ঘটা করে হাতি পুজো! এই অভিনব লোকাচার দিয়েই শুরু হয় ডুয়ার্সের পর্যটন
Chilapata, Dooars: মহাকাল পুজোর মাধ্যমে শুরু হয়ে গেল ডুয়ার্সের পর্যটন।

লোকায়ত ধর্মের সঙ্গে মিশে রয়েছে বাংলার প্রাণীচেতনা সেই প্রাচীন কাল থেকে। পশুকথা থেকে মঙ্গলকাব্য- সর্বত্র উদাহরণ পাওয়া যায়, কীভাবে পশুপাখিকে কখনও উন্নীত করা হয়েছে দেবোত্তর পর্যায়ে, কখনও আবার পশুদের থেকে উদ্ধার পেতে আরাধনা করা হয়েছে দেবতাদের। 'রায়মঙ্গল' কাব্যের হাত ধরে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন দক্ষিণরায়। তেমনই দক্ষিণবঙ্গে বনবিবিরও পুজো হয়। গ্রামবাসীরা বনবিবির মন্দিরে পুজো দিয়ে জঙ্গলে যেতেন মধুর খোঁজে বা চিংড়ির মিন জোগাড় করতে। তাঁদের বিশ্বাস ছিল, বনবিবি বাঘের আক্রমণ থেকে তাঁদের প্রাণরক্ষা করবেন। আর এই বিশ্বাস আবহমান। এতে পশুপাখির সঙ্গে মানুষের সংযোগের মধ্যে প্রয়োজনীয় সম্ভ্রমও বজায় থাকে।

মহাকাল পুজোয় আরাধ্য হয় হাতিরা
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ডুর্য়াস মানে কেবল লাটাগুড়ির জঙ্গল নয়, এর বাইরেও রয়েছে অনেক অফবিট জায়গা, যেখানে আজও সেভাবে মানুষ পৌঁছতে পারেননি।
একইভাবে উত্তরবঙ্গেও বিভিন্ন জঙ্গলে হাতিকে মহাকাল হিসেবে পুজো করা হয়। মহাকালকে তুষ্ট করে হাতির আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা যেমন হয়, তেমন অরণ্যের বাসিন্দা হিসেবে হাতিকে যেন বরণও করে মানুষ। পূর্ব ডুয়ার্সের চিলাপাতায় এই মহাকাল পুজো অনেক বছর আগে শুরু হলেও পর্যটনের সঙ্গে এই পুজো জড়িয়ে গেছে এগারো বছর হলো। মহাকাল আরাধনা, অর্থাৎ হাতিপুজো পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠেছে বিশেষ আকর্ষণ। চিলাপাতার সাফারির জন্য ব্যবহৃত জিপসির চালক, গাইড এবং পর্যটনের সঙ্গে জড়িতরা প্রত্যেকে এই পুজো দেন, জঙ্গল সাফারি-র সময় যাতে কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা বা দুর্ঘটনার কবলে না পড়তে হয়, একথা প্রার্থনা করেন সকলেই।
চিলাপাতায় মহাকাল পুজোকে কেন্দ্র করে 'কালচারাল ট্যুরিজম'-এর শুরু হয় প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর। সেইদিন হয় মহাকাল পুজো। ঠিক তার পরের দিন, অর্থাৎ ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে জঙ্গলে সাফারি শুরু হয়।ফলে বলা যায়, চিলাপাতায় এই পুজো জঙ্গল পর্যটনের শুভ মহরৎও বটে। এই পুজোর দিন বিভিন্ন জনজাতির শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন, পুজো অনুষ্ঠিত হবার পরে ভোগ বিতরণ করা হয় বনবস্তিবাসী এবং উপস্থিত পর্যটকদের মধ্যে।

সংগীত পরিবেশন করেন স্থানীয়রা
পুজো এসে গেল দোরগোড়ায়। পর্যটনের পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেছে পুরোদমে। জঙ্গল পর্যটনের শুরুও হয়ে গেল সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই। রাজ্যের মধ্যে ডুয়ার্সের বনাঞ্চল সবসময়ই পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। এবারও কি ভিড় জমাবে জঙ্গলপ্রেমীর দল?















