মাথায় হাতুড়ির ঘা, দেহ টুকরো টুকরো করে প্রমাণ লোপাট! শিউরে উঠতে হবে এ ঘটনায়
Murder : ২০২২ সালেই ইতালিতে ঘটা একটি খুনের দিকে তাকালে মিলবে শ্রদ্ধা হত্যাকাণ্ডের ছায়া

দিল্লির শ্রদ্ধা হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটেনি এখনও। নারকীয় একটা ঘটনার জেরে এখনও ভয়ে কাঁটা হয়ে আছে গোটা দেশ। এ ঘটনার পরতে পরতে কেবল রহস্য। একটা জট ছাড়াতে গিয়ে অন্য জট পাকিয়ে গিয়েছে ক্রমশ। খুনের এখনও কোনও কিনার করতে পারেনি দিল্লি পুলিশ। মূল অভিযুক্ত আফতাবের পলিগ্রাফি থেকে নারকো পরীক্ষা সবই হয়েছে ইতিমধ্যে। তবু মীমাংসা হয়নি কিছুই। এর মধ্যেই কেটে গিয়েছে এক মাসেরও বেশি সময়। নতুন ঘটনা এসে শিরোনাম থেকে খানিক সরিয়ে দিয়েছে নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডকে। যদিও এই এক মাসের মধ্যেই সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা একই রকমের বেশ কিছু ঘটনা সামনে এসেছে। আর সমাজ তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছে কতটা ভয়ংকর হতে পারে একটা খুন।
তবে এ ঘটনা তো প্রথম নয় এর আগেও রয়েছে এরূপ নৃশংস ঘটনার নজির। এমনকী এই বছর অর্থাৎ ২০২২ সালেই ইতালিতে ঘটা একটি খুনের দিকে তাকালে মিলবে শ্রদ্ধা হত্যাকাণ্ডের ছায়া। ২০ মার্চের ঘটনা। ইতালির লোমবার্ডি অঞ্চলের পলিন গ্রামে পাহাড়ের কাছে বস্তাবন্দি অবস্থায় হদিশ মেলে মহিলার ক্ষত-বিক্ষত দেহ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Delhi Murder Case : এই ঘটনাগুলি একেকবারেই বিক্ষিপ্ত নয়, তা বিভিন্ন পরিসংখ্যান, মনোবিদ, সমাজতাত্ত্বিকদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট। বরং, প্রতিটা ঘটনাই সরু কয়েকটি সুতোর মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।
মহিলার নাম ক্যারল মাল্টেসি। বয়স ২৬। পেশায় ইতালির জনপ্রিয় পর্নস্টার এই হলিউড অভিনেত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়শই খোলামেলা পোশাক পরে ধরা দিতেন অনুরাগীদের সামনে। নিত্যনতুন ভিডিও পোস্ট করে জনপ্রিয়তা কেটে নেওয়াই ছিল তার নেশা। এরকমই একটি দিনের ঘটনা। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি। সেদিন মুখ, হাত, পা বাঁধা অবস্থায় ক্যামেরার সামনে ধরা দেন ক্যারল। সঙ্গে ছিলেন তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক ডেভিড ফন্টানা। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেই ভিডিও। দর্শকদের মকধ্যে কৌতূহল ডানা বেঁধেছিল সেই থেকেই। কিন্তু সেই কৌতূহলের মীমাংসা যে এই পরিণতি নিতে পারে এমনটা আশা করেনি কেউই।
এ ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করে ডেভিডকে। যদিও পুলিশ সূত্রে খবর, ডেভিড সবটাই স্বীকার করে নিয়েছে। এবং দাবি করছে তিনি যে মেরে ফেলেছেন সেটা নাকি বুঝতে পারেননি নিজেই। ডেভিডের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, দর্শকদের জন্য একটি রোমাঞ্চকর দৃশ্য তুলে ধরতেই নাকি ঐরূপ হাত পা মুখ বাঁধা অবস্থায় আসা। কথা ছিল ক্যারলের উরুতে এবং পেটে কয়েকটি টোকা দেবেন ডেভিড, ব্যাস এটুকুই। কিন্তু অচিরেই ঘটনা মোড় নেয়। পরিকল্পনা বদলে যায়, হাতুড়ি নিয়ে ক্যারলের মাথায় আঘাত করতে শুরু করেন ডেভিড। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ক্যারলের।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Delhi Murder Case: মাঝেমধ্যেই জলের কল ও শাওয়ার চালিয়ে রক্ত ধুয়ে নিয়েছিলেন আফতাব। এই কুকীর্তি ঢাকতে যে কী পরিমাণ জলের ব্যবহার করা হয়েছে তা জলের বিল দেখলেই বোঝা যাচ্ছে!
যদিও এ ঘটনাকে এক প্রকার মতিভ্রম বলেই দাবি করেছেন অভিযুক্ত ডেভিড। কিন্তু এর নৃশংসতায় আঁতকে উঠছে গোটা পুলিশ মহল। শুধু তাই নয়, জানা গিয়েছে ক্যারলের হলে জাপানি ছুঁড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। অর্থাৎ শুধু হাতুড়ির ঘা মেরেই ইতি টানেননি, মৃত্যু আরও নিশ্চিত করতে চালানো হয়েছিল ছুঁড়িও। এরপর শুরু হয়, প্রমাণ লোপাটের প্রক্রিয়া। আর এখানেই মিলে যায় দিল্লির শ্রদ্ধা কান্ড। বৈদ্যুতিক করাতের সাহায্যে টানা ৩ দিন ধরে টুকরো টুকরো করা হয় দেহ। ডেভিড পুলিশকে জানিয়েছে, প্রথমে মাসখানেক ফ্রিজে রেখেছিল মৃতদেহকে। তারপরই ঠিক করেন এভাবে কেটে ফেলবেন। বলেছেন তিনি ভয় থেকেই সব করেছেন, মোটেই পূর্ব পরিকল্পিত ছিল না কিছুই।
হ্যাঁ শুনতে অবাক লাগছে ৪৩ বছর বয়সী ডেভিডের এ ব্যাখ্যা। বিশেষত যখন সম্প্রতি আমরা শ্রদ্ধা হত্যাকাণ্ডের দগদগে স্মৃতি দিয়ে হেঁটেছি তখন এ ঘটনাকে নিছক মতিভ্রম বলে মেনে নেওয়া যায় না। তাছাড়া সরকারি আইনজীবী দাবি করেছেন, ক্যারলকে যে ভাবে বেঁধে রাখা হয়েছিল, তাতে মনে হচ্ছে যে পুরোটাই পূর্বপরিকল্পিত। যা দেখে মনে হচ্ছে এটি ঠান্ডা মাথায় খুন। এখানেই শেষ নয় ক্যারলের মৃত্যুর পর তাঁর ক্রেডিট কার্ড একাধিকবার ব্যবহার করে খরচ করেছেন ডেভিড, এমনটাও দাবি করেছেন সরকারি আইনজীবী। এখনও মীমাংসা হয়নি মামলার। বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন ডেভিড।
শ্রদ্ধা হত্যার কিছু আগেই বিদেশে ঘটেছে এমন ঘটনা। অপরাধ জগতের যে ভয়াবহতা তা হয়তো সত্যিই দেশ সময়ের বেড়াজালে বেঁধে ফেলা এত সহজ নয়। সমাজের এই অন্ধকার দিকটা খুব গভীরে গেঁথে রয়েছে। কোন পথে এগোলে যে এর মীমাংসা সম্ভব তা শুধু আইন দিয়ে ধরা বোধ করি অসম্ভব।
















