রাম মন্দিরের পরেই দিঘাতে মমতার জগন্নাথ ধাম! ১৪৩ কোটির মন্দিরে কী থাকছে?

Digha Jagannath Dham : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের বিরুদ্ধে বিজেপির তৈরি করা 'হিন্দু-বিরোধী' ইমেজ খানখান করে মন পেতে চাইছেন রাজ্যের হিন্দুদেরও।

inscript
৩ মিনিট
রাম মন্দিরের পরেই দিঘাতে মমতার জগন্নাথ ধাম! ১৪৩ কোটির মন্দিরে কী থাকছে?

২০২৪ কি মন্দির বর্ষ? বছর ঢোকার মুখেই দেশের রাজনীতির বাঁকবদলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরটি উদ্বোধনের কথা। রাম মন্দিরের আঁচ শুধু অযোধ্যা নয়, সারা দেশকে ছুঁয়েছে বিভিন্নভাবে। এমনকী বিরোধী রাজ্যেও বিজেপির এই মন্দির রাজনীতির ছায়া পড়েছে। ২০২৪ সালে এই রাজ্যেও আরেকটি মন্দির উদ্বোধন হতে চলেছে। দুই মন্দিরকে খুব আলাদাভাবে কি দেখা যায় এই প্রেক্ষিতে? দিঘায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৈরি করছেন জগন্নাথ ধাম। পুরীর সৈকত থেকে সোজা দিঘার সৈকত!

সমুদ্রতীরে অবস্থিত, নিউ দিঘা রেল স্টেশনের সংলগ্ন এই বিশাল জগন্নাথ ধাম ২২ একর জমি জুড়ে তৈরি হচ্ছে। একটি মন্দির গড়তে পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রায় ১৪৩ কোটি টাকা খরচ করছে৷ সব হিসেব ঠিক থাকলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের এই প্রকল্প, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এপ্রিলে তা ভক্তদের জন্যও খুলে দেওয়া হবে। জানুয়ারিতে রাম, এপ্রিলে জগন্নাথ! দেশের রাজনীতিতে মূর্তিমান ঈশ্বরের অবদান বা চাহিদা, দুই-ই এই মুহূর্তে আকাশছোঁয়া।

বিজেপি বারবার বলেছে, মমতা 'হিন্দু বিরোধী'। কেবলই সংখ্যালঘু তোষণের 'অভিযোগ' ওঠে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। তাই বিজেপির হিন্দুত্ববাদকে কি হিন্দুত্ববাদ দিয়েই উত্তর দিলেন মমতা? জগন্নাথ ধাম কি রাজ্যের হিন্দু ভোটারদের মন কাড়ার প্রকল্প নয়? বিজেপি এইখানে আরেক নতুন কথা তুলে ধরেছে। পুরো মন্দির প্রকল্পকেই ব বিজেপি বলছে 'প্রহসন'। বিজেপির দাবি, কোনও রাজ্য সরকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরিতে সাধারণ মানুষের করের অর্থ ব্যবহার করতে পারে না। তৃণমূল বলছে, স্থানীয় মানুষদের কথাকে মান্যতা দিয়েছেন মাত্র তারা!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদির রামমন্দির উদ্বোধনে কেন ব্রাত্য লালকৃষ্ণ আদবানিরা?

Ram Mandir Inauguration : লালকৃষ্ণ আদবানিকে অপছন্দ করার রাজনৈতিক কারণ রয়েছে নরেন্দ্র মোদির।

স্থানীয় সাধারণ মানুষের একাংশ মন্দির উদ্বোধনের অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। মন্দির মানেই পাশাপাশি আরও নানা কর্ম সংস্থান। মন্দির মানেই প্রচুর পরিমাণে পর্যটক এবং ভক্তদের আগমন। মানেই ব্যবসা। হোমস্টে, হোটেল এবং দোকানের রমরমা, বৈদ্যুতিক রিকশার ভিড়।

জগন্নাথ ধাম তৈরি করছে পশ্চিমবঙ্গ হাউজিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (ডব্লিউবিএইচআইডিসিও)। মন্দিরের নকশা এবং স্থাপত্যের দিকটি দেখছে কলকাতার সেলিয়েন্ট ডিজাইন স্টুডিও। এই ডিজাইন স্টুডিওই সিটি সেন্টার পাটনা, কলকাতার বিলাসবহুল তাজ তাল কুটির, বুটিক হোটেল রাজকুটির, মাদারের মোমের জাদুঘর, মিলন মেলা কনভেনশন সেন্টার এবং বাংলা মিষ্টি হাবের নকশাও করেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দিঘা-মন্দারমণি ফেল! এই 'গ্র‍্যান্ড ক্যানিয়ন'-ই এখন বাংলার সেরা উইকেন্ড ট্যুরিস্ট স্পট

Gongoni Weekend Tour: লোককাহিনি অনুযায়ী, পাণ্ডবরা নাকি তাঁদের অজ্ঞাতবাসের সময় মাথা গুঁজেছিলেন এই অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ছোট ছোট গুহাগুলিতে

জগন্নাথ ধামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল ২০১৯ সালে, কোভিড আসার ঠিক আগে। কোভিডের ফলে তিন বছর পর নির্মাণকাজ শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ওড়িশা, বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থান থেকে ১,০০০-এরও বেশি নির্মাণ শ্রমিক মন্দির গড়ার কাজ করছেন দিনরাত। শ্রমিকদের মধ্যেই রয়েছেন আগ্রার লিয়াকত আলি। ৭২ বছর বয়স তাঁর। খোদাইয়ে দক্ষ শিল্পী। তাঁর অধীনে, ১৫-২০ জন কর্মীর দল রাজস্থানের বিশেষ বংশী পাহাড়পুর বেলেপাথর দিয়ে তৈরি দেওয়ালে নকশা খোদাই করছে। উল্লেখ্য, এই একই পাথর অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

পাথরের উপর কোনও নকশা বা ছবি খোদাই করতে ১০-১৫ দিন সময় লাগে। ওড়িশার শিল্পীরা ৮ ফুট বেলেপাথরের খণ্ড খোদাই করে একটি সিংহ তৈরি করেছে। মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বারে বসানো হবে এই সিংহ৷ মন্দির চত্বরে এবং এর চারপাশে দু'টি বাঘ এবং ৬৯টি সিংহ বসানো হবে। পুরীর মন্দিরের দু'টি দরজায় বাঘ এবং সিংহ রয়েছে। শ্রমিকদের আরেকটি দল মন্দিরের গর্ভগৃহের উপর কাজ করছেন। সেখানে ২১৪ ফুট উচ্চতার একটি টাওয়ার হবে।

এতটা উচ্চতায় কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকরা সমস্যায় পড়ছেন। অনেকেই চূড়ায় উঠে কাজ করতে রাজিও হচ্ছেন না। নতুন নতুন কর্মীর খোঁজ তাই লেগেই আছে নিয়ত। যাতে অনেক উঁচু থেকে নীচে তাকিয়ে সমস্যা না হয় তাই টাওয়ারটিকে সবুজ কাপড়ে ঢাকা হয়েছে। ভিয়েতনাম থেকে আনা মার্বেল দিয়ে মন্দিরের মেঝে তৈরি করা হবে।

মন্দির প্রাঙ্গণে দু'টি প্রবেশপথ থাকবে, একটি সাধারণ ভক্তদের জন্য এবং অন্যটি ভিআইপিদের জন্য। বাগানে ঘেরা মন্দিরটিতে আলাদা করে স্টোররুম, ভোগ খাওয়ার জায়গা এবং পার্কিংয়ের সুবিধাও থাকবে। যে জায়গায় মন্দিরটি হচ্ছে, সেখানে ছিল বালিয়াড়ি। গাছের ছাউনি ছিল। হামেশাই বাংলা সিনেমার শ্যুটিং হতো সেখানে। সেখানে বাংলার অন্যতম বড় মন্দির তৈরি হবে ২০২৪ সালের মতো গুরুত্বপূর্ণ বছরে।

বিজেপির বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী বলছেন, দেশের সংবিধান সরকারকে কোনও ধর্মীয় কাঠামো নির্মাণের অধিকার দেয় না। রামমন্দির কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার বা ইউপি সরকার তৈরি করছে না। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট এই রাম মন্দির তৈরি করছে। কিন্তু সকলেই জানেন, ট্রাস্টের নেপথ্যে বড় মদত রয়েছে কাদের। ঠিক তেমনই বিচক্ষণ মাত্রই বুঝতে পারছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন ২০২৪ সালেই দিঘাতে এত বড় মন্দির তৈরি করতে চলেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের বিরুদ্ধে বিজেপির তৈরি করা 'হিন্দু-বিরোধী' ইমেজ খানখান করে মন পেতে চাইছেন রাজ্যের হিন্দুদেরও। ফলে ধর্মের রাজনীতি প্রসঙ্গে বিজেপি আর তৃণমূল যে একই কৌশলের খেলোয়াড় তা বলতে দ্বিধা নেই।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।