শবর, তাই আলোহীন? দুর্গতি ঘুচতে লাগল ৬ মাস!
Electricity in Tribal village Jhargram: মন্ত্রীকে জানানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হল। ৬ মাস পর গ্রামে বিদ্যুৎ ফেরায় বেজায় খুশি বাসিন্দারা।

দীর্ঘ ৬ মাস অন্ধকারে ছিলেন তাঁরা। আলো, পাখা কিছুই ছিল না। ২০২২-এ দাঁড়িয়েও সেও অন্ধকারের মধ্যেই নিজেদের সমস্ত কাজ করছিলেন ঝাড়গ্রামের করমশোল ও জঙ্গলখাসের শবররা। অন্ধকারে মোমবাতি কিংবা কুপির আলোয় বসে পড়াশোনা করতে হয়েছে শিশুদের। এবার সেই দুর্দশা কেটে নতুন আলো দেখার অপেক্ষায় শবররা। পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার উদ্যোগে করমশোল ও জঙ্গলখাস গ্রামের বাড়িতে ফিরতে চলেছে বিদ্যুৎ। মন্ত্রীকে জানানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হল। ৬ মাস পর গ্রামে বিদ্যুৎ ফেরায় বেজায় খুশি বাসিন্দারা।
৬ মাস ধরে বিদ্যুৎ নেই, অথচ প্রশাসনের কাছে এই বিষয়ে কোনও অভিযোগ জানায়নি গ্রামের মানুষেরা? ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুর ১ নং ব্লকের লালগড়ের এই দু’টি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, অভিযোগ জানানো হয়েছিল। বিদ্যুৎ সহ অন্যান্য দফতরেও জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনও সমাধান সূত্র বের হয়নি। ফলে আলোও আসেনি শবরদের ঘরে। এনিয়ে ক্ষোভও ছিল গ্রামবাসীদের মধ্যে। প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা, এবং শবর জাতি বলেই কি প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই? এমন প্রশ্নও তুলেছেন গ্রামবাসীদের একাংশ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বর্তমানে উলাইচন্ডীপুজোর জৌলুস কিছুটা কমে এলেও পুজোর দিনটিতে নানা স্থান থেকে জনসমাগম হয়। অতীতেও এই মেলাতে অসম্ভব ভিড় হতো বলে জানা যায়।
শেষমেশ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সরাসরি রাজ্যের স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্বনিযুক্তি দফতরের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার কাছে এই ব্যাপারটি জানানো হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মন্ত্রীকে জানানোও হয়। খবর শোনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবস্থা নেন মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। ফলে নড়েচড়ে বসে বিদ্যুৎ দফতরও। গ্রাম দু’টিতে গিয়ে পরীক্ষা করে দেখা যায়, দীর্ঘ ৬ মাস ধরে সেখানকার বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মারটি বিকল হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও অনেকের বাড়িতে বিদ্যুতের মিটারও বসেনি। সমস্ত সমস্যা তড়িঘড়ি মিটিয়ে ফেলাল নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
অবশেষে ৮ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার সেই স্বপ্নের দিন এগিয়ে এল। করমশোল গ্রামে বসানো হয় নতুন একটি ট্রান্সফর্মার। পাশাপাশি দু’টি গ্রাম মিলিয়ে প্রায় ৬৫ টি জায়গায় নতুন বিদ্যুতের মিটার বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। শীঘ্রই সমস্ত কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ দফতর। মন্ত্রী তড়িঘড়ি হস্তক্ষেপ না করলে কি এই কাজ আরও কয়েক মাস পিছিয়ে যেত? সে ব্যাপারে নিরুত্তর দফতর। তবে দীর্ঘদিন পর গ্রামে বিদ্যুৎ ফিরে আসায় এখন খুশির হাওয়া লালগড়ের এই দু’টি শবর গ্রামে।
স্থানীয় বাসিন্দা পুষ্প শবর বলেন, “মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদাকে জানানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রামে বিদ্যুতের ব্যবস্থা ঠিক করা হল। এর জন্য মন্ত্রীকে অনেক ধন্যবাদ।” কিন্তু এই বিদ্যুৎ ফিরে আসতে ছ'মাস সময় কেন লাগল, সেই প্রশ্নও তুলছেন গ্রামবাসীরা। আপাতত নতুন বছরের আগেই আলো ফোটায় আনন্দে মেতে উঠেছেন করমশোল, জঙ্গলখাসের আট থেকে আশি প্রত্যেকেই।















