'ফর্সা' হওয়ার সাধ মেটাচ্ছেন, কিডনি ঠিক আছে তো? ফেয়ারনেস ক্রিম বারবার যে ক্ষতি করছে
Fairness Cream Hazards Kidney : ফর্সা হওয়ার জন্য এই সস্তা ক্রিমগুলি আদতেই ক্ষতিকারক। কিন্তু কে শোনে কার কথা? সম্প্রতি মুম্বইয়ে তারই নিদর্শন পাওয়া গেল।

‘ফর্সা হতে চান? তবে অমুক ক্রিম মাখুন। আর চেহারার জেল্লা বাড়ান।’ টিভি হোক বা দোকানের বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং, ফেয়ারনেস ক্রিমের রমরমা এবং সেই ট্র্যাডিশন এখনও চলছে ভারতে। গায়ের রং একটু চাপা হলেই ভিড় জমে প্রসাধনী সামগ্রীর দোকানে। ফেয়ারনেস ক্রিমের ‘জাদু’ একেবারে ঘর অবধি না না আনতে পারলে অনেকেরই স্বস্তি হয় না। ২০২৩ সালে দাঁড়িয়েও এই ঘটনা ভীষণ মাত্রায় সত্য। অথচ ডাক্তাররা বারবার বলছেন, ফর্সা হওয়ার জন্য এই সস্তা ক্রিমগুলি আদতেই ক্ষতিকারক। কিন্তু কে শোনে কার কথা? সম্প্রতি মুম্বইয়ে তারই নিদর্শন পাওয়া গেল। আর সেই পরিণতিও হল ভয়াবহ। যা দেখে চমকে উঠলেন খোদ ডাক্তাররা।
২০২২ সালের ঘটনা। মুম্বইয়ের এক চিকিৎসা কেন্দ্রে হাজির হন বছর কুড়ির এক তরুণী। এই বয়সেই তাঁর শরীর অত্যন্ত দুর্বল, অসুস্থ। শুধু তাই নয়, তার বাড়ির অন্যান্য সদস্যদেরও সেই অসুস্থতা দেখা দিয়েছে। প্রথমে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভেবেছিলেন, আবার কোনও অজানা রোগ এল কিনা! কিন্তু একটু পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পরই দেখা গেল, ওই তরুণী এবং তাঁর মা, দিদির একই রোগ হয়েছে। রোগটির নাম ‘গ্লোমেরুলোনেফ্রিটিস’ (Glomerulonephritis)। এই রোগে কিডনির ভেতরে যে ছোট ছোট ফিল্টার টিস্যুগুলো আছে, সেগুলি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে নিজের কার্যক্ষমতা হারায় কিডনি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
France Football Team World Cup Players: বিশ্বকাপে কালোর দেশ হিসেবে উঠে এসেছে ফ্রান্সের ফুটবল দল। এই দলে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়ের সংখ্যা ছিল সর্বাধিক।
এখানেই খটকা লাগে চিকিৎসকের। বাড়ির আর কারও হয়নি, স্রেফ একই পরিবারের মহিলা সদস্যাদেরই হয়েছে। এমনকী এলাকাতেও কারও হয়নি। সম্প্রতি কি কোনও বিশেষ ঘটনা ঘটেছে, যার জন্য এমন রোগ? কার্যত গোয়েন্দার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন সেই চিকিৎসক। নিজের সিনিয়র ডাক্তারের পরামর্শও নেন। তারপরই সামনে আসে আসল কারণ। অন্য কোনও কারণ নয়, আসল জিনিসটি লুকিয়ে আছে ওই বাড়ির মেয়েদের মেকআপ বাক্সে। সৌজন্যে, ফর্সা হওয়ার ফেয়ারনেস ক্রিম।
জানা যায়, ওই তরুণীর বাড়ি মহারাষ্ট্রের আকোলায়। সেখানেই স্থানীয় এক দোকান থেকে ফেয়ারনেস ক্রিম কেনেন। বেশ কয়েকদিন ধরে সেটি লাগানোর পর পাড়া-প্রতিবেশীরা বলতে শুরু করল, “তোমাকে তো বেশ ফর্সা লাগছে আগের থেকে!” ব্যস, এই একটা কথাই ট্রিগারের কাজ করল। মেয়ের পাশাপাশি তাঁর মা ও দিদিও সেই ক্রিম ব্যবহার করতে শুরু করল। তারপরই শরীর খারাপ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Taliban Mannequins: পলিথিন ব্যাগ, স্কার্ফ এমনকী অ্যালুমিনিয়ামের ফয়েল দিয়েও পোশাক পরিহিত পুতুলের মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করা হয়েছে দোকানিদের।
ডাক্তারদের বক্তব্য, এই ধরনের ফেয়ারনেস ক্রিমের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পারদ, সীসার মতো ক্ষতিকারক ধাতু মেশানো থাকে। ত্বকে সেই ক্রিম মাখলে ওই পারদ চামড়া ভেদ করে শরীরের ভেতরে ঢুকে যায়। তারপর দেহের অন্যান্য অংশে আঘাত হানে। আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর পদার্থ হল এই পারদ। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ওই তরুণীর দেহে স্বাভাবিকের তুলনায় অন্তত সাত গুণ বেশি পারদ ছিল। যার জেরেই এমন অবস্থা।
তবে এটা বিক্ষিপ্ত ঘটনা একেবারেই নয়। পাত্র-পাত্রীর বিজ্ঞাপন খুললেই দেখা যাবে, ‘ফর্সা পাত্রী’ খোঁজার হিড়িক। শ্যামলা, চাপা গায়ের রং হলে সেই মেয়েদের কীরকম গঞ্জনা সহ্য করতে হয়, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ২০২৩ সালের আধুনিক ভারতে দাঁড়িয়েও এমন দৃশ্য হরদম দেখতে হয়। সমাজের বিভিন্ন জায়গায় এমন মানসিকতার প্রভাব দেখা যায়। দিনের শেষে সেই সমস্যা, সেই ঝড়ের দায় মেয়েদেরকেই সহ্য করতে হয়। মুম্বইয়ের এই ঘটনা সেই প্রবণতাকেই তুলে ধরল। ফেয়ারনেস ক্রিম ও ফর্সা হওয়ার এই ঘৃণ্য ট্রেন্ড আর কতদিন চলবে?






