কলকাতার ঝালমুড়ির বিদেশ ভ্রমণ! লন্ডনের মাটিতে যেভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠল বাংলার স্ট্রিট ফুড
Kolkata's Jhalmuri at London : কলকাতাকে লন্ডন বানানোর যে স্বপ্নের কথা বারবার শোনা যায়, সেই স্বপ্নের কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে তা অবশ্য জানা নেই, তবে কলকাতার লন্ডন হওয়ার অনেক আগেই লন্ডন যে কলকাতা হয়ে গেল, তা অবশ্য বলতেই হচ্ছে।

খুচরো খিদেয় রাস্তার খাবারের জুড়ি মেলা ভার। কলকাতা শহর অথবা শহরতলির রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে ফুচকা, আইস্ক্রিম, ঝালমুড়ি অথবা রোল, চাউমিনের দোকান। এককথায় স্ট্রিট ফুডের জন্য জনপ্রিয় এই শহর। এমনিতেই বাঙালি খাদ্যপ্রেমী, তাই চলতে ফিরতে পেটে কিছু না পড়লে যেন চলে না। কিন্তু তাই বলে বাঙালির এই খাদ্য প্রেম যে দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও পাড়ি দিতে পারে, এ কথা অবশ্য অনেকেই ভাবতে পারেননি। আজকাল অবশ্য কর্মসূত্রে বিদেশেও বাঙালির বসবাসের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর বাঙালির সঙ্গে সঙ্গে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে তার খাবারও। বাঙালির খাবারের রেস্তোরাঁ এখন বিশ্বের প্রায় সর্বত্রই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। কিন্তু তাই বলে বাংলার স্ট্রিট ফুডও যে দেদার বিকোতে পারে বিদেশের রাস্তায় এ কথা অবশ্য জানা ছিল না।
সম্প্রতি ইউএস-ইন্ডিয়া ইমপোর্টার্স কাউন্সিলের সভাপতি এবং রিচ মাইন্ডস সেন্টার অফ এক্সিলেন্সের সিইও রবি নায়ার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেই ভিডিওতেই দেখা গিয়েছে লন্ডনের রাস্তায় ভারতীয় ঝালমুড়ির দোকান। একই রকম আদলে খাবারের গাড়ি, আর তাতে বড় বড় করে লেখা রয়েছে ‘jhalmuri’। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, একজন বিদেশীকে ওই দেশে বাঙালির খাবার বিক্রি করতে দেখে তাঁর খুবই ভালো লেগেছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কীভাবে এই ফুচকা এল, কারা আমদানি করল ফুচকা? ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ফুচকার ইতিহাস নিয়ে দুটি ভিন্ন মত প্রচলিত। একটি, পৌরাণিক অন্যটি, ঐতিহাসিক।
কলকাতাকে লন্ডন বানানোর যে স্বপ্নের কথা বারবার শোনা যায়, সেই স্বপ্নের কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে তা অবশ্য জানা নেই, তবে কলকাতার লন্ডন হওয়ার অনেক আগেই লন্ডন যে কলকাতা হয়ে গেল, তা অবশ্য বলতেই হচ্ছে। দৃশ্যটা একবার ভাবুন তো! আপনি লন্ডনের ওভাল স্টেডিয়ামে গিয়েছেন বিশ্বকাপ ক্রিকেট দেখতে। ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ। মাঝে হয়তো কখনও খিদে মেটাতে বেড়িয়েছেন স্টেডিয়ামের বাইরে। পর পর থরে থরে সাজানো রয়েছে হরেক রকমের খাবারের স্টল, আর তার ঠিক মাঝেই কিনা দেখলেন মুড়ি, পেঁয়াজ, আলু, বাদাম, ঝাল-মশলা, লেবু সহযোগে খাঁটি কলকাত্তাইয়া মুড়ি মাখার স্বাদ! বিদেশের মাটিতে এসেও কলকাতা শহরের টুকরো ছবিটা নিমেষেই নজর কেড়ে নেয়। ময়দানের ম্যাচ, হাতে ঝালমুড়ির ঠোঙা, গোটা বিষয়টা জমে যাওয়া কিছু অস্বাভাবিক নয়। তবে এই সবের মধ্যে অবাক করার ব্যাপার হল যেটি সেটি হল, বিদেশের মাটিতে এই এতকিছু বানাচ্ছেন যে লোকটি তিনি কিন্তু মোটেই ভারতীয় কেউ নন। খাঁটি সাহেব মানুষ। নাম, অ্যাঙ্গাস ডেনুন। ২০১৯ সালে তিনি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বাইরে প্রথম তাঁর এই অভিনব স্টল দেন।
কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগ বলতে ওই বার কয়েকের ভ্রমণ মাত্র। আদতে তিনি লন্ডনেরই বাসিন্দা। তবে কাজের সূত্রে বেশ কয়েকবার এসেছেন আমাদের তিলোত্তমায়। বিবিধের মাঝে যে মিলনের গল্প বলে ভারতীয়রা, সেই গল্পে বাঙালি খাবারের স্বাদ রয়েছে অটুট। তাই সেই স্বাদে মজেছিলেন খোদ ডেনুন সাহেবও। কলকাতাতে এসেই ঝালমুড়ির স্বাদ পেয়েছিলেন প্রথমবার ৷ ব্যস, তখন থেকেই প্ল্যান করেছিলেন লন্ডনের মানুষকেও চেখে দেখাতে হিবেসেই স্বাদ। সেই ভাবনা মেনেই বিদেশের মাটিতে আস্ত একটা ঝালমুড়ির দোকান খুলে বসেন তিনি। চাকা লাগানো এই ঝালমুড়ির স্টল নিয়ে তিনি শহরের পথে পথে ঘুরে বিক্রি করেন। নাম দিয়েছেন ঝালমুড়ি এক্সপ্রেস। এক্কেবারে কলকাতার মতো করেই ‘ঝালমুড়ি, ঝালমুড়ি !’ চিকার করে ফেরি করেন তিনি। আর বিদেশে গিয়েও বেশ জমিয়ে ব্যবসা করে বাঙালির খাবার। খদ্দেরদের মুখের হাসি আর ‘ঝালমুড়ি ওয়াজ সুপার্ব!’ এই বাহবাটুকুই নিমেষে লন্ডনের মাটিতে জিতিয়ে দেয় বাঙালিদের।
















