ভোটের আগেই কেন ভাইকে 'ত্যাজ্য' করলেন মমতা?

Mamata Banerjee-Babun Banerjee: কার্যত ভাই হিসেবে বাবুনকে মানতেই আপত্তি জানিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, “আজ থেকে আমার ভাই হিসেবে ওর পরিচয় দেবেন না। পৃথক নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতেই পারেন। আমার নামটা ব্যবহার করবেন না।"

Sohini Das
৩ মিনিট
ভোটের আগেই কেন ভাইকে 'ত্যাজ্য' করলেন মমতা?

ভোটের আগে রাজনীতির ময়দানে কত রংই তো বদলায়। লোকসভা ভোটের ঢাকে কাঠি পড়তে না পড়তেই একের পর এক চমক। এবার নিজের ভাইয়ের সঙ্গেই সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে বসলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরকন্যায় সাংবাদিক বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেন মমতা, 'আজ থেকে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলাম। আর কেউ ওঁকে আমার ভাই হিসাবে পরিচয় দেবেন না। আজ থেকে সব সম্পর্ক ছেদ।' কিন্তু হঠাৎ এমন হলটা কী যে আদরের ছোটভাইয়ের দিক থেকে মুখ ফেরালেন দিদি।

শোনা গিয়েছে, লোকসভা ভোটের মুখেই গোঁসা হয়েছিল ভাই বাবুন বন্দ্য়োপাধ্যায়ের। হাওড়ার তৃণমূল প্রার্থী প্রসূন বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে নিয়ে সরব হন তিনি। এমনকী হাওড়ায় নির্দল হয়ে ভোটে লড়ার বার্তাও দেন। আপাতত দিল্লিতে রয়েছেন মমতার ভাই। তাঁর বিজেপিতে যোগদান নিয়েও জল্পনা ছড়ায়। আর তাতেই ক্ষুব্ধ হন তৃণণূল সুপ্রিমো।

বুধবার উত্তরকন্যা থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাঁকে ভাই বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মমতা সাফ জানান, “আপনাদের একটা কথা বলি। এটা আমি শুনেছি। আমি যে দিন থেকে পার্টি করি, কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে কাজ করি। আমার পরিবার বলে কিছু নেই, আমার পরিবার মা-মাটি-মানুষের পরিবার। “আমাদের পরিবারের প্রায় ৩২ জন মেম্বার আছে। আমাদের কেউ কিন্তু এরকম নয়। আমি সরাসরি বলছি, বড় হলে কারও কারও লোভ একটু বেশি বেড়ে যায়। পরিবারটাকে বাদ দিয়ে যে যার খেলা খেলুক। আমার পরিবারের ও কোনও মেম্বার বলে আমি মনে করি না।” আরও স্পষ্ট করে মমতা বলেন, “আজ থেকে আমি সব সম্পর্ক শেষ করলাম। শুধু আমি নই, মা-মাটি-মানুষের পরিবারেরও যারা আছে, তাদের সবার সঙ্গে ওর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেল।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
টিকিট পাননি, পাঁচ বছরে যাদবপুরের জন্য কী করলেন মিমি চক্রবর্তী?

Mimi Chakraborty Jadavpur MP Performance: ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১১ টি সিনেমা করেছেন মিমি। এই বছরই বাংলাদেশের তারকা শাকিবের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করছেন।

কার্যত ভাই হিসেবে বাবুনকে মানতেই আপত্তি জানিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, “আজ থেকে আমার ভাই হিসেবে ওর পরিচয় দেবেন না। পৃথক নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতেই পারেন। আমার নামটা ব্যবহার করবেন না। সব সম্পর্ক আমি শেষ করে দিয়েছি। কোনও সম্পর্ক নেই। আমাদের দল যাকে প্রার্থী করেছে, তিনিই আমাদের প্রার্থী। প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় অর্জুন পুরস্কার প্রাপ্ত।” অনেক দিন ধরেই যে বাবুনের নামে অভিযোগ জমা হয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমোর কাছে। নিজেও বাবুনের কাজ নিয়ে বেশ অখুশি ছিলেন মমতা। এদিন তিনি জানান, “যে ভদ্রলোকের নাম আপনারা বলছেন, তার অনেক কাজকর্মই অনেক দিন থেকে আমি পছন্দ করি না। আমি অন্যায় কখনও সহ্য করি না। কিন্তু সবাই তো বাইরে সব বলতে পারে না। অনেক সময় বুক ফাটে তবু মুখ ফোটে না।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দেবাংশু না অভিজিৎ, তমলুকে ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে কে?

Lok Sabha Election 2024: তদূর শোনা যাচ্ছে, তমলুক থেকেই আসন্ন নির্বাচনে দাঁড়াতে চলেছেন অভিজিৎ। যেখানে তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ হতে চলেছেন তৃণমূলের দেবাংশু ভট্টাচার্য। সেখানে কি হতে চলেছে 'কাঁটো কা টক্কর'?

বাবুনের বিজেপিতে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা শুনে আরও রেগে যান তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর কথায়, “যে যেখানে ইচ্ছে যেতে পারে। কিছু লোক আছে, যাদের ভোট এলে কাউন্সিলরেরও টিকিট চাই, এমএলএ-রও টিকিট চাই, এমপি ভোটেও দাঁড়াতে হবে। আমাদের পরিবারের সবাই যদি বলে ভোটে টিকিট চাই, তাহলে তো আমি পরিবারতন্ত্র করে ফেলব। আমি পরিবারতন্ত্র করি না, মানুষতন্ত্র করি। সবাইকে বলব, ওর সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক ছিল ভুলে যান। যে যেখানে খুশি লড়াই করতে পারে। আমি এত লোভী লোকদের পছন্দ করি না। প্রত্যেকটা ইলেকশনে অশান্তি করেছে। ওর পাশে যেন আমাদের পরিবারের নাম না থাকে।”

এদিকে দিদি বিরূপ হতেই সুর বদলালেন বাবুন। বুধবার সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, "ভুল করেছি বলেই দিদি বকেছে। দিদির সঙ্গে দেখা করে সব মিটিয়ে নেব।" বুধবার সকালে দিল্লি থেকে হাওড়া কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী হিসাবে ভোটে লড়বেন বলে ঘোষণা করেছিলেন বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওড়ার সাংসদ তথা তৃণমূলপ্রার্থী প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। এরপর শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি 'লোভী' বলে ভাইয়ের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা। সমস্ত সম্পর্ক ছিন্নের কথাও বলেছেন। যদিও সে কথা কানে যেতেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে পড়েছে ভাই বাবুন। এদিন বাবুনবাবু বলেন, ‘দিদি যা বলেছে, আশীর্বাদ হিসাবে নিচ্ছি। দিদি আমার কাছে ভগবান। অভিভাববক হিসাবে ঠিক বলেছে। দিদি আমার অভিভাবক। দিদি আমাকে মানুষ করেছে। দিদি যা বলেছে ঠিক বলেছে। গিয়ে দিদির সঙ্গে দেখা করব। আমি সব শুনেছি। আমি হয়তো ভুল করেছি, সেই জন্যই দিদি বলেছে’। তিনি এ-ও বলেন, "হাওড়া থেকে নির্দল প্রার্থী হিসাবে ভোটে দাঁড়াচ্ছি না।"

লোকসভা ভোটের আর দেরি নেই। এই পরিস্থিতিতে বাবুন যতই ড্যামেজ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করুন না কেন, ভাইয়ের প্রতি বীতশ্রদ্ধ মমতার মন কি গলবে আদৌ। এমনিতেই তৃণমূলের বিরুদ্ধেও কমবেশি পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ ওঠে। ভোটের আগে সেই বদনাম ঘোঁচাতেই কি নিজের ভাইয়ের প্রতি এমন বার্তা দিলেন মমতা? উঠেছে একাধিক প্রশ্নই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।