নিউজক্লিকে চিনে পয়সা? কী বলছেন সিঙ্ঘম নিজে?

Newsclick Neville Singham: এবার সামনে এল সেই নেভিল রায় সিঙ্ঘমের বিবৃতি। এফআইআরে উল্লিখিত অভিযোগ নিয়ে কী বললেন মার্কিন ধনকুবের?

Sohini Das
৭ মিনিট
নিউজক্লিকে চিনে পয়সা? কী বলছেন সিঙ্ঘম নিজে?

কিছু দিন আগেই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের বেনজির ঘটনার সাক্ষী ছিল গোটা দেশ। সে নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। দিল্লি জুড়ে পড়ে গিয়েছিল হইচই। একাধিক সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের কর্মীর বাড়িতে চলে অভিযান। যার মধ্যে ছিলেন নিউজক্লিক নামে একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক, প্রধান সম্পাদক এবং ওই সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান। তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধ বিদেশি অনুদান ব্যবহারের অভিযোগ এনেছিল ইডি। সে সূত্রেই নাম জড়ায় মার্কিন ধনকুবের নেভিল রায় সিঙ্ঘমের নাম। যিনি বর্তমানে চিনের বাসিন্দা। অভিযোগ ওঠে, ওই মার্কিন ধনপতিই নাকি নিউজক্লিককে অনুদান দিয়ে চলেছেন। সন্ত্রাসমূলক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগও করা হয় ওই সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে। বেশ কয়েক দফা জেরার পর গ্রেফতারও করা হয় ওই সংস্থার সম্পাদক প্রবীর পুরকায়স্থ-সহ বেশ কয়েকজনকে। জানা যায়, একটি মার্কিন দৈনিকের রিপোর্টের ভিত্তিতেই ওই এফআইআর দায়ের করেছিল ইডি।

এতদিন একদিকের ভাষ্যই শোনা গিয়েছিল। অভিযোগের দাঁড়িপাল্লাই ভারী হচ্ছিল ক্রমশ। তবে এবার সামনে এল সেই মার্কিন ধনকুবের নেভিল রায় সিঙ্ঘমের বিবৃতি। এফআইআরে উল্লিখিত অভিযোগ একটার পর একটা ধরে ধরে খণ্ডন করলেন তিনি। ঠিক কী বলেছেন নেভিল রায় সিঙ্ঘম? আসুন জেনে নেওয়া যাক।

থটওয়ার্কস আইএনসি. নামে একটি মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তিনামে সংস্থার মালিক ছিলেন নেভিল। যা তিনি ২০১৭ সালে বিক্রি করে দেন। জন্ম থেকেই আমেরিকার নাগরিক তিনি। বর্তমানে সাংঘাইতে থাকলেও এখনও একমাত্র মার্কিন নাগরিকত্বেরই অধিকারী তিনি। নেভিল জানান, গত ৫ অগস্ট, ২০২৩ তারিখে নিউ ইয়র্ক টাইমসের ওই রিপোর্টটি ছিল সম্পূর্ণরূপে বিভ্রান্তিকর। আর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ঝড় বয়ে যায় ভারত জুড়ে। আর তার পরেই নিউজক্লিকের একাধির সাংবাদিকের উপর নেমে আসে রোষ। ওই রিপোর্টের ১২দিন পর দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখা একটি এইআইআর দায়ের করে। যা মানহানিকর অভিযোগ ও তথ্যগত ত্রুটিতে ভর্তি ছিল। ওই এফআইআরের পর শতাধিক সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আটকও করা হয় বেশ কয়েকজন। এবং শেষপর্যন্ত ৩ অক্টোবর তারিখে গ্রেফতার করা হয় দুজনকে। এরপরেই ওই এফআইআর পত্রটি সামনে আসে, যা নেভিলের পক্ষে তো বটেই, আরও অনেকের জন্যেই ছিল বেশ ক্ষতিকর। নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের থেকে প্রভাবিত হয়েই যে এফআইআরটি দাখিল হয়েছিল, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল তার পরেই।

নেভিল জানিয়েছেন, বিশ্বের অসংখ্য সেরা সাংবাদিক ও লেখকের বাসস্থান ভারত। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য এ দেশ বিখ্যাত। সেখানে দাঁড়িয়ে এই সাংবাদিকদের গ্রেফতারি ও হেনস্থা কার্যত মর্মাহত করেছিল তাঁকে। নেভিল এটা ভেবে হতাশ হয়েছেন যে এটা ভারতে ঘটছে। ভৌগোলিক ভাবে, ভারত শ্রীলঙ্কার একেবারে কাছে। আর তাঁর বাবার আদিবাড়ি শ্রীলঙ্কাতেই। নেভিলের বাবা আর্চিবল্ড ডব্লিউ ছিলেন জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের সদস্য এবং ইতিহাসবিদ। নেভিল জানান, ভারত দেশটা তাঁর কাছে ভালোবাসার জায়গা। কর্মসূত্রে জড়িয়ে গিয়েছেন তিনি এ দেশের সঙ্গে। ১৯৬৪ সালে প্রথম বার এ দেশে আসেন তিনি মাত্র ১১ বছর বয়সে। ২০০০ সাল নাগাদ এ দেশে ছড়িয়ে পড়ে তার ব্যবসা। এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শাখা খুলতে শুরু করে তাঁর সংস্থা থটওয়ার্কস। ব্যাঙ্গালোর, পুনে, চেন্নাই, দিল্লি, কোয়েম্বত্তূর, হায়দরাবাদের মতো বহু জায়গাতেই ছিল তাঁর অফিস। এ দেশেই বহুবার বহু কনফারেন্সে যোগ দিয়েছেন তিনি। ভারতের ট্যালেন্টদের চিনে তাঁদের নিজেদের কর্মযজ্ঞে নিতে পেরেছে তাঁ সংস্থা।

নিউ ইয়র্ক টাইমের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ এনেছেন নেভিল। তাঁর দাবি, ২২ জুলাই, ২০২৩ তারিখেই নিউ ইয়র্ক টাইমসের কাছে সমস্ত তথ্য-সহ রিপোর্ট জমা করেছিলেন তিনি। তবে ইচ্ছাকৃত ভাবে তা নিউ ইয়র্ক টাইমস ছাপেনি বলেই অভিযোগ করেছেন মার্কিন এই ধনকুবের। আর এ ভাবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে ছিনিমিনি খেলেছে মার্কিন এই দৈনিকটি। আর তার পরেই ব্যাপারটিতে সকলের সামনে খোলসা করতে এই বিবৃতি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁর দাবি, নিউ ইয়র্ক টাইমসের সমস্ত অভিযোগই কার্যত মিথ্যে এবং বিভ্রান্তিকর।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রবীণ সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহঠাকুরতাকে বারবার হেনস্থা, কীসের মাশুল?

NewsClick Journalists Harassed : পরঞ্জয় সাম্প্রতিক অতীতে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন করে দাবি করেন যে, তাঁর ফোন পেগাসাস স্পাইওয়্যার দিয়ে হ্যাক করা হয়েছে।

নিউজক্লিকে যে অর্থ বিনিয়োগকে ঘিরে এই বিতর্কের শুরু, সেই অর্থ কোনও ভাবেই চিন বা চিনের কমিউনিস্ট পার্টি বা অন্য কোনও সরকার বা রাজনৈতিক দলের তহবিল থেকে যে আসেনি, তা কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছেন নেভিল। আর তার প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে। তিনি জানান, ২০১৭ সালে থটওয়ার্কস সংস্থাটি একটি গ্লোবাল প্রাইভেট ইকুইটি ফার্মের কাছে বিক্রি করে দেন। আর সেখান থেকে মোটা অর্থ আয় করেন। যার একটি অংশ তিনি দান করেন একটি মার্কিন দাতব্য সংস্থাকে। নেভিল জানান, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের একটি বড় অংশই অলাভজনক এবং আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষদের নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলিতে দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নেভিল জানান, তাঁর ব্যক্তিগত সঞ্চয়, সংস্থা বিক্রি করে পাওয়া অর্থ এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগ থেকে আয় করা অর্থ ছাড়া তাঁর আর কোনও আয়ের উৎস নেই। এছাড়া মনে রাখতে হবে, আমেরিকা, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়া-সহ একাধিক দেশে সরকারি ক্লায়েন্ট ছিল থটওয়ার্কসের। তবে সেই তালিকায় চিন ছিল না কোনওকালেই। তবে কখনওই কোনও দেশের রাজনৈতিক দল বা সরকারের কাছ থেকে কোনও রকম অর্থ পাননি তিনি। এর প্রমাণ হিসেবে তাঁর কাছে রয়েছে আমেরিকায় দাখিল করা আয়করের নথি। যেখানে তাঁর আয়ের উৎসের ব্যাপারে সমস্তটাই স্পষ্ট জানানো আছে। বিশ্বের অন্যতম অ্যাকাউন্টিং ও ট্যাক্স ফার্মগুলি তাঁর অর্থনৈতিক বিষয়গুলির খেয়াল রাখে। ফলে আমার আয়ের উৎসগুলি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে না কোনও মতেই।

নেভিল জানিয়েছেন, যখন তিনি এফআইআরের সূত্রে জানতে পারেন শাওমি, ভিভোর মতো চিনা টেলিকম সংস্থাগুলির সঙ্গে তাঁর যোগ বের করার উদ্ভট চেষ্টা করা হচ্ছে, তিনি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি সাফ জানান, এই সব সংস্থার ভারতীয় কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে কিছুই জানেন না তিনি। কোনওদিনই এই সংস্থাগুলির সঙ্গে কোনওরকম প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ ছিল না তাঁর। কোনও অনুদানও কখনও পাননি।

এফআইআরে নেভিলের বিরুদ্ধ অভিযোগ তোলা হয়েছে, যে তিনি কোনও সরকার বা রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করেন বা নির্দেশে কাজ করেন। মার্কিন এই ধনকুবের সাফ জানিয়েছেন, তিনি চিনা সরকার বা চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কোনও প্রচারবিভাগ বা অন্য কোনও দফতরের থেকেই কোনওদিন কোনও অনুদান পাননি বা নেননি। এমনকী বিশ্বের কোনও সরকার বা কোনও রাজনৈতিক দলের নির্দেশে কাজ করার কোনও রেকর্ডই তাঁর নেই। কোনওদিনওই চিনের কমিনিস্ট পার্টির সদস্যপদ তাঁর ছিল না। একমাত্র চিনের নাগরিকরাই পার্টির সদস্যপদ পেতে পারেন। আর তার তো চিনের নাগরিকত্বই নেই। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, জ্যামাইকা, ব্রিটেন, ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চিন-সহ বিভিন্ন দেশেই তিনি জীবনের বিভিন্ন সময়ে থেকেছেন। এখনও পর্যন্ত অন্তত ৬০টি দেশ ঘুরেছেন তিনি। বিভিন্ন দেশের তাবড় নেতাদের সঙ্গে দেখা করার, কথা বলারও সুযোগ হয়েছে তাঁর। শুধু নেতাই নয়, বিভিন্ন জ্ঞানীগুণী মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন তিনি। আর এই বৈচিত্র্যময় যাপন কোনও ভাবেই প্রমাণ করে না আমি কখনও তাঁদের কারওর দ্বারাই প্রভাবিত হয়েছি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন 'দেশদ্রোহী'র তকমা পরঞ্জয়, অভিসার, ভাষাদের? আসলে ঠিক কী লিখতেন এই সাংবাদিকরা?

NewsClick Journalist : মোদ্দা কথা, দেশের শাসকের স্বাস্থ্যের জন্য উপাদেয় ছিল না নিউজক্লিকের খবর।

এফআইআরে নেভিলের বিরুদ্ধে আইনভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়েছে। আর তা পুরোপুরি অস্বীকার করে মার্কিন এই ধনকুবের জানান, ভারতীয় বা মার্কিনি আইন লঙ্ঘিত হয় এমন কোনও কাজ তিনি করেননি। নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যোগ রাখা তো দূরের। এই সমস্ত অভিযোগই ভিত্তিহীন বলে জানান নেভিল। তিনি জানান, বহু বছর ধরে বহুজাতিক সংস্থা চালানোর সুবাদে যে সমস্ত দেশে তাঁর সংস্থা শাখাবিস্তার করেছে, সেই সমস্ত দেশের আইনই তিনি মেনে চলার চেষ্টা করেছেন। চেয়ারম্যান হিসেবে সবসময়েই বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শদাতাদের কথা মেনেই কাজ করেছেন তিনি।

নেভিল জানিয়েছেন, সফল ভাবে অর্থ দান করাই তাঁর প্রদান করা। আর সেক্ষেত্রে বেআইনি বা নিষিদ্ধ সংগঠনে অর্থ দান বা আইন না মানা তো আদতে দানের উদ্দেশ্যকেই নষ্ট করে দেয়। মানুষের জন্য কাজ করার যে ইচ্ছা, তা তাতে বাধা পায় বলেই মনে করেন মার্কিন এই ধনকুবের। তিনি আরও জানান, তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস বরাবরই তাঁর কাছে বেশ স্বচ্ছ। দীর্ঘদিন ধরেই ধনসম্পদগত ভাবে সামাজিক বৈষম্য তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। সেখান থেকেই দানের ভাবনা এসেছিল তাঁরক মাথায়। সে কারণেই তিনি এমন সংগঠনগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন, যাদের কাজ বা উদ্দেশ্যকে সমর্থন করেন তিনি। সে কারণেই বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি অলাভজনক সংস্থাগুলিতে অনুদান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বহু ক্ষেত্রে নিজের অনেক মতামত তাদের দিলেও, কোনওদিন সংস্থাগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেননি নেভিল।

নেভিল স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্ব দারিদ্রকে দূর করাই তাঁর অন্যতম উদ্দেশ্য। যেখানে আজও মানুষের না খেতে পাওয়া খুব বড় একটা সমস্যা। কৃষকদের সমবায় সংস্থাগুলির সঙ্গে কাজ করে তিনি জানতে পেরেছেন, যে কৃষকেরা খাবার উৎপন্ন করেন, তাঁদের পেটেই ভাত জোটে না। ফলে এই যে বিশ্বজোড়া খাদ্যশৃঙ্খল, তাকে কীভাবে পরিবর্তন করা যায়, যাতে উৎপাদক বা কৃষকের কাছে তাঁর ন্যায্যটুকু পৌঁছে দেওয়া যায়। কীভাবে গ্রামীণ সংস্কৃতি ও জীবনকে অক্ষুন্ন রেখে তা করা যায়, সেটাই বড় কথা। আর এই সমস্যার অনেকটা সমাধানই বের করতে পেরেছে চিন। তারা মন দিচ্ছে রুরাল রিভাইটালাইজেশনে। আর গ্লোবাল সাউথ কোঅপারেটিভকে সেই কাজে সহায়তার জন্যই চিনে রয়েছেন এই মার্কিন ধনকুবের। বিশেষত ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকায় সেই বৈজ্ঞানিক কৃষিবিনিময় পদ্ধতি চালু করা যায় কিনা, এ নিয়ে ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন গ্লোবাল সাউনেভিল মনে করেন, গ্লোবাল সাউথের সব দেশ পরস্পরের থেকে কিছু না কিছু শিখে নিজের উন্নতি করতে পারে।

কিছুদিন আগেই চিন একটি নতুন মানচিত্রের নকশা বের করে, যেখানে ভারতীয় বেশ কিছু অঞ্চলকে নিজেদের বলে দাবি করেছিল তারা। সেই নিয়ে বেশ হইচই পড়ে যায়। ২০২০ সালে একটি ওপেন সোর্স সফটওয়্যার স্পনসর করার সুযোগ পান নেভিল। যার মাধ্য়মে যে কেউ নিজের মনের মতো মানচিত্র তৈরি করতে পারেন। তবে সীমান্ত বিরোধ যে শুধু ভারত-চিনের মধ্যে রয়েছে তা নয়, কানাডা-আমেরিকার মতো অজস্র দেশ জুড়ে এই সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। সেই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল, প্রতিটি দেশকে নিজের মতো মানচিত্র তৈরি করার স্বাধীনতা দেওয়া, যা তাদের নিজস্ব আইন মেনে তৈরি হবে, এবং তার মাধ্য়মে তাদের জাতীয় স্বার্থ প্রতিফলিত করা।

চিনা যোগের মামলায় নেভিল রায় সিঙ্ঘমের নাম জড়ানোর পর থেকে একাধিক মিডিয়ায় শুরু হয়েছে বিতর্ক। সেই বিতর্কে ঘি ঢেলে নিউজক্লিকের মতো স্বাধীন মিডিয়ার বিরুদ্ধে মিডিয়া ট্রায়াল শুরু করে একাধিক গোদিমিডিয়া। ভোটের আগে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে বলে তোপ দাগতে ছাড়েনি বিরোধী শিবির। এই পরিস্থিতি দিল্লি পুলিশের এফআইআরে উল্লিখিত সাতটি অভিযোগকেই বিবৃতির মাধ্যমে সপাটে খণ্ডন করেছেন নেভিল। মার্কিন ধনকুবের এই বিবৃতি কি শেষপর্যন্ত সেই বিতর্কের আগুনে জল ঢালতে পারবে, আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে বিশেষজ্ঞ মহল।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।