৬০০ বছরের ঐতিহাসিক পাহাড়ি খাবার! মোমো কীভাবে ভারতে এল জানলে চমকে যাবেন...

History of Momo: নেপালে মোমোর জন্ম। মোমোর ইতিহাস খুঁড়তে গেলে যেতে হবে চতুর্দশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে।

Madhurima Dutta
৩ মিনিট
৬০০ বছরের ঐতিহাসিক পাহাড়ি খাবার! মোমো কীভাবে ভারতে এল জানলে চমকে যাবেন...

এককালে সন্ধা হলে চপ-মুড়িই ছিল বাঙালির নির্ভরযোগ্য খাবার। কালে কালে সন্ধায় টিউশানি ফেরত বালক বালিকার (বালিকাই বেশি) ভরসা হলো ফুচকা, চাট। চপের দোকানের পাশাপাশি ফুচকার শালপাতারা ভিড় বাড়াল। তারপর কয়েক বছরে বাঙালির হঠাৎ প্রিয় হয়ে উঠল মোমো। ভাজাভুজির ঝামেলা নেই, খেতেও ভালো, স্বাস্থ্যকর। পাহাড়প্রেমী মানুষরা প্রবল গরম সমতলে বসে মোমো খেয়ে দার্জিলিং-দার্জিলিং সুখানুভূতি পেতে চাইলেন। পাহাড়ের এই খাবার কীভাবে নেমে এল সমতলে? কেনই বা আমজনতার সন্ধাকালীন পছন্দের খাবারে চপ মুড়িকে সাইড করে জাঁকিয়ে বসল মোমো? মোমোর সঙ্গে জুড়ে আছে ৬০০ বছরের ঐতিহ্য, ভালবাসা এবং আবেগ।

নেপালে মোমোর জন্ম। মোমোর ইতিহাস খুঁড়তে গেলে যেতে হবে চতুর্দশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে। একেবারে প্রথমে মোমো ছিল কাঠমান্ডু উপত্যকার খাবার। পরবর্তীতে তিব্বত, চিন, কোরিয়া এবং জাপান পর্যন্ত এই মোমো ছড়িয়ে পড়ে। তবে অনেকে বলেন, মোমোর শিকড় নেপাল, তিব্বত এবং ভুটানে। মোমো খাবারটি চিনাদের বাওজি এবং জিয়াওজের মতোই। দুই-ই ডাম্পলিং, মূলত শুয়োরের মাংস, গরুর মাংস, চিংড়ি, শাকসবজি বা তোফুর পুরভরা এই খাবার চিনা খাদ্য সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, মোমো হচ্ছে তিব্বতি শব্দ 'মগ মগ'-এর কথ্য রূপ। হতেও পারে এই তিব্বতি শব্দটি চিনা শব্দ মোমো থেকেই আসলে ধার করা। উত্তর-পশ্চিম চিনা উপভাষায় গমের সেদ্ধ রুটিকে বলা হয় মোমো।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঔরঙ্গজেবের প্রিয় পদ, কী ভাবে এত জনপ্রিয় হল তড়কা?

Tadka Daal : মহাভারত থেকে মুঘল হেঁশেল হয়ে অবশেষে আধুনিক ধাবা রেস্তোরাঁ, চমকে দেবে তড়কার ইতিহাস

সে যাই হোক, নেপালকে মোমোর কৃতিত্ব দিতেও তেমন বাধা নেই। মোমোর এই দেশভ্রমণের নেপথ্যে ছিলেন এক নেপালি রাজকুমারী। পনেরো শতকের শেষ দিকে তিব্বতের একজন রাজার সঙ্গে বিবাহ হয় তাঁর। বিয়ের সূত্রেই তিব্বতে গেল এই পদ। অবশ্য নেপালি নেওয়ার ব্যবসায়ীরাও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য প্রচুর পরিমাণে তিব্বতে যেতেন। ভ্রমণকালে খাদ্য ও স্বাদের বিনিময় ঘটবে এও স্বাভাবিক। নেপালের প্রাচীনতম ভাষাগুলির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নেওয়ারি। এই ভাষাতে 'মোম' মানে বাষ্পে রান্না করা। মোমো মাউন্ট এভারেস্টের মতোই নেপালের অন্যতম প্রতীক। নেপালের সীমা ছাড়িয়ে মোমোর জনপ্রিয়তা এখন বিশ্বব্যাপী।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাবীন্দ্রিক ডায়েট || স্ত্রী ছাড়া কারও হাতের জিলিপি খেতেন না রবীন্দ্রনাথ

ঠাকুরবাড়ি মানেই ছিল খাবারদাবার নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা

কীভাবে ভারতে এল মোমো?

মনে করা হয়, ভারতে মোমো এসেছে এই বছর ষাট আগে। ১৯৫৯ সালের তিব্বতি বিদ্রোহের পর বিপুল সংখ্যক তিব্বতি মানুষ ভারতে চলে আসেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতে এই বিপুল সংখ্যক তিব্বতির প্রবেশের সঙ্গেই আগমন ঘটে মোমো রেসিপির। লাদাখ, দার্জিলিং, ধর্মশালা, সিকিম এবং দিল্লি সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বসতি স্থাপন করেন এই তিব্বতিরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, এই দার্জিলিং, সিকিম, লাদাখই কিন্তু ভারতে মোমোর জনপ্রিয়তম আদি স্থান। আরেকটি তত্ত্ব বলছে, কাঠমান্ডুর নেওয়ার বণিকরাই রেশম পথে ভ্রমণের সময় তিব্বত থেকে ভারতে এই পদ নিয়ে আসেন।

আদি মোমোর সঙ্গে ইদানীংকালের মোমোর ফারাক রয়েছে অবশ্য। এখন মোমো হচ্ছে এক ধরনের দক্ষিণ এশিয় ডাম্পলিং। মোমো মূলত সবজি বা মাংসের পুর ভরা ময়দার গোলা। সেদ্ধ বা বাষ্পে রান্না করা হলেও কালে কালে ফ্রায়েড মোমো জনপ্রিয় হয়েছে। মোমো স্টিমার মানে যে পাত্রে রেখে মোমোটি সেদ্ধ করা হয়, তাকে বলা হয় মুকটু। মুকটু হচ্ছে একধরনের ধাতব পাত্র যার তলায় অজস্র ছিদ্র থাকে। অনেক জায়গায় বাঁশের স্টিমারও ব্যবহার করা হয়। তবে সবজির পুর দেওয়া হল মূলত মোমো কিন্তু মাংস দিয়েই তৈরি হতো। আরও বিশেষভাবে বলতে গেলে মোষ এবং ইয়াকের মাংস, কারণ নেপাল ও তিব্বতের হিমালয় অঞ্চলে সবজির প্রচুর অভাব ছিল। কিন্তু যখন এই পদ নেপালের সীমা ছাড়িয়ে ভারতে এল, তখন নিরামিষের স্বাদ জুড়ল এই খাবারে। আসলে মোমো কিন্তু স্ট্রিট ফুড নয়। পাহাড়ে প্রায় প্রতি বাড়িতে তৈরি করা হয় মোমো। নেপাল, তিব্বত, ভুটান, সিকিম, অসম এবং উত্তরবঙ্গে মোমো এক ঐতিহ্যবাহী খাবার।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।