গাজায় ব্যাপক দুর্ভিক্ষ, কেন শতাধিক সংস্থার এই দাবি?

Gaza : ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী(আইডিএফ) একাধিকবার বলেছে, ত্রাণ নিতে গিয়ে মানুষজন সামরিক ব্যারিকেডের খুব কাছে চলে এলে, সতর্ক করতে গুলি চালানো হয়।

inscript
৩ মিনিট
গাজায় ব্যাপক দুর্ভিক্ষ, কেন শতাধিক সংস্থার এই দাবি?

গাজাবাসীরা ব্যাপক মাত্রায় অনাহারে ভুগছেন বলে সতর্ক করেছে ১০০টিরও বেশি মানবধিকার সংস্থা। তাদের অভিযোগ, ইজরায়েল গাজার ভেতরে ত্রাণ পৌঁছতে দিচ্ছে না। সেভ দ্য চিলড্রেন এবং মেডেসিনস স্যান্স ফ্রন্টিয়ের্স (এমএসএফ)-সহ ১০০টিরও বেশি সংস্থা একটি যৌথ বিবৃতিতে এই অভিযোগ করেছে। এই ব্যাপক দুর্ভিক্ষের বিরুদ্ধে সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যও চাপ দিচ্ছে তারা।

সংস্থাগুলি চিঠিতে দাবি করেছে, এখন দিনে মাত্র ২৮টি ট্রাক গাজায় যায়। অথচ জাতিসংঘ আগেই কমপক্ষে ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক পাঠানোর কথা বলেছিলো। গাজায় ইজরায়েলের হামলায় ২৩ জুলাই ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১০০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৪ জনের ত্রাণ নিতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে। গাজায় খাদ্য সংকট দিন দিন আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে। বিবিসি-তে লেখা হয়েছে, খাবারের সন্ধানে ছোটাছুটি করছেন সেখানকার বাসিন্দারা। জাতিসংঘ জানিয়েছে, খাবার নিতে গিয়ে গত ২৭ মে থেকে এখনও পর্যন্ত, ইজরায়েলি সেনাদের গুলিতে অন্তত ১০৫৪ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। অনাহারে মারা যাওয়া অধিকাংশই শিশু। গত কয়েক সপ্তাহে ক্ষুধার্ত ও অপুষ্টিতে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সমস্ত জিনিস প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে ইজরায়েল। তারা দাবি করছে কোনো অবরোধ নেই এবং অপুষ্টির যে কোনো ঘটনার জন্য হামাস দায়ী। তবে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, তারা গত মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত প্রায় ৮০ দিন গাজায় কোনো খাদ্য সরবরাহ করতে পারেনি। সংস্থাটি দাবি করেছে, এখনের খাদ্যসহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এই নিয়ে সম্প্রতি ১১১টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা যৌথ বিবৃতি দিয়ে বলেছে, গাজায় গণহারে মানুষ অনাহারে রয়েছে। কিন্তু গাজার বাইরে প্রচুর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী পড়ে রয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ত্রাণ বিতরণ করতে সংস্থাগুলোকে গাজায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ত্রাণ দেখিয়ে প্রাণ নেওয়া? যা চলছে গাজায়

Gaza: গাজার ২৩ লাখ মানুষ পুরোপুরি ত্রাণে নির্ভরশীল। আর সমস্যা হল ত্রাণ আসে ইজরায়েল হয়ে। গাজার প্রায় প্রতিটি পরিবারই ঘরছাড়া। এখন গাজার মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম খাবার পাচ্ছেন।

আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইজরায়েল মার্চ থেকে গাজায় কোনো পণ্য প্রবেশ করতে দেয়নি। মে থেকে যাও সামান্য পরিমাণে ত্রাণ ঢুকতে দিয়েছে, তা ফিলিস্তিনবাসীদের জন্য যথেষ্ট নয়। আর ওই ত্রাণও মূলত বিতরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)। সংগঠনটির ত্রাণ বিতরণ কর্মকাণ্ড নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে।জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছিলেন, গাজায় ত্রাণ বিতরণের নতুন ব্যবস্থাটি ‘অনিরাপদ' এবং এই ব্যবস্থায় আরও বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন৷ গুতেরেস সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘মানুষ নিজের এবং তাদের পরিবারের খাবার জোগাড় করতে গিয়ে হত্যার শিকার হচ্ছেন৷ খাবারের সন্ধান কখনোই মৃত্যুদণ্ড হতে পারে না৷''

গাজায় ইজরায়েল ও মার্কিন-সমর্থিত বিতর্কিত ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা প্রাক্তন এক কর্মী বিবিসি-কে জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনিদের উপর গুলি চালানো হয়েছে। তাঁর কথায়, কয়েকজন নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি ত্রাণশিবির থেকে একটু দূরে, শুধুমাত্র একটু ধীরে চলায় ওয়াচ টাওয়ার থেকে ইজরায়েল বাহিনী গুলি চালায়।

এই পরিস্থিতিতে অক্সফাম, সেভ দ্য চিল্ডরেন-সহ আরও ১৩০টি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও জিএইচএফ-কে বলেছে, তারা যেন ত্রাণশিবির বন্ধ করে দেয়। কারণ, ওই ত্রাণশিবিরে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছেন। কিন্তু জিএইচএফ-এর চেয়ারম্যান জনি মুর ব্রাসেলসে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছেন, ত্রাণশিবির বন্ধ করা হবে না। ব্রাসেলসে দাবি করেন, তারা এখনও পর্যন্ত পাঁচ কোটি ৫৫ লাখ মিল বিতরণ করেছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা থেকে মুনাফা লুটছে মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট?

Gaza: প্রতিবেদনে আরও লেখা হয়, মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট ও অ্যামাজন ইজরায়েলকে তাদের ক্লাউড ও এআই-এর বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে।

ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী(আইডিএফ) একাধিকবার বলেছে, ত্রাণ নিতে গিয়ে মানুষজন সামরিক ব্যারিকেডের খুব কাছে চলে এলে, সতর্ক করতে গুলি চালানো হয়। তবে এর ফলে এত দিনে ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে সেই সংখ্যা তারা জানায়নি। এখন গাজার ২৩ লাখ মানুষ পুরোপুরি ত্রাণে নির্ভরশীল। গাজার প্রায় প্রতিটি পরিবারই ঘরছাড়া। চলতি বছরের মে মাসের সমীক্ষায় উঠে এসেছে, তাদের মধ্যে ৯৩ শতাংশ মানুষ খাদ্যসংকটে ভুগছেন।

এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্স চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন-কে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেবে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ। জি-সেভেনের প্রথম কোনো দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেবে। জি-সেভেন হল শিল্পোন্নত সাতটি দেশের জোট। ফ্রান্সের পাশাপাশি এই জোটের সদস্য- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, জার্মানি, কানাডা ও জাপান। ফ্রান্সের এই ঘোষণার পর ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হামাসের হামলার পর এই পদক্ষেপ আসলে "সন্ত্রাসকে পুরস্কৃত" করা।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪০টিরও বেশি দেশ ফিলিস্তিন-কে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে। এতে স্পেন ও আয়ারল্যান্ড-সহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কয়েকটি দেশও রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, ইজরায়েলের প্রধান সমর্থক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য-সহ তার মিত্ররা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে দক্ষিণ ইজরায়েলে হামলার পর থেকে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় অভিযান শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, তখন থেকে এখনও পর্যন্ত গাজায় কমপক্ষে ৫৯ হাজার ১০৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গাজা প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, গাজায় প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে একজন অপুষ্টিতে রয়েছে এবং প্রতিদিন এই সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আরও কতদিন অন্ধকারে থাকতে হবে গাজাবাসীকে? সেই প্রশ্ন থাকছেই।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?