কোটি কোটি টাকা কর ফাঁকির অভিযোগ খোদ তাজমহলে! কেন ৩৭০ বছর পর নেমে এল খাঁড়া
Tajmahal : বকেয়া করের খাঁড়া এবার তাজমহলেও! কোন আগ্রাসনের পথে হাঁটছে যোগী সরকার?

ছাপোষা কোনও বিল্ডিং নয়, এবার কর ফাঁকির অভিযোগ উঠল খোদ তাজমহলের বিরুদ্ধে। পুরনিগমের পাঠানো নোটিশ থেকে জানা যায়, মোট ১.৯ কোটি টাকা জল কর এবং ১.৫ কোটি টাকা সম্পত্তি কর ফাঁকি দিয়েছে তাজমহল কর্তৃপক্ষ। আগামী পনেরো দিনের মধ্যে এই কর মেটাতে না পারলে তালা ঝুলতে পারে সপ্তম আশ্চর্যে এমনটাও জানিয়ে দিয়েছে পুরনিগম।
বাংলা একটি প্রবাদের কথা এখানে খুব প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়ায়। “বাইরে চিকন চাকন, ভিতরে খড়ের গাদন”... বাইরে থেকে ঝাঁ চকচকে সাদা মহলের ভিতরে যে এত এত কারচুপি লুকিয়ে রয়েছে এমনটা হয়তো আশানুরূপ ছিল না। কিন্তু এমন একটি স্মৃতি সৌধের ক্ষেত্রে কি কোনও কর ধার্য হওয়া যুক্তিযুক্ত? প্রশ্ন তুলেছে তাজমহল কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয় ৩৭০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কর দাবির বিষয়টি সামনে এসেছে বলেই জানিয়েছে তারা। তবে এই যে বকেয়া বিলটি পাঠানো হয়েছে তা মোটেই এতগুলো বছরের মোট হিসাব নয়। কেবল ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের। শুধু তাই-ই নয়, পুরনিগম হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ১৫ দিনের মধ্যে এই বকেয়া না মেটালে সম্পত্তি ‘বাজেয়াপ্ত’ করা হবে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তাজমহল নিয়ে হিন্দুত্ববাদীদের দড়ি টানাটানি সাম্প্রদায়িক বিতর্ককেই উস্কানি দিয়েছে। বর্তমান সময়ে রজনীশ সিং বারবারই বিজেপির উপরমহলের নেতাদের কাছে নতুন করে তাজমহল বিতর্ককে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ১৯২০ সাল থেকে তাজমহল একটি সংরক্ষিত হেরিটেজ স্থাপত্য। এই স্থাপত্যের উপর কোনওদিনই কোনও জল এবং সম্পত্তি কর লাগু ছিল না। এমনকী, ব্রিটিশ আমলের ভারতেও নয়। GIS Survey মোতাবেক একটি থার্ড পার্টি বেসরকারি সংস্থা এই নোটিসগুলি পাঠিয়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই নোটিশটি ভুল করে পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। এরকম একটি স্মৃতি সৌধের কোনও কর ধার্য করার আইন নেই বলেই দাবি কর্তৃপক্ষের।
কীভাবে হয় এই করের হিসাব? কাদেরই বা দিতে হয় কর?
ব্যক্তিগত সম্পত্তি ব্যতীত কোনও সম্পত্তির কর নিয়ে রয়েছে আলাদা নিয়ম। এমনকী দেশের স্থাপত্য ওঠা স্মৃতি সৌধ কখনওই করের আওতায় পড়েনা। সুতরাং কোনও ভুল হচ্ছে বড়ই দাবি জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার। এএসআইয়ের তরফে জানানো হয়েছে, ১৯২০ সাল থেকেই তাজমহলকে সংরক্ষণের দায়িত্ব নেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকেই এই ঘটনা প্রথমবার। একইসঙ্গে ১৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত আগ্রা ফোর্টকেও নোটিশ পাঠানো নিয়ে যোগী আদিত্যনাথ পরিচালিত উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে, যোগী রাজ্যের আগ্রাসন কি এবার স্থাপত্য নিয়েও টানাটানি করবে?
















