পুলিশের নজর এড়িয়েই বৈসরনে পর্যটকরা! নিরাপত্তার যে যে গাফিলতি স্বীকার কেন্দ্রের

Amit Shah on Kashmir: কেন পুলিশের অনুমতি ছাড়াই এমন বিপজ্জনক জায়গায় পর্যটকদের প্রবেশ সম্ভব হচ্ছে? এর দায় কার?

inscript
৩ মিনিট
পুলিশের নজর এড়িয়েই বৈসরনে পর্যটকরা! নিরাপত্তার যে যে গাফিলতি স্বীকার কেন্দ্রের

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে নৃশংস হামলায় নিরস্ত্র সাধারণ পর্যটকদের প্রাণ গেছে। গত মার্চ থেকেই পর্যটকদের ঢল নেমেছিল ভূস্বর্গে। ভারত সরকার ২০১৯ সালের অগাস্টে ৩৭০ ধারা বিলোপের পরেই জোর দিয়েছিল, কাশ্মীর এখন সন্ত্রাসমুক্ত। কাশ্মীরকে ভারতের অন্য যে কোনও অংশের মতোই নিরাপদ বলে দাবি করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষ সেই ভরসাতেই কাশ্মীরমুখী হচ্ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কাশ্মীরে যখন এত পর্যটক, এমন 'পিক সিজনে' কেন নিরাপত্তায় এমন গাফিলতি? পর্যটকদের কাছে প্রধান আকর্ষণের বৈসরন উপত্যকায় কেন কোনও নিরাপত্তারক্ষী নেই? ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কি এতই দুর্বল?

গোয়েন্দা এবং নিরাপত্তার ব্যর্থতা যে ছিল, তা মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশই। ইন্ডিয়া টুডে-র এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে এই নৃশংস ঘটনার কয়েকদিন আগে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একজন সন্ত্রাসবাদী সন্ত্রাসী হামলার ইঙ্গিত দিয়ে মন্তব্য করেছিল কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থা এবং নিরাপত্তা বাহিনী তাতে আমল দেয়নি। ফলে গুরুতর ফল ভোগ করতে হলো সাধারণ মানুষদের।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, এই আক্রমণটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ছক কষে পরিকল্পিত উপায়েই করা হয়। পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাসীদের আন্তর্জাতিক মাথারা এই জঙ্গিদের 'রিয়েল টাইম' নির্দেশনা দিয়েছিল। গোয়েন্দা সূত্র আরও জানাচ্ছে, হামলার সঙ্গে জড়িত জঙ্গিরা অস্ত্র ব্যবহারে সুপ্রশিক্ষিত ছিল। ব্যাপক পর্যটকদের সমাগম, জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও বৈসরনে নিরাপত্তা বাহিনী কম মোতায়েন রয়েছে এমন বিস্তারিত তথ্য তাদের কাছে ছিল। আক্রমণকারী সন্ত্রাসীদের মাথায় হেলমেট-মাউন্ট ক্যামেরা ছিল। সম্ভবত পর্যটকদের হত্যাকাণ্ড রেকর্ড করে সেই ফুটেজ সহযোগী সন্ত্রাসীদের কাছে পাঠানোর উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা হয়েছিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সমস্ত প্রবেশ নিষিদ্ধ! পাকিস্তানকে 'জব্দ' করতে যে যে সিদ্ধান্ত নিল ভারত সরকার

India Pakistan Relation: পাকিস্তানিদের ভারতে আসা বন্ধ করেছে বিজেপি সরকার। ভারতে আসার জন্য পাকিস্তানের মানুষ যে ‘সার্ক’ ভিসা ব্যবহার করেন, তা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

তাহলে কি ধরে নিতে হবে এই হামলা চাইলে এড়তেই পারত কেন্দ্রের বিজেপি সরকার? প্রতিরক্ষার গাফিলতিতেই প্রাণ গেছে সাধারণ মানুষের?

বৃহস্পতিবার একটি সর্বদলীয় বৈঠক হয়েছে। সেখানে একাধিক গাফিলতির কথা 'মেনে' নিয়েছে সরকার। কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন, বৈসরন তৃণভূমিতে পর্যটকদের যাওয়ার জন্য কোনও পুলিশি ছাড়পত্রই ছিল না। তিনি আরও বলছেন, এই তৃণভূমিটি প্রধান সড়ক থেকে বেশ দূরে। কেবল পায়ে হেঁটে বা টাট্টুঘোড়ায় চেপেই এখানে প্রবেশ করা যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে যে, তৃণভূমিতে হামলা করা সহজ তা জঙ্গিদের জানাই ছিল। তারা এই পথটির সুব্যবহার করেছে। কেন পুলিশের অনুমতি ছাড়াই এমন বিপজ্জনক জায়গায় পর্যটকদের প্রবেশ সম্ভব হচ্ছে? এর দায় কার?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকাকেই বেছে নিল জঙ্গিরা?

Pahalgam Attack: বৈসরন উপত্যকা অর্থাৎ যেখানে হামলা ঘটেছে, তা নৈসর্গিক কারণেই মানুষের বিশেষ পছন্দের। এই জায়গাটিকে মিনি সুইজারল্যান্ড বলেই ডাকেন ভারতের পর্যটকরা।

বিরোধী সূত্রের মতে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই সর্বদলীয় বৈঠকে জানিয়েছিলেন, পুলিশি অনুমতি ছাড়াই বৈসরম তৃণভূমি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং দুই দিনে হাজারেরও বেশি পর্যটক এখানে গেছেন। লোকসভা সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি নিরাপত্তা কর্মীদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে কেন এত দেরি হয় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রশ্ন করেছেন, সিআরপিএফ ইউনিটকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কিনা। সেই প্রশ্নের উত্তরে অমিত শাহ বলেছেন, ঘটনার দিন বৈসরনে কোনও নিরাপত্তাই ছিল না। সেদিন পহেলগাঁওয়ে ৫০০ জন নিরাপত্তা কর্মী উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের ওই ঘটনাস্থলে যেতে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লেগে যায়।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছেন, হামলার আগে অন্তত পাঁচ দিন বৈসরনের আশেপাশে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনও যোগাযোগ সংকেত খুঁজে পাওয়া যায়নি। সন্ত্রাসীরা কোনও যোগাযোগ যন্ত্র ব্যবহার করেনি।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, যে সন্ত্রাসবাদীরা এতদিন রেইকি করে পরিকল্পনা প্রস্তুত করল, নতুন কৌশল ব্যবহার করে, আমেরিকান অস্ত্র ব্যবহার করে, আফগানিস্তান থেকে আসা বিভিন্ন গোলাবারুদ ব্যবহার করে নিজেদের অভিযান সফল করল, তাহলে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী কী করল এতদিন ধরে? তাদের এসব আটকানোর কোনও প্রস্তুতিই নেই?

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি বলছেন যে, সুস্পষ্টভাবেই নিরাপত্তা ব্যর্থতা জনিত ঘটনা। হাজার হাজার লোক পুলিশের অজান্তেই একটি এলাকায় ঘোরাফেরা করছে, কাশ্মীরের মতো সংবেদনশীল জায়গায় কীভাবে এমন ঘটনা ঘটছে তা সত্যিই প্রশ্ন জাগায়। সমস্ত দলই সর্বসম্মতভাবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কেন্দ্রকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিরোধীদের তরফে এই ঘৃণ্য হামলার নেপথ্যের কারণ সন্ধানে যুক্তিপূর্ণ প্রশ্নগুলি এলে হয়তো কাশ্মীরের নিরাপত্তার ফাঁক আরও স্পষ্ট হবে। আরও স্পষ্ট হবে, শুধুমাত্র সরকারি প্রতিশ্রুতিতে ভরসা করে যে সাধারণ মানুষরা কাশ্মীর যাচ্ছেন, সরকার কি আদৌ তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?