একটি বিস্কুটের জন্য ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ! অবিশ্বাস্য রায় আদালতের...
ITC Biscuits Compensation : একটি মুদির দোকান থেকে দুই ডজন ‘সান ফিস্ট মেরি লাইট’ বিস্কুট কিনেছিলেন দিল্লিবাবু।

বাজারে গেছেন। রোজের দরকারি জিনিসপত্র কিনবেন। ফর্দ মিলিয়ে সবই নেওয়া হয়েছে। বিস্কুট নিয়ে নিলেই তালিকায় সব ক'টায় টিক চিহ্ন পড়ে যায়। বিস্কুট কেনা সাঙ্গ করে ঘরে ফিরেওছেন। প্যাকেট খুলতেই বজ্রপাত! একী! এমন প্রতারণা! বিস্কুটের প্যাকেটে একটি বিস্কুট কম! এমন যে ঘটে না তা নয়, একটা বিস্কুট কম, দুটো ভাঙা। এ তো হামেশাই ঘটে আপনার-আমার সঙ্গে। যা ঘটে না তা হচ্ছে, ওই একটি বিস্কুট না পাওয়ার ক্ষতিপূরণ আমরা পাই না। কিন্তু তিনি পেয়েছেন। তিনি পি দিল্লিবাবু। উপভোক্তা আদালতের নির্দেশে বিস্কুট কোম্পানি ১ টি বিস্কুট না থাকার জন্য ১ লক্ষ টকা ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে ক্রেতাকে!
সম্প্রতি উপভোক্তা আদালত ITC লিমিটেডকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে ওই উপভোক্তাকে ১ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বিস্কুট না থাকায়, প্রতারিত বোধ করে সোজা আদালতে গেছিলেন চেন্নাইয়ের বাসিন্দা পি দিল্লিবাবু। তিনি ওই বিস্কুট কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতিদিন মানুষকে ঠকিয়ে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ করেছিলেন। ঘটনাটি দু' বছর আগেকার। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে গোটাটার সূত্রপাত।
টাইমস অফ ইন্ডিয়া জানাচ্ছে, মানালি যাচ্ছিলেন দিল্লিবাবু। পথে একটি মুদির দোকান থেকে দুই ডজন ‘সান ফিস্ট মেরি লাইট’ বিস্কুট কিনেছিলেন তিনি। সাধারণত এই এক একটি বিস্কুটের প্যাকেটে ১৬ টি করে বিস্কুট থাকে। দিল্লিবাবু প্যাকেট খুলে দেখেন তাতে একটি বিস্কুট কম! ১৬-র জায়গাতে আছে মাত্র ১৫ টি! আস্ত একটা বিস্কুট কম কেন? জানতে প্রথমে সোজা দোকানে যান দিল্লিবাবু। দোকানে স্বাভাবিকভাবেই সদুত্তর মেলে না। এবার একেবারে আইটিসির কাছেই যান তিনি, সেখানেও একটা বিস্কুট না থাকার কারণ মেলে না।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
History of Momo: নেপালে মোমোর জন্ম। মোমোর ইতিহাস খুঁড়তে গেলে যেতে হবে চতুর্দশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে।
দিল্লিবাবু তাঁর অভিযোগে জানাচ্ছেন, প্রতিটি বিস্কুটের দাম ছিল ৭৫ পয়সা। আইটিসি সংস্থাটি দিনে প্রায় ৫০ লক্ষ বিস্কুটের প্যাকেট তৈরি করে। বিস্কুটের মোড়কের পিছনের হিসেব বলছে, কলকাতায় সদর দফতর থাকা এই সংস্থাটি প্রতিদিন সাধারণ মানুষের সঙ্গে ২৯ লক্ষ টাকার প্রতারণা করছে।
আদালতে যান দিল্লিবাবু। আইটিসি যুক্তি দেয়, ভিতরে থাকা বিস্কুটের সংখ্যার ভিত্তিতে নয়, ওই নির্দিষ্ট পণ্যটি তার ওজনের ভিত্তিতে বিক্রি করা হয়েছিল। এই ক্ষেত্রে, সান ফিস্ট মেরি লাইট পণ্যটির বিজ্ঞাপিত মোট ওজন ছিল ৭৬ গ্রাম।
কমিশন সেই প্যাকেট পরীক্ষা করে দেখে, নাহ! ৭৬ গ্রামের হিসেব মিলছে না। এটির ওজন মাত্র ৭৪ গ্রাম। আইটিসির আইনজীবী লিগ্যাল মেট্রোলজি রুলস, ২০১১-র উল্লেখ করেন। ওই বিধিতে বলা আছে প্রি-প্যাকেজড পণ্যগুলির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪.৫ গ্রাম ওজন এদিক ওদিক হতে পারে। বিচারক এতে দ্বিমত পোষণ করেন। বিচারক বলেন, ওই সাড়ে চার গ্রামের বিষয়টি শুধুমাত্র 'ভঙ্গুর' প্রকৃতির পণ্যগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ফলে, অভাবনীয় রায়! গত ২৯ অগাস্ট আদালত আইটিসিকে অনৈতিক ব্যাবসায়িক প্রক্রিয়া' চালানোর দোষে অভিযুক্ত করে। বিস্কুটের সেই নির্দিষ্ট ব্যাচ বিক্রিও বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। এখানেই শেষ না, বিচারক আইটিসিকে দিল্লিবাবুকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে ১ লক্ষ দেওয়ার নির্দেশও দেয়।
প্যাকেটে একটি মাত্র বিস্কুট কম ছিল। ২ বছর ধরে সেই একটি বিস্কুটের অধিকারে লড়ে ১ লক্ষ টাকা পেলেন দিল্লিবাবু! মাত্র একটি বিস্কুটের জন্য!















