ধ্বংসের মধ্য দিয়ে যাত্রা, যুদ্ধের মধ্যেও ইউক্রেনে থামেনি গান

Piya Saha
৩ মিনিট
ধ্বংসের মধ্য দিয়ে যাত্রা, যুদ্ধের মধ্যেও ইউক্রেনে থামেনি গান

যুদ্ধকে সঙ্গী করেই কেটে গেল ৪৫ দিন। কিন্তু এখনও মেলেনি কোনও রফাসূত্র। রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ যেন শেষ হয়েও শেষ হচ্ছে না। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের বাতাসে শুধুই গোলা–বারুদের গন্ধ। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে কিভ, খারকিভ–সহ দেশের একাধিক জায়গা। জীবনের বাঁক ঘুরিয়ে দিয়েছে যুদ্ধ। শুরুর দিকে অনেকেই চেষ্টা করেছেন সীমান্ত পেরিয়ে অন্যত্র আশ্রয় খুঁজতে। অনেকে খুঁজেও পেয়েছেন নিরাপদ আশ্রয়স্থল, অনেকে আবার জীবনের ঝুঁকি নিয়েই থেকে গেছেন নিজের দেশে। আত্মীয়-পরিজন,স্থায়ী ঠিকানা, আদরের পোষ্যটাকে হারিয়ে তছনছ হয়ে গেছে জীবন। তবু জীবন থেমে নেই। প্রতি মুহূর্তে নতুনভাবে অন্বেষণ করতে হয়েছে বেঁচে থাকার রসদ। ইউক্রেনবাসীর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবনধারণের এমন ছোট ছোট ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

এমনই একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রুশ মিসাইলের হানায় চারদিকে ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছে বাড়ির ধ্বংসাবশেষ। সেই ধ্বংসস্তূপের মাঝে এক ভদ্রলোক বসে আছেন চেলো হাতে। হৃদয়বিদারী সুর তুলেছেন তাঁর বাদ্যযন্ত্রে। পিছনে থাকা উঁচু বিল্ডিংয়ের দেওয়াল ভেঙে উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে সব ঘরগুলি। প্রায় ভেঙে পড়া ঘরগুলির একটিতে দেখা যাচ্ছে এক বৃদ্ধকে। ভাঙাচোরা ঘরের ভেতর থেকে অবশিষ্ট প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করে নিচ্ছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এই ভিডিও। নেট নাগরিকদের অনেকেই কুর্নিশ জানিয়েছেন এমন হার না-মানা জীবনের রূপকে। চেলোর সুর তাঁদের মনে করিয়ে দিয়েছে যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক ভয়াবহতার স্মৃতিকে। যেন রোমান পোলানস্কির ‘দ্য পিয়ানিস্ট’-এর দৃশ্য। প্রত্যেকই ইউক্রেনবাসীর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। অন্য আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ইরপিন শহরের সাংস্কৃতিক ভবনটি পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে। তছনছ হয়ে যাওয়া সেই বাড়ির সিঁড়িতে বসে আপন মনে চেলো বাজিয়েই চলেছে একটি ছেলে।

যুদ্ধের দেড় মাস কেটে গেলেও এখনও সাফল্য অধরা রয়ে গেছে রাশিয়ার। উল্টে মুখোমুখি লড়াইয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ইউক্রেন। রাজধানী কিভ শহরে কোণঠাসা রুশ সেনাবাহিনী। আন্তর্জাতিক এক সংবাদমাধ্যমের ভিডিও বার্তায় দেখা গেছে, শহরবাসীর অনেকেই ধীরে ধীরে নিজের বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করছেন। কিছু ক্যাফেতে মানুষের আনাগোনাও লক্ষ করা গেছে। সাধারণ জীবনে ফেরার মরণপণ চেষ্টা করছেন নাগরিকরা। যুদ্ধ শুরু হতেই দেশের অনেকে দীর্ঘদিনের জন্য আশ্রয় নিয়েছিলেন বাঙ্কারে বা বিভিন্ন বম্ব শেল্টারে। অনেকে বেরিয়ে আসছেন সেইসব জায়গা থেকে। একটি ভিডিওতে চোখে পড়েছে, ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এই মানুষদের ড্রাম, স্যাক্সোফোন বাজিয়ে নতুন এই জীবনে স্বাগত জানাচ্ছেন।

আরেকটি নাচের ভিডিও নেট-নাগরিকদের মন কেড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা গেছে, এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও একদল ট্যাঙ্গো ড্যান্সার কিভের একটি পার্কে মিলাঙ্গো গানের তালে পা মেলাচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও দেখে অনেক ইউক্রেনবাসীই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে খানিক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। নাচের দলের একজন সদস্য, ৪৩ বছর বয়সি ভ্যালেন্টিনা বেলইয়েভার কথায়, ‘আমাদের নাচের কোনও পরিকল্পনাই ছিল না। কিন্তু সেই মুহূর্তে স্বভাবতই করে ফেলেছি। চারপাশের মানুষগুলিকে জীবিত দেখে ভীষণ আনন্দ হচ্ছিল। সেনারা প্রথমদিকে একটু সাবধানতা অবলম্বন করলেও, পরে আমদের কিছু বলেনি।’ কান পাতলে এখনও যুদ্ধবিমানের সাইরেন শোনা যায়। কিন্তু জীবন তো কিছুকেই পরোয়া করতে চায় না। তাই যুদ্ধের মধ্যেও, এমনভাবেই বোধহয় জীবন জিতে যায়।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার শেয়ার করা ছবিতে দেখা মিলছে এক মহিলার। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গ্যাস, জল, বিদ্যুতের অভাবে অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে রাস্তার ধারের আগুনে রান্না করছেন তিনি।অন্য আরেকটি ছবিতে দেখা গেছে ছোট শিশুকে সাইকেলে চাপিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক ভদ্রলোক। রাস্তার ধারে তখনও পড়ে বেশ কয়েকটি মৃতদেহ।

টুকরো টুকরো এই ছবিই প্রমাণ করে দেয়, ইউক্রেনবাসী সাধারণ জীবনে ফিরতে কতখানি মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এখনও পর্যন্ত খারকিভ শহরে থামেনি রুশ বাহিনীর গোলাবর্ষণ। বুকায় প্রাণ হারিয়েছেন বহু সাধারণ নাগরিক। বিভিন্ন দেশের কাছে অস্ত্র-সাহায্য চাইছেন দেশের নেতারা। এই অবস্থায় শান্তিপূর্ণ জীবনে ফিরতে নাগরিকদের আরও কতটা সময় লাগবে, তার উত্তর অধরা।

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।