শুধু ব্যারাকপুর নয়, দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে বাংলাতেই আছে আরও এক মন্দির, জানেন কোথায়?
Kali Temple : রামকৃষ্ণ এবং কালী নিয়ে বাঙালি তথা হিন্দুদের মধ্যে চিরকালই একটা ঘোরতর আবেগ রয়েছে, তাই দূর থেকে যাঁরা দক্ষিণেশ্বর দর্শন করতে যেতে পারেন না তাদের জন্যই এরূপ ভাবনার বহিঃপ্রকাশ বনগাঁর মন্দিরে।

সেই একই আদল, একই অবয়ব, বাইরে থেকে এক ঝলক দেখলে মনে হবে বুঝি দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দিরে এসেছেন। অথচ ভিতরে প্রবেশ করলে অচিরেই সেই ভুল ভাঙবে। হুবহু একই দেখতে এই মন্দিরের কথা শুনলে হয়তো অনেকেরই মনে হতে পারে ব্যারাকপুরের অন্নপূর্ণা মন্দিরের কথা। এই নিয়ে অবশ্য যথেষ্ট আলোচনাও হয়েছে বাংলায়। কিন্তু এই মন্দির মোটেই ব্যারাকপুরে অবস্থিত নয়, তাহলে কোথায়? আশেপাশের পরিবেশ দেখলে অবশ্য সত্যিই মেলে না ইঁট কাঠ পাথরের জঙ্গলের সঙ্গে। দক্ষিণেশ্বর অথবা ব্যারাকপুরের থেকে অনেকটা দূরে বনগাঁর গাড়াপোতা অঞ্চলের কাছে রয়েছে এই মন্দির। যার আরাধ্যা স্বয়ং সিদ্ধেশ্বরী কালী। বনগাঁ শহর থেকেও ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে পাঁচশ বছরের পুরনো এই সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির।
ভক্তি আর ভক্তের জোরেই প্রাণ পায় মন্দির চত্বর। লোকমুখে বিশ্বাস এই দেবী সিদ্ধেশ্বরী নাকি কারোর প্রার্থনা ফেরান না। বনগাঁ শহরের অনতিদূরে অবস্থিত এই মন্দির নিতে রয়েছে অজস্র মিথ। দেখতে দক্ষিণেশ্বরের মতো হলেও আকারে অত বড় নয়। স্থানীয়দের যৌথ সহায়তায় নিত্য পুজো থেকে শুরু করে ভোগ, সবই হয় এখানে। প্রসাদ বিতরণ করা হয়, তবে কুপনের কোনও ব্যবস্থা নেই এখানে। আগে অবশ্য মন্দিরের এই রূপ ছিল না, পরবর্তীকালে স্থানীয়দের চাঁদার টাকায় দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দিরের আদলে রূপ দেওয়া হয় এর। রামকৃষ্ণ এবং কালী নিয়ে বাঙালি তথা হিন্দুদের মধ্যে চিরকালই একটা ঘোরতর আবেগ রয়েছে, তাই দূর থেকে যাঁরা দক্ষিণেশ্বর দর্শন করতে যেতে পারেন না তাদের জন্যই এরূপ ভাবনার বহিঃপ্রকাশ বনগাঁর মন্দিরে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
History of Thanthania Kalibari : ট্রাম রাস্তার ওপরেই মন্দির। চারিদিকে ঘিঞ্জি বসতি। ব্যস্ত বাস রাস্তা। সামনেই স্কুল কলেজের ভিড়। মন্দিরের ওপর ফলক করে লেখা রয়েছে ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির নাম।
মন্দিরের চারপাশের পরিবেশটাও বেশ সুন্দর। গোছানো একটা গ্রাম বাংলার প্রতিচ্ছবি মেলে এখানে। মন্দিরের একেবারে পাশেই রয়েছে চাষের ক্ষেত। সারা বছরই এখানে বিভিন্ন মরশুমী সবজি চাষ করা হয়। শুধু যে দেবীর মন্দিরের অবয়বটুকু এখানে রাখা হয়েছে তাই নয়, সাদৃশ্য মেলে মুখোমুখি অবস্থান করা শিব মন্দিরের সঙ্গেও। যদিও সেটিতে তুলে ধরা হয়েছে তারকেশ্বরের শিব মন্দিরের আদলে। নাম সিদ্ধেশ্বর শিব মন্দির। আগে এই মন্দিরের পাশ দিয়েই নাকি বয়ে যেত টলটলে ইছামতী নদী। এখনও অবশ্য নদীর গতিপথ পরিবর্তন করায় আগের মতই ভরা নদী আর নেই, সেই জায়গায় রয়েছে একটা বাওর।
শিয়ালদহ স্টেশন থেকে প্রতি ঘন্টায় ছাড়ে বনগাঁ লোকাল। তারই একটাতে চেপে নামতে হবে বনগাঁ স্টেশনে। জায়গাটা বাগদা-বনগাঁ রোডের দিকে।স্টেশনেই মিলবে টোটো, তাতে চেপে আসতে হবে মতিগঞ্জ মোড়। অটো বা বাসে ধরলে নামতে হবে সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির স্টপেজে।
















