ফাঁপা প্রতিশ্রুতির 'অচ্ছে দিন'! কী বলেছিল বিজেপি, আর বাস্তবে কী ঘটেছে?

Raghav Chadha on BJP Govt : বিজেপির যে ২৫ টি প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের মধ্যে, তার একটিও পূরণ হয়নি।

inscript
৩ মিনিট
ফাঁপা প্রতিশ্রুতির 'অচ্ছে দিন'! কী বলেছিল বিজেপি, আর বাস্তবে কী ঘটেছে?

'আচ্ছে দিন' আসার কথা অনেকদিনই। দেশের শাসকদল বিজেপির মতে, তা সমাগতও। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পেরোতেই দেশে 'অমৃতকাল' চলছে বলে জানিয়ে দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেই অমৃতের, সেই আচ্ছে দিনের স্বাদ কি ভারতীয় নাগরিকরা পেয়েছেন? কীভাবে পেয়েছেন? বিজেপি দেশের মানুষকে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সবটাই কি পূরণ হয়েছে? আরও একটা লোকসভা নির্বাচন, প্রতিশ্রুতির জোয়ার আসার আগে প্রশ্ন তুলেছেন আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা। ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় যে প্রতিশ্রুতিসমূহ জনগণকে দিয়েছিল, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাঘব। প্রায় পাঁচ মাস 'সাসপেনশন' জারি ছিল রাঘবের উপর। বিশেষাধিকার কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আম আদমি পার্টির সাংসদ রাঘব চাড্ডার উপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়। ১১ অগাস্ট থেকে জারি ছিল স্থগিতাদেশ।

রাজ্যসভায় বক্তৃতার সময় রাঘব চাড্ডা বলেন, দেশের শাসক গেরুয়া দল ২০১৯ সালে যে 'নতুন ভারতের' প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার কী হলো আখেরে? ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে বিজেপি কী বলেছে এবং কতটা করেছে তার বিশ্লেষণ করা উচিত। রাঘব বলছেন, "বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছিল 'আচ্ছে দিন' আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। কিন্তু ২০১৪ সালের পরে এই শব্দ খুব কমই ব্যবহার করেছে বিজেপি। ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে বিজেপি দেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল 'আমরা নতুন ভারত তৈরি করব।' ২০২৪ সালে আবার নির্বাচন আসছে তাই বিজেপি দলের ২৫ টি প্রধান প্রতিশ্রুতির বিশ্লেষণ করা উচিত।"

রাঘব জানাচ্ছেন, বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ২০২২ সালের মধ্যে ভারত ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে, কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্য থেকে বহু যোজন দূরে রয়েছে দেশ। ২০২২ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি নাগরিককে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, দুর্ঘটনাজনিত বীমা, জীবন বীমা, পেনশন অবসর পরিকল্পনা পরিষেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। রাঘব চাড্ডার দাবি, সরকারি প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে যে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে মাত্র ৩ জনের জীবন বীমা রয়েছে। জনধন যোজনার অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে কিন্তু কত অ্যাকাউন্ট খালি তা জানেও না বিজেপি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোটি কোটি টাকা নয় ছয়! আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের নামে আসলে কী চলছে দেশে?

Ayushman Bharat Scam: ২.২৫ লক্ষ ক্ষেত্রে, অস্ত্রোপচার করার তারিখটি দেখানো হয়েছে 'ডিসচার্জের' অনেক পরে!

I presented BJP’s 10 Year Report Card in Parliament

Subject: New India by 2022

Total Promises: 25

Fulfilled: 0

Result: FAIL

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নয়া ভারতে বেড়েছে নারী ও শিশুদের প্রতি অপরাধ, এই কি তবে মোদিজির 'অচ্ছে দিন'?

NCRB report: শিশুদের প্রতি ঘটে চলা অপরাধের সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রতিবছর। ০২১ সালে শিশুদের প্রতি অপরাধের সংখ্যা ছিল ৩৩.৬ শতাংশের কাছাকাছি। ২০২২ সালে সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬.৬ শতাংশ।

— Raghav Chadha (@raghav_chadha)

আপ নেতার দাবি, বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কৃষকদের আয় বাড়বে। তা তো বাড়েইনি উল্টে কৃষকদের ঋণের বোঝা দুই গুণ বেড়েছে। গত ১৮ ত্রৈমাসিকে কৃষিতে দেশের সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। ২০২২ সালের মধ্যে প্রত্যেক ভারতীয়ের নিজের বাড়ি হবে, প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মোদি সরকার। বাস্তব কী সকলেই জানে। শৌচালয়ও নেই। এই মুহূর্তে দেশের ২০ শতাংশ পরিবার খোলাস্থানেই মলত্যাগ করে। শৌচাগার তৈরি হলেও সেখানে জল নেই। ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই সর্বত্র। পরিবেশগত ইস্যুতেও সরকারকে কোণঠাসা করেছেন রাঘব। রাঘবের ব্যাখ্যা, বিজেপি ২০২২ সালের মধ্যে একক ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এই বছর ১৪ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে। বাতাসে দূষক কণার মাত্রা কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি কিন্তু পুরো দেশই এখন 'গ্যাস চেম্বার' হয়ে গেছে।

২০২২ সালের মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় সকলের বাড়িতে জল থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয় বিজেপি। ৪০ শতাংশ বাড়িতে আজও কলের জল নেই। ২০২২ সালের মধ্যে অপুষ্টিমুক্ত দেশ হবে। বাস্তবে শিশু অপুষ্টিতে ভারত সারা বিশ্বের জঘন্য অবস্থানে। ভারতের ৭৪% মানুষই স্বাস্থ্যকর খাবার পান না। রাঘব আরও বলেন, বিজেপি দাবি করেছিল ২০২২ সালের মধ্যে রেল দুর্ঘটনায় আর মৃত্যু হবে না কারও। এবারই ওড়িশার বালাসোর, অন্ধ্রপ্রদেশে দুর্ঘটনা এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে বিজেপির প্রতিশ্রুতি আসলে ফাঁপা বুলি।

আম আদমি পার্টির সাংসদ বলেন, অপরিশোধিত তেল এবং গ্যাসের আমদানি ১০ শতাংশ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। বাস্তবের তথ্য বলছে এই আমদানি 'দ্বিগুণ' হয়েছে। বিজেপির জাতীয় মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ২ লক্ষ কিলোমিটার বাড়ানোর দাবি নিয়েও শাসক দলকে নিশানা করেন তিনি। ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র ১,৪৪,০০০ কিলোমিটার পথ স্থাপন করা হয়েছিল।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসক ও নার্সের অভাব নিয়েও রাঘব সরকারের সমালোচনা করেন। নতুন ভারতে তাহলে কী করল বিজেপি? যে ২৫ টি প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের মধ্যে, তার একটিও পূরণ হয়নি। ২০২৪ সালের ভোটের আগে প্রতিশ্রুতির তালিকা বাড়বে নিঃসন্দেহে, কিন্তু বাস্তবে তা পূরণ হবে কি? আদৌ সম্ভব দেশের ১৪০ কোটি মানুষকে খাবার, জল, শৌচাগার, স্বাস্থ্যসেবা জোগানো?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।