কুমিরকে বিয়ে করলেন মেয়র! বিচিত্র বিয়ের কারণ জানলে চমকে উঠবেন...
Man Marries Crocodile: নাচতে নাচতে সদ্যবিবাহিতা কুমির কনেকে গালে চুমুও খেয়েছেন মেয়র!

ভালোবাসা অন্ধ। অনেকেই এমন দাবি করে থাকেন। মানে একবার প্রেমে পড়লে ভালো খারাপের মতো তুচ্ছ বিষয়ে আর মন দেওয়া যায় না। মন তখন একজনকেই দেওয়া যায়। সর্বস্ব তখন শুধু তারই জন্য। প্রেম বয়স মানে না, সীমান্ত মানে না, ধর্ম, জাতপাতের সংকীর্ণ গলি সে চিরে বেরিয়ে যায়। আর ভালোবাসা যখন মহৎ বা বৃহৎ উদ্দেশ্যে হয়? সব সম্ভব। রাম তো দেশের মানুষের মন রাখতে সীতাকে আগুনে ঢুকিয়ে পরীক্ষাও নিয়ে ফেলেছিলেন। প্রজাদের ভালো রাখতে এটুকু ত্যাগ না করলে আর কীই বা... শহরের মানুষদের ভালো রাখতে, দক্ষ প্রজাপালক হতে তাই কুমিরকে বিয়ে করে ফেলেছেন এক মেয়র! কোনও ঠাট্টা-ইয়ার্কির ব্যাপারই নয়। শহরের মানুষদের সুখে স্বাচ্ছন্দে রাখতে সত্যিই এক আস্ত স্ত্রী কুমিরের সঙ্গে বিয়ে সেরেছেন শহরের মেয়র! প্রথাগত ঐতিহ্য মেনেই মেক্সিকোর এক ছোট্ট শহরে এমন অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটেছে।
ভিক্টর হুগো সোসা, সান পেড্রো হুয়ামেলুলার মেয়র। মেক্সিকোর তেহুয়ানটেপেক ইসথমাসের আদিবাসী চোন্টাল জনগণের বাস এই শহরে। ভিক্টর হুগো সোসার সঙ্গে অ্যালিসিয়া অ্যাড্রিয়ানা নামে একটি কুমিরের বিয়ে হয়েছে, পুরোটাই রীতিমতো আনুষ্ঠানিক রীতি রেওয়াজ মেনে। অ্যালিসিয়া অ্যাড্রিয়ানা হচ্ছে কেম্যান গোত্রের কুমির। মেক্সিকো এবং মধ্য আমেরিকায় এই প্রজাতির কুমির মেলে। কুমির বলে ছোট করা যাবে না যদিও। স্থানীয় নানা উপাখ্যানে এই কুমিরকে বলা হয় 'রাজকুমারী'। কুমির আর সোসার বিয়ে কি তবে অ্যারেঞ্জড? নাহলে কুমিরের প্রেমে মানুষ পড়েছে, বিয়ে অবধি গিয়েছে এমন তো শোনা যায়নি।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Vegetarian crocodile: নিরামিষাশী কুমির বাবিয়া একটি পুরুষ কুমির। মন্দিরের পুকুরেই তার বাস ছিল। আর প্রিয় খাবার মন্দিরের চাল ও গুড়ের নৈবেদ্য।
"আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি কারণ আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। এটাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রেম ছাড়া তো বিয়ে করতে পারবেন না... আমি রাজকন্যার সঙ্গে বিয়ে করতে রাজি," বিয়ের আচার যখন চলছে, গদগদ মুখে জানিয়েছিলেন মেয়র সোসা। আসলে রীতি তো এমনই। দুই আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাদ ভঞ্জন করতে ২৩০ বছর ধরে এখানে একজন পুরুষ এবং একজন স্ত্রী কুমিরের মধ্যে বিয়ের রীতি রয়েছে।
লোককাহিনি অনুযায়ী, একবার একজন চোন্টাল রাজা হুয়াভ আদিবাসী গোষ্ঠীর এক রাজকন্যাকে বিয়ে করেছিলেন। সেই বিয়ের পরেই দুই আদিবাসী গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ থেমে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান আসে। রাজার জায়গা এখন নিয়েছেন মেয়র আর স্ত্রী কুমির হচ্ছে সেই রাজকন্যার প্রতীক। হুয়াভ জনগোষ্ঠীর বাসিন্দারা এখন উপকূলীয় ওক্সাকা রাজ্যে বাস করেন, এই শহর থেকে খুব দূরে নয়।

আসলে এই বিয়ে প্রকৃতিকে উদ্দেশ্য করেই। যাতে বৃষ্টি ভালো হয়, যাতে বীজের অঙ্কুরোদগম ভালো হয়, চাষাবাদ ভালো হয়, সেই সমস্ত জিনিস যা চোন্টালদের জন্য শান্তি এবং সম্প্রীতি নিয়ে আসবে তা নিশ্চিত করতেই মানুষ আর কুমিরের এই বিয়ে। কিন্তু কুমিরের সঙ্গে প্রেম তো সহজ কাজ না। কুমির ভালোবেসে একটু ঘনিষ্ঠ হতে গেলেই এক কামড়ে আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার আশঙ্কা! তাই প্রাক-বৈবাহিক দুর্ঘটনা এড়াতে কুমিরটির চোয়াল বেঁধে দেওয়া হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানের আগে, কুমিরটিকে ঘরে ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় যাতে লোকজন তাকে কোলে নিয়ে নাচতে পারে। কুমির অমন এবড়োখেবড়ো পিঠ নিয়ে মোটেও বিয়ে করতে বসে পড়ে না। সবুজ স্কার্ট, মাথায় রঙিন টায়রা, হাতে সেলাই করা জামা পরে রাজকন্যা সেজে নেয়। পরে, তাকে একটি কনের সাদা পোশাক পরিয়ে আশীর্বাদ অনুষ্ঠানের জন্য টাউন হলে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রথার অংশ হিসেবে স্থানীয় এক জেলে জোয়েল ভাসকুয়েজ তাঁর জাল ফেলেন জলে এবং ভালো মাছ ধরার, সমৃদ্ধি, ভারসাম্য এবং শান্তিতে থাকার প্রার্থনা করেন। বিয়ের পর মেয়র তাঁর কুমির কনেকে নিয়ে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী সুরে নেচেওছেন। নাচতে নাচতে সদ্যবিবাহিতা কুমির কনেকে গালে চুমুও খেয়েছেন মেয়র!















