরে ঝাড়ু দিচ্ছেন। দরজা জানলাও বন্ধ। তবু এত ধুলো ঢোকে কোথা দিয়ে? কাপড় দিয়ে ল্যাপটপ মুছছেন, আলমারি মুছছেন, ধুলোর পরত উঠে আসছে প্রতিদিনই। জানলে অবাক হতে হয়, এই ধুলো ময়লা শুধুই বাইরে থেকে আসা নোংরা নয়। প্রতিদিন আপনার দেহ থেকে খসে পড়া মৃত কোশই আপনি ঝেঁটিয়ে বিদায় করছেন! হ্যাঁ, আমাদের ঘরে প্রতিদিন যে ধুলো পাওয়া যায়, তার একটা বড় অংশই আমাদের ত্বকের মৃত কোশ। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের এক গবেষণা বলছে, প্রতি ঘণ্টায় মানুষের দেহ থেকে ২০০ মিলিয়ন মৃত কোশ খসে পড়ে। ঘরে থাকা অবস্থায় সেই কোশ যাবেটাই বা কোথায়? অগত্যা জমে যায় ঘরেতেই। ওই গবেষণা বলছে, চামড়ার তেল স্কোয়ালিন ঘরে ওজোন স্তরকেও ১৫ শতাংশ কমিয়ে দেয়।
তবে সম্প্রতি এক গবেষণা আবার বলছে ঘরের ধুলোর মধ্যে বেশিরভাগই মানুষের ত্বকের কোশ নয়। ত্বকের কোশগুলি ছাড়াও সিলিং ফ্যানের ব্লেডের উপরে পড়া সেই পুরু স্তরটিতে আরও অনেক উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পেইন্ট, ফাইবার, চুল, ঘর দোরের নির্মাণ সামগ্রী, ফুলের পরাগ, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পোকামাকড়ের শরীরের অংশ, ছাই, কাঁচ, খনিজ পদার্থ এবং মাটির টুকরো, জানাচ্ছে কানাডিয়ান সেন্টার ফর আর্কিটেকচার।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Air Purifier : বাতাসের বিষ কমাতে কি এয়ার পিউরিফায়ারই ভবিতব্য?

কানাডিয়ান ডাস্ট স্টাডির গবেষকরা সীসার প্রকোপ পরিমাপ করার জন্য ১,০২৫টি বাড়ির ধুলোর নমুনা সংগ্রহ করেন। প্রতিটি উপাদানের অনুপাত পরিবার অনুযায়ী পৃথক ছিল। নতুন তৈরি হওয়া বাড়িতে যেমন প্রচুর শুকনো ধুলো বা নির্মাণ সামগ্রী মিলেছিল। ব্যস্ত রাস্তার কাছাকাছি বাড়িতে অন্য বাড়ির তুলনায় গাড়ির ধোঁয়ার দূষক পদার্থের ভিড় বেশি। আর পুরনো বাড়িতে সাধারণত সীসার মাত্রা বেশি পাওয়া যায়। ঘরের ধূলিকণার ৭০% বা ৮০% মানুষের ত্বকের মৃত কোশ হলেও তা সব বাড়িতে সমান নয়। ঘরের ধূলিকণা নিয়ে ২০০৯ সালে করা একটি সমীক্ষা বলছে, ধূলিকণার ৬০% উপাদানই বাড়ির ভিতরের থেকেই আসে এবং ৪০% আসে বাইরে থেকে। ভেতরের সেই ৬০% ধুলোতে চামড়া ছাড়াও জৈব ফাইবার থেকে শুরু করে বিল্ডিং তৈরির উপকরণ সবই আছে।
যত বয়স বাড়তে থাকে ততই প্রচুর ত্বকের কোশ খসে পড়ে। আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি বলছে, গড়ে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহ থেকে প্রতিদিন, প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২০০-৫০০ মিলিয়ন মৃত ত্বকের কোশ খসে যায়। তবে সমস্ত মৃত চামড়ার কোশ বাড়ির মেঝেতেই সবটা পড়ে না; অনেকটাই স্নানের সময় জলের সঙ্গে বেরিয়ে যায় এবং বাকিটা পোশাকের মধ্যে আটকে থাকে।















