অস্ত্রেও রাশিয়াকে টেক্কা, ‘চাণক্য’ জেলেনস্কির কূটবুদ্ধির জোরে এগিয়ে ইউক্রেন

rudranjan
৩ মিনিট
অস্ত্রেও রাশিয়াকে টেক্কা, ‘চাণক্য’ জেলেনস্কির কূটবুদ্ধির জোরে এগিয়ে ইউক্রেন

সংস্কৃতে একটি প্রবাদ আছে, ‘বলং বলং বাহু বলং।’ এই প্রবাদবাক্য যেন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেন্সকির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রযোজ্য। দিনকয়েক আগেই নিরাপত্তা পরিষদে রাষ্ট্রপুঞ্জের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। যুদ্ধবাজ রাশিয়ার বিরুদ্ধে তারা যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না, এমনটাই ছিল তাঁর অভিযোগ। ইতিপূর্বে ইউক্রেনের সদস্যপদ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট না করায় ন্যাটোর বিরুদ্ধেও উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন জেলেন্সকি। রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে রোজ। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপুঞ্জের অন্তর্গত অধিকাংশ দেশই জেলেন্সকিকে নৈতিক সমর্থন জানিয়ে দায় সেরেছে, কিন্তু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি প্রায় কেউই। এই অবস্থায় কূটবুদ্ধির জোরে সামরিকভাবেও রাশিয়াকে টেক্কা দেওয়ার অবস্থানে পৌঁছল ইউক্রেন।

ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী দিমিত্রি কুলেবা ৭ এপ্রিল ন্যাটোর সদর দপ্তরে ন্যাটোর মুখ্যসচিব জেন্স স্টেলানবার্গের সঙ্গে বৈঠকে জানান, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের এখন মূলত অস্ত্রের প্রয়োজন, টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘ওয়েপনস, ওয়েপনস অ্যান্ড ওয়েপনস।’ তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সামরিক সাহায্যের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রসঙ্গত, ইতিপূর্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকে প্রায় ২ কোটি ডলার দিয়ে সাহায্য করেছে তারা। এবার ইউক্রেনকে ৩০ কোটি ডলার দিল জো বাইডেনের দেশ। এছাড়াও তাদের সাহায্যের তালিকায় রয়েছে বেশ কিছু উন্নতমানের অস্ত্র।

গত কয়েকদিনে হাইপারসনিক অস্ত্রের সাহায্যে ইউক্রেনে বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে রাশিয়া। এছাড়াও প্রতিবেশী দেশের বেশ কিছু অংশে নিয়মিত মিসাইল আক্রমণ চালিয়েছে পুতিনের সেনাবাহিনী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যের ফলে রুশ হানাদার বাহিনীর আক্রমণের জবাব দেওয়ার মতো অস্ত্র এসে পৌঁছল ইউক্রেনের হাতে। বাইডেন সরকারের কাছ থেকে তারা পেল ৫০০০ এফজিএম-১৪৮ জ্যাভলিন। গত কয়েকদিন ধরে আমেরিকার তৈরি এই ট্যাঙ্কের ধাক্কা সামলাতে প্রায় হিমশিম খেয়েছে রুশ সেনাবাহিনী। এ ছাড়াও জেলেন্সকির সেনাদের হাতে এসেছে ১,৪০০ স্ট্রিঙ্গার ক্ষেপণাস্ত্র। রুশ যুদ্ধবিমানকে টক্কর দিতে এই ক্ষেপণাস্ত্রই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।

ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে শত্রুপক্ষের একের পর এক সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস হচ্ছে। ইতিপূর্বে ইউক্রেনের শহরাঞ্চলের সিংহভাগকে টি-৯০ এবং টি-৭২ ট্যাঙ্ক ব্যবহার করে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছিল রাশিয়া । এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এটিজিএম জ্যাভলিনের দৌলতে সেই ট্যাঙ্কগুলোই গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম হল জেলেন্সকির সেনাদল। সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া কিছু ভিডিও ফুটেজে এমন চিত্রই ধরা পড়েছে। তবে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শরিক বোধহয় শুধুমাত্র ইউক্রেনের সেনারা নয়। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের গোড়ায় জেলেন্সকি নিজে রণসাজে সুসজ্জিত হয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছিলেন। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি জানিয়েছিলেন, দেশ ছেড়ে তিনি কোথাও যাচ্ছেন না, এই যুদ্ধের শেষ দেখেই তিনি ছাড়বেন। কঠিন পরিস্থিতিতেও ইউক্রেনবাসীকে প্রতিনিয়ত সাহস জুগিয়েছেন জেলেন্সকি। ফলত, উদ্বুদ্ধ হয়ে ইউক্রেনের আমজনতাও সেনাদের পাশে দাঁড়িয়ে অস্ত্র তুলে নিয়েছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। যদিও, অস্ত্র সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে যাওয়ায় ইউক্রেনে অপরাধের মাত্রা বাড়ছে বলে জানা যাচ্ছিল, কিন্তু যুদ্ধের ক্ষেত্রে এর প্রভাব ইউক্রেনের পক্ষে সদর্থক বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইউক্রেনকে পর্যুদস্ত করতে বেশ কিছু প্রাণঘাতী অস্ত্রের সাহায্য নিয়েছিল পুতিনের সৈন্যরা। সেই তালিকায় আছে ভ্যাকুয়াম বোমা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর চেয়ে নৃশংস অস্ত্র বড় বেশি নেই। আশেপাশের পরিবেশ থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে এই বোমা। এছাড়াও রয়েছে 'নেক্সট জেনারেশন লাইট অ্যান্টি ট্যাংক ওয়েপন'। প্রায় ৮০০ মিটার দূর থেকে শত্রুপক্ষের ট্যাংককে নিমেষে উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এই অস্ত্র।

এতকিছুর পরেও জেলেন্সকি 'বিনা‌ যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী'‌ নীতিতেই হাঁটছেন। শুধু সাহস নয়, তার পাশাপাশি তুখড় বুদ্ধিবলেও রাশিয়াকে এক কদম এগোনোর বিনিময়ে দু’কদম পিছোতে বাধ্য করেছেন জেলেন্সকি।

রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিণতি কী হতে পারে– তা নিয়ে কোনওরকম ভবিষ্যৎবাণী এখনও করা সম্ভব নয়। দুই দেশের আলোচনার মধ্যে দিয়ে পারস্পরিক কোনও সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসতেও পারে। বস্তুত, বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এমনটা হওয়ার সম্ভবনাই বেশি। তবে, যুদ্ধের পরিণতি যাই হোক না কেন, রাশিয়ার মতো একটা শক্তিশালী দেশের বিরুদ্ধে নির্ভয়ে লড়ছে ইউক্রেন।

লিখেছেন
rudranjan
rudranjan
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।