কেন পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকাকেই বেছে নিল জঙ্গিরা?

Pahalgam Attack: বৈসরন উপত্যকা অর্থাৎ যেখানে হামলা ঘটেছে, তা নৈসর্গিক কারণেই মানুষের বিশেষ পছন্দের। এই জায়গাটিকে মিনি সুইজারল্যান্ড বলেই ডাকেন ভারতের পর্যটকরা।

inscript
২ মিনিট
কেন পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকাকেই বেছে নিল জঙ্গিরা?

সাম্প্রতিককালের বীভৎসতম জঙ্গি হামলা। কাশ্মীর ঘুরতে গেলেই পর্যটকরা যে সুদৃশ্য তৃণভূমিতে ছবি তোলেন, সময় কাটান, ঘোড়ায় চাপেন- সেই পহেলগাঁওয়ের উপত্যকা রক্তস্নাত। কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলা নতুন নয়, তবে এই হামলার ধরন, এর বীভৎসতা নাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বকে। এই হামলার সরাসরি লক্ষ্য নিরীহ, নিরস্ত্র পর্যটকরা। শুধুই কি বেশি পর্যটককে একসঙ্গে পাওয়া যাবে, তাতে হামলার মাত্রা বেশি হবে বলেই জঙ্গিদের মনোনয়নে সবার আগে জায়গা করে নিল পহেলগাঁও? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুই পর্যটকদের ভিড়কে পেতে এই জায়গাকে বেছে নেওয়া নয়, নেপথ্যে আছে একাধিক কারণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাশ্মীরে অন্যতম জনপ্রিয় জায়গা পহেলগাঁও। এই অঞ্চলে বৈসরন উপত্যকা অর্থাৎ যেখানে হামলা ঘটেছে, তা নৈসর্গিক কারণেই মানুষের বিশেষ পছন্দের। এই জায়গাটিকে মিনি সুইজারল্যান্ড বলেই ডাকেন ভারতের পর্যটকরা। তাই সকলেই কাশ্মীর ঘুরতে এসে অন্তত একবার বৈসরন উপত্যকায় সময় কাটিয়ে যান। ফলে পর্যটকদের একসঙ্গে পাওয়া যায়। আর যেহেতু এই তৃণভূমি বিস্তৃত অঞ্চল তাই এখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন পর্যটকরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেউ মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে, কেউ পর্যটকদের বাঁচাতে গিয়ে নিহত! পহেলগাঁও প্রাণ কাড়ল যাদের

Pahalgam Attack: ধর্ম পরিচয় জিজ্ঞেস করে হত্যার অভিযোগ উঠলেও, পহেলগাঁওয়ের ওই উপত্যকায় প্রাণ গিয়েছে একজন স্থানীয়েরও, ধর্মে মুসলিম।

বলিউডের অনেক সিনেমার শুটিং হয়েছে বৈসরনে। বৈসরন ট্রেকারদের কাছে ক্যাম্প করার এক আদর্শ জায়গা। শুধু গ্রীষ্মে নয় শীতকালেও এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। তখন বরফের গালিচায় চলে স্কেটিং। আরু বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য আছে নিকটে। দেখা মেলে বাদামী ভাল্লুক এবং কস্তুরী হরিণের। বরাবরই পর্যটকদের টানে এই মিনি সুইজারল্যান্ড। সরকারি হিসেব বলছে, ২০২৩ সালে মোট ১৪,৩২,৪৩৯ জন পর্যটক জম্মু ও কাশ্মীর ভ্রমণে আসেন, যাদের ৯৮ শতাংশ মানুষই বৈসরনে একবার ঘুরে যান।

অনন্তনাগ থেকে একটি রাস্তায় যায় শ্রীনগরের দিকে, অন্যটি পহেলগাওঁয়ের দিকে। পহেলগাঁওয়ের দিকে যাওয়ার রাস্তার উপরেই অমরনাথ যাত্রার বেসক্যাম্প পড়ে। সামনেই অমরনাথ যাত্রা। জঙ্গি হামলার ফলে অমরনাথ যাত্রায় বাধা পড়ল বড়। এই রাস্তার দু’পাশের পাইন বনের মধ্যে দিয়ে একটিই মাত্র রাস্তা দিয়ে বৈসরন উপত্যকায় যাওয়া যায়। আর তা যেতে হলে হয় হেঁটে যেতে হবে বা ঘোড়ার পিঠে চেপে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কাশ্মীরে নিরস্ত্র পর্যটকদের উপর মর্মান্তিক হামলার নেপথ্যে TRF! কারা এই গোষ্ঠী?

Pahalgam Terrorist attack TRF: টিআরএফ সোশ্যাল মিডিয়ায় মগজধোলাইয়ের কাজটি করে। ভারতের বিরুদ্ধে গিয়ে এমন সন্ত্রাসবাদী দলে যোগ দেওয়ার জন্য মানুষদের উস্কানি দেয় টিআরএফ, জানিয়েছিল মন্ত্রক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু পহেলগাঁও থেকে বৈসরন উপত্যকা পর্যন্ত যাওয়ার আর অন্য কোনও রাস্তা নেই, তাই সেখানে চট করে সেনার আসার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। আর যেহেতু চারপাশেই ঘন পাইন বন তাই হামলা চালিয়ে পালানো বা লুকিয়ে থাকাও সহজ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অঞ্চলটিতে বারেবারে রেইকি করে, সমস্ত পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ বৈসরনে পরিকল্পিত হামলা চালায় সন্ত্রাসবাদীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাধিক বয়ান বলছে, সেনার পোশাক পরে, মুখ ঢেকে সশস্ত্র জঙ্গি পাইন বন থেকে বেরিয়ে এসে পর্যটকদের নাম-ধর্মপরিচয় জিজ্ঞেস করে কপালে গুলি করা হয়। খুন করে আবার জঙ্গলেই উধাও হয় তারা।

হামলার দায় স্বীকার করেছে পাক জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজ়িস্ট্যান্স ফোর্স’ বা টিআরএফ। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, জম্মুর কিশতওয়ার এলাকা দিয়ে ঢুকেছিল টিআরএফ জঙ্গিরা। তারপর সীমান্ত পেরিয়ে দক্ষিণ কাশ্মীরের কোকেরনাগ হয়ে বৈসরনে আসে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।