দশ মিনিটে ডেলিভারি! ডেলিভারি 'বয়'-দের প্রতি আমরা কতটা মানবিক? মহুয়া মৈত্র উসকে দিচ্ছেন যে প্রশ্ন

মহুয়া মৈত্রর আশ্বাসে কি বদলাবে ডেলিভারি বয়দের জীবন? উত্তর দেবে সময়।

Aritra Dasgupta
৩ মিনিট
দশ মিনিটে ডেলিভারি! ডেলিভারি 'বয়'-দের প্রতি আমরা কতটা মানবিক? মহুয়া মৈত্র উসকে দিচ্ছেন যে প্রশ্ন

অর্ডার দেওয়ার দশ মিনিটের মধ্যেই আপনার দরজায় পৌঁছে যাবে খাবার। বর্তমানে বিভিন্ন খাবার ডেলিভারি সংস্থাগুলো এই আশ্বাস দিয়েই গ্রাহক-সংখ্যা বাড়ানোর পথে হাঁটছে। খাবার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় যে কোনও পণ্য সবই এখন মেলে অ্যাপে অর্ডারের মাধ্যমে। আর সেখান থেকেই শুরু প্রতিযোগিতা। কে কার আগে গ্রাহকদের দরজায় খাবার পৌঁছে দিতে পারবে, তা হচ্ছে প্রতিযোগিতার বিষয়। কিন্তু এই পণ্য বা খাবার পরিবহনের দায়িত্বে যাঁরা, সেই ডেলিভারি বয়দের কথা ভাবছে না কোনও সংস্থাই। এই দশ মিনিটের চ্যালেঞ্জ নিতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে ডেলিভারি বয়দের।

ডোমিনোজ থেকে শুরু করে জোম্যাটোর মতো বিখ্যাত খাবার ডেলিভারি সংস্থাও ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে গ্যারান্টিড ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাজার ধরতে চাইছে। ব্যবসার খাতিরে সংস্থাগুলোর এই নীতি নিয়েই এবার সরব হয়েছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। নিজেদের ব্যবসায়িক লাভের জন্য একদল নিরীহ মানুষদের কেন কোম্পানিগুলো ব্যবহার করবে, সেই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মহুয়া। এই প্রসঙ্গে একটি টুইটে মহুয়া মৈত্র লিখেছেন, "১০ মিনিটে ডেলিভারির এই ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা উচিত বা একেবারে বন্ধ করে দেওয়া উচিত। ট্রাফিক আইন ভেঙে, নিজের এবং অন্যের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে ডেলিভারি বয়দের দিয়ে এই ধরনের কাজ কোনও সভ্য সমাজে চলতে পারে না।আমাদের এই সবকিছু তাড়াতাড়ি চাই কেবলমাত্র দ্রুত পিৎজার জন্য- এটা খুবই খারাপ বিষয়। আমি এই বিষয় নিয়ে সংসদের আগামী বাদল অধিবেশনে কথা বলব।"

গত মার্চ মাসেই জোম্যাটো দশ মিনিটে খাবার ডেলিভারি করার কথা ঘোষণা করে। জোম্যাটোর এই দশ মিনিট ডেলিভারি নীতি নিয়ে বিরোধিতায় সরব হয় গোটা দেশ। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ডেলিভারি বয় দের ওপর এইভাবে দশ মিনিটের ডেডলাইন চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনার বিরোধিতা করে। তখন সংস্থার তরফে জোম্যাটোর সিইও দীপিন্দর গয়াল বিতর্ক থামাতে বিবৃতি দিয়ে জানান যেসব এলাকায় খাবারের চাহিদা বেশি শুধু সেসব এলাকাতেই এই দশ মিনিটের নীতি মেনে চলবে জোম্যাটো। গয়ালের এই বিবৃতির পর ও কিন্তু থামেনি বিতর্ক। ঠিক কী জাদু বলে একজন ডেলিভারি বয় ব্যস্ত শহরগুলির রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে দশ মিনিটে খাবার পৌঁছে দেবে গ্রাহকের দরজায় এর কোনো সঠিক দিশা দেখাতে পারেনি জোম্যাটো।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সামান্য মদ্যপানও ডেকে আনতে পারে চরম ক্ষতি, বলছে নতুন গবেষণা

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্য বলছে, অত্যধিক অ্যালকোহল গ্রহণের ফলে বাহ্যিক লক্ষণ প্রকাশের আগেই হার্ট নষ্ট হতে শুরু করে।

ডেলিভারি বয়দের জীবন

আমরা যদি কেবল ভারতের পরিসংখ্যান ধরি, তাহলে বর্তমানে এখানে ৩০ থেকে ৪০ লাখ ছেলে ফুড ডেলিভারির পেশায় আছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। দিনে ১৫ ঘণ্টার বেশি সময় ডিউটি। বিনিময়ে যে অর্থ আসে, তাতে আজকের বাজারে সংসার চালানো মুশকিল। একটি সমীক্ষা বলছে, ডেলিভারি বয়দের মাসিক রোজগার ১৫০০০ থেকে ২০০০০। যেদিন কাজ করতে পারবেন না কোনও ডেলিভারি বয়, সেদিন তাঁর বেতন বন্ধ। ডেলিভারি বয়দের ক্ষেত্রে নেই কোনও ছুটি। ঝড়, জল, বৃষ্টি, রোদ যে কোনও পরিস্থিতিতেই খাবার পৌঁছে দিতে তাঁরা সংস্থার কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকে। আর পাঁচটা চাকরির মতো বোনাস মেলে যখন সেই ডেলিভারি বয় দুর্গাপুজো থেকে ইদ- যে কোনও উৎসবের দিনে ডেলিভারির কাজ করে।

আবার সংস্থার আদেশ না মানলে ঘাড়ে ঝুলছে জরিমানার খাঁড়া। সপ্তাহে পাঁচটা অর্ডার রিজেক্ট হলে সেই ডেলিভারি বয়কেই নিজের পকেট থেকে ৫০০ টাকা দিতে হয় তাঁর সংস্থাকে। সংস্থার বলে দেওয়া পোশাক না থাকলে আরও ৫০০ টাকা জরিমানা। এই রিস্ক ফ্যাক্টর মেনেই প্রত্যেকদিন কাজ করতে হয় ডেলিভারি বয়দের। আবার দ্রুত খাবার ডেলিভারি করতে গিয়ে দুর্ঘটনা তো আছেই। অনেক সময় চাকরির খাতিরে দ্রুত ডেলিভারি দিতে গিয়ে ট্রাফিক ভেঙে জরিমানার মুখেও পড়তে হয় ডেলিভারি বয়দের। এতকিছুর পরেও নেই চাকরির কোনও নিরাপত্তা। জোম্যাটো, সুইগি থেকে শুরু করে বিগ বাস্কেট, গ্রফার্স, উবের ইটস- সব ফুড ডেলিভারি সংস্থাই তাঁদের ডেলিভারি বয়দের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করে। সংস্থার অ্যালগরিদম বাড়াতে না পারলে চাকরি থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়। এইসব ঝুঁকি মাথায় নিয়েই আমার-আপনার বাড়িতে বাড়িতে খাবার পৌঁছতে যায় ডেলিভারি বয়রা। এই বিষয়ে এখনও অবধি নেই কোনও সরকারি নিয়ম। মহুয়া মৈত্রর আশ্বাসে কি বদলাবে ডেলিভারি বয়দের জীবন? উত্তর দেবে সময়।

লিখেছেন
Aritra Dasgupta
Aritra Dasgupta
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।