কাঁচাই চিবিয়ে খাচ্ছেন ঝাল লঙ্কা, মানুষ হিসেবে আপনি কেমন?
Eating Habit : ঝালে পোড়া ফুচকা গোগ্রাসে খেয়েও ফেলছেন আপনি। আর তাই দেখে কিনা পাশের মানুষটা মন পড়ে ফেলছেন আপনার

বাঙাল ঘটির চিরকালীন যে দ্বন্দ্ব তার শুরুটা হয় হেঁশেল থেকেই। রান্নার স্বাদেই নাকি মানুষ চেনা যায়। আবার অনেকেই বলেন পছন্দ দিয়েও চেনা যায় মানুষের চরিত্র। টক, মিষ্টি, নোনতা অথবা ঝাল কোন স্বাদের খাবার পছন্দ করেন আপনি, সেটাই বলে দেবে আপনি আসলে মানুষ হিসেবে কেমন! ধরুন আপনি ফুচকা খেতে গিয়েছেন, দোকানে দাঁড়িয়ে ক্রমাগত দোকানদারকে বলছেন, “বেশি করে ঝাল দিয়ে মাখবেন”। তারপর সেই ঝালে পোড়া ফুচকা গোগ্রাসে খেয়েও ফেলছেন আপনি। আর তাই দেখে কিনা পাশের মানুষটা মন পড়ে ফেলছেন আপনার! শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি, বেশ কিছু গবেষণার ওপর ভিত্তি করে ঝাল খেতে পছন্দ করে মানুষ আসলে কেমন হন সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছন গবেষকরা। যদিও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতেই পারে তবে, এখন জেনে নেওয়া যাক সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলিই।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ানপোল নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তরফে সম্প্রতি একটি গবেষণা করা হয়। ফ্র্যাঙ্কস রেডহট নামের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের হয়ে করা নতুন গবেষণায় জানা গিয়েছে, মানুষের খাদ্যাভ্যাস মানুষের গোপন চরিত্র ফাঁস করে দিতে পারে। প্রচলিত কথা অনেকেই বলেন মিষ্টি খেতে পছন্দ করে মানুষ নাকি মিষ্টভাষী, আর ঝাল খেলেই রাগী, দজ্জাল। তবে গবেষকরা এমন কোনও কিছুই বলেন না।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Depression: আমরা জীবনের কোনও সময়ে অবসাদের শিকার হব কিনা তা কিন্তু অনেকটাই থাকে আমাদের শরীরে থাকা জিনের নিয়ন্ত্রণে।
২০০০ জন আমেরিকান নাগরিকের উপর চালানো একটি সমীক্ষায় জানা যায়, ঝাল খেতে পছন্দ করে মানুষের প্রায় ৭৬ শতাংশই সব সময় কিছু না কিছু কাজের মধ্যে থাকতে পছন্দ করেন। অর্থাৎ এক কথায় বলতে গেলে এঁরা মোটেই কুঁড়ে প্রকৃতির হন না। অন্যদিকে, এঁদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায় এটা নিজেদের জীবন নিয়েই বেশি আগ্রহী। অন্যের বিষয় বিশেষ মাথা ঘামাতে পছন্দ করেন না। তবে কোন মানুষ কতটা ভালো কতটা মন্দ তার বিচার অবশ্য সত্যিই এইভাবে করা সম্ভব নয়, নিশ্চিত হওয়া তো একেবারেই অসম্ভব।
এছাড়াও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়, ঝাল পছন্দ করা মানুষ নাকি স্পষ্ট বক্তা এবং সাহসী প্রকৃতির হন। নিজের মনের মধ্যে অন্যান্য ধারণা নিয়ে জট পালিয়ে ফেললেও মনের দিক থেকে এটা হন সাচ্চা। জীবনে উন্নতির শিখরে পৌঁছতে পারেন এঁরা। অন্যের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পছন্দ করেন। কেউ বিপদে পড়লে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যদিও কোনও গবেষণাই ব্যতিক্রমদের নিয়ে কথা বলে না। অথচ আলোচনা পরিপূর্ণ হয় তখনই যখন ব্যতিক্রমী আলোচনাও সংযুক্ত হয়। তাই উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যগুলিই সব নয়। যদি কোনও ব্যক্তি নিজেকে এই তালিকার সঙ্গে মেলাতে না পারেন তবে মনমরা হবেন না, বরং ভাববেন আপনিই সেই ব্যতিক্রমী।
















