পাঁচ নয়, সপ্তাহে চারদিন চলুক অফিসের কাজ! বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমীক্ষায় কোন তথ্য সামনে এল?
Four Day Work Week : পাঁচ বা ছ'দিন নয়; মাত্র চারদিন অফিস করতে হবে! বাকি তিনদিন নিজের মতো করে সময় উপভোগ করতে পারবেন কর্মীরা!

কাজের বাজার এই মুহূর্তে নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। গত বছরের শেষের দিক থেকেই একের পর এক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মী ছাঁটাই চলছে। আট ঘণ্টা হোক কি ১২ ঘণ্টা, অফিসের কাজ করতে করতে কপালে ভাঁজ বাড়ছে মানুষের। চাকরিটা থাকবে তো? এই একটাই চিন্তা মাথায় ঘুরছে। সপ্তাহে পাঁচদিনই হোক কি ছ’দিন, গড়পড়তা রুটিন মেনেই কাজ করে যাচ্ছেন সবাই। এই ছবির মধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তি জগতে উঠে এল নতুন একটি ছবি। এখন থেকে আর সপ্তাহে পাঁচ বা ছয়দিন কাজ নয়; মাত্র চারদিন অফিস করতে হবে! বাকি তিনদিন নিজের মতো করে সময় উপভোগ করতে পারবেন কর্মীরা!
‘Four is the new Five’, ‘Thursday is the new Friday’ – এই ধরনের নানা কথা বিগত এক-দু’বছর ধরে শোনা যাচ্ছে। করোনা পরবর্তী পৃথিবীতে নিউ নর্মালের সময়ই কাজের ধরন একটু একটু করে বদলের দিকে যাচ্ছিল। তখনই এই নতুন পরিকল্পনা সামনে আসে। এখন গোটা বিশ্বে কর্মীরা সপ্তাহে পাঁচদিন, নয়তো ছয়দিন চাকরি করেন। কখনও আট ঘণ্টা, কখনও ১২ ঘণ্টা ধরে লাগাতার পরিশ্রম করেন। কিন্তু নতুন পরিকল্পনায় বলা হয়, সপ্তাহে মাত্র চারদিনই কাজ করতে হবে। বাকি দিনগুলোয় নিজের মতো করে সময় কাটাতে পারবেন কর্মীরা। জাপানে এই সমীক্ষায় বেশ ভালো ফলাফলও পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু বিশ্বজুড়ে সেভাবে লাগু হয়নি এই নিয়ম।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Marijuana Cannabis Tester Job : সুপ্ত বাসনা আটকে থাকে মনে। কেমন হয়, যদি গাঁজার নেশাই আপনাকে লাখ টাকার চাকরি উপহার দেয়?
এখন, কর্পোরেট জগতের টালমাটাল পরিস্থিতিতে ফের সামনে এল এই সমীক্ষা। বিখ্যাত পত্রিকা ‘ব্লুমসবার্গ’-এ সম্প্রতি এই সমীক্ষার বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এর নেতৃত্বে ছিলেন বস্টন কলেজের অর্থনীতিবিদ ও সমাজতাত্ত্বিক গবেষক জুলিয়েট শোর। ইউকে-র ৬১টি সংস্থার অন্তত ৩০০০ জন কর্মী এই সমীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে দেখা হয়, সপ্তাহে চারদিন কাজ করে কি কিছু উন্নতি হচ্ছে? কর্মীরা কি ভালো কাজ করতে পারছেন? কোম্পানি কি লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছে? নাকি পুরোটাই আসলে গুজব, কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না?
২০২২ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর, সাত মাস ধরে টানা এই সমীক্ষা চলে। বলা হচ্ছে, এই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমীক্ষা। আর তার ফলাফল? জুলিয়েট বলছেন, অধিকাংশ সংস্থাই এই নতুন নিয়মের দিকে ঝুঁকতে চাইছে। পাঁচদিন নয়, সপ্তাহে চারদিন কাজের নিয়ম রাখার কথা ভাবতে শুরু করেছে বেশিরভাগ কোম্পানি। মাত্র তিনটি সংস্থা এই সমীক্ষা মাঝপথেই বন্ধ করে দেয়, আর দু’টি সংস্থা আগের নিয়মেই ফিরে যেতে চায়। বাকি প্রতিটা কোম্পানিই এই নিয়মের দিকে ঝুঁকতে চাইছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
IT Massive Layoff 2023 : কী করে কাজ করবেন তাঁরা? সবসময় ভয় ঘিরে রেখেছে তাঁদের, এই যদি চাকরি যায়!
কিন্তু কেন? সমীক্ষা বলছে, সপ্তাহে চারদিন কাজ করার ব্যাপারটি প্রায় সমস্ত কর্মীদেরই ভালো লেগেছে। তাঁরা আরও বেশি মনোযোগ দিয়ে আরও উদ্যম নিয়ে কাজ করছেন। তাঁরা কামাইও করছেন না, যেটুকু সময় কাজ করছেন, সবটুকু ঢেলে দিচ্ছেন। ফলে সমীক্ষা চলাকালীন কোম্পানিগুলির প্রোডাক্টিভিটি বেড়েছে অনেকটাই। শুধু তাই নয়, অন্তত ৩৫ শতাংশ লাভের মুখও দেখেছে সংস্থাগুলি। কাজের স্ট্রেস, মানসিক সমস্যা, চাপ ইত্যাদিও আগের থেকে অনেকটাই কমেছে কর্মীদের। ছেলেদের থেকে মেয়েদের পারফর্মেন্সও বেড়েছে অনেকটাই।
আগের বেশকিছু সমীক্ষাতেও এমন ছবিই উঠে এসেছিল। আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ডের মতো দেশগুলিতেও এমন বিশেষ সমীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানেও ফলাফল প্রায় একই। তবে গবেষকরা বলছেন, কেবল কাজই নয়, চারদিন অফিস করলে পরিবেশেরও মঙ্গল। কী করে? গবেষক জুলিয়েট শোরের বক্তব্য, এই মুহূর্তে পৃথিবীতে কার্বন নির্গমন যত কম হয় তত ভালো। সপ্তাহে চারদিন কাজ করলে সেটি কিছুটা হলেও কমে। আগের গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কাজের সময় মাত্র ১০ শতাংশ কমিয়ে দিলে কার্বন নির্গমনের হার ৮.৬ শতাংশ কমে যাচ্ছে। কাজেই সমস্ত দিক থেকে সপ্তাহে চারদিন কাজ মঙ্গলজনক, এমনটাই উঠে এসেছে সমীক্ষায়। কিন্তু কবে থেকে এই নতুন নিয়ম দেখতে চলেছে পৃথিবী? কবে লাগু হবে ভারত সহ গোটা বিশ্বে? সেই উত্তরই খুঁজছে সবাই।















