ইংরেজি বললেই কোটি কোটি টাকা জরিমানা! কেন এই দেশে এমন নিয়ম করল সরকার?
English ban bill : সরকারি, বেসরকারি সব কাজেই নিষেধাজ্ঞা জারি, ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করলে কী শাস্তি মিলবে জানেন?

বিশ্বের সর্বত্রই বর্তমানে ইংরেজি ভাষার দাপট! ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের চেহারাটা তো তথৈবচ! বাংলায় জন্ম অথচ কর্মের দৌড়ে ছেলে মেয়েকে এগিয়ে দিতে বাংলার বদলে ইংরেজি ভাষাকেই বেছে নেন খোদ অভিভাবকরাও। সরকারি, বেসরকারি সমস্ত কাজেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয় ইংরেজি ভাষাকে। খাতায় কলমে বাংলা ভাষার ব্যবহার থাকলেও তাতে যে জীবনে বিশেষ উন্নতি সাধন সম্ভব নয়, তা ছোট থেকে মাথার মধ্যে ভরে দেওয়া হয় বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের। তবুও বাংলা আছে। অজস্র ইংরেজির ভিড়েই বাংলা আছে। বছরের ওই একটা দিন, ২১ ফেব্রুয়ারি তাকে তাক থেকে নামিয়ে ফুল চন্দন দেওয়া হয়। যদিও আজকাল ব্যবহারিক জীবনে মাতৃভাষাকে মান্যতা দেওয়া নিয়ে ইতিউতি কিছু আন্দোলনের খবর শোনা যায় ঠিকই তবে আদতে তা বিশেষ প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। কিন্তু এবার নিয়ম করে মাতৃভাষাকে প্রাধান্য দিতে ইংরেজি ভাষাকে নিষিদ্ধ করা হল বিশ্বের এই দেশে।
শুধু তাই নয়, সরকারি অথবা বেসরকারি কোনও কাজে দেশীয় ভাষার পরিবর্তে ইংরেজি ব্যবহারে জন্য কোটি কোটি টাকা জরিমানার ফতোয়া পর্যন্ত জারি করেছে সরকার। জানেন কোন দেশে এমন নিয়ম জারি করেছে? সম্প্রতি দেশীয় ভাষাকে বাঁচাতেই এমন অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ইতালি। খোদ দক্ষিণ ইউরোপের দেশ হয়েও ইংরেজি ভাষার একচেটিয়া অধিকারের বিরুদ্ধে স্বর তুললো ইতালি। কিছুদিন আগেই এখানে ভাষা ব্যবহার নিয়ে পেশ করা হয়েছে নয়া বিল। তাতেই স্পষ্ট করে উল্লেখ করা রয়েছে এই নিয়মের। সরকারি কোনও কাজ তো বটেই এমনকী বেসরকারি অফিস কাছারি বা অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রেও একি নিয়ম জারি থাকছে বলেই জানা গিয়েছে। সবই রয়েছে এই নয়া বিলের আওতায়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Bengali Vocabulary: কোথা থেকে এল 'উজবুক' শব্দটি?
ইতালির প্রধানমন্ত্রীর দল ন্যাশনালিস্ট পার্টি অফ ব্রাদার্স এই বিলের প্রস্তাবনা এনেছে। জানা গিয়েছে, দেশের সংস্কৃতি রক্ষা করতেই এবার এমন পদক্ষেপ নিল ইতালি সরকার। কী বলা হচ্ছে বিলে? দেশের দপ্তর যখন তখন দেশীয় ভাষাকেই মান্যতা দিতে হবে, এমনটাই স্পষ্ট করা হয়েছে এই বিলে। সরকারি অথবা বেসরকারি দফতরের কোনও কাজকর্মে বিদেশি ভাষা বিশেষ করে ইংরেজি ব্যবহার করা যাবে না, এমনটাই প্রস্তাব। ইতালির ভাষাকে যাতে দেশের নাগরিক আরও বেশি ব্যবহার করতে পারে, ভবিষ্যত প্রজন্মও যাতে এই ভাষাকে বয়ে নিয়ে যেতে পারে, তাই এমন সিদ্ধান্ত।
এই নিয়ম মানতে যাতে বাধ্য হয় দেশের নাগরিকরা, তাই অন্যথায় মোটা অঙ্কের জরিমানা নির্ধারণ করেছে সরকার। নিয়ম না মেনে কেউ যদি বিদেশি ভাষা ব্যবহার করেন, তাহলে নিয়মভঙ্গের প্রকৃতি দেখে সেই ব্যক্তিকে এক লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে সরকার। ইংরেজির বদলে বরং ‘দান্তের ভাষা’ অর্থাৎ ইতালিয়ান ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে সরকার। যদিও সবটাই এখনও প্রস্তাবের ধাপে রয়েছে। বিলটি দেশের দুই হাউসে পাশ হলে তবেই আইন হিসেবে বলবৎ হবে। তবে এতকিছুর মধ্যে মজার বিষয়টি হল খোদ ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি নিজেও ভাষণের মধ্যে কদাচিৎ বিদেশি ভাষা ব্যবহার করেন। অর্থাৎ সর্ষের মধ্যে ঢুকে থাকা ভূত তাড়াতে যে ভালরকম কাঠখড় পোড়াতে হবে ইতালিকে, তা বলেই বাহুল্য!
















