প্রিয়াঙ্কা গান্ধি 'খামখেয়ালি টুরিস্ট রাজনৈতিক'! কতখানি সত্যি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি?
Priyanka Gandhi: প্রিয়াঙ্কার মতো রাজনীতিকরা সত্যিকারের ভারতের সঙ্গে তেমন ভাবে যুক্ত বলে মনে করেন না কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাই তিনি তাঁকে 'খামখেয়ালি রাজনৈতিক' বলে আখ্যা দিয়েছেন।

ভোট আসতে না আসতেই নেতানেত্রীদের একে অপরকে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়ে যায়। লোকসভা ভোট ঘোষণা হওয়ার আগে থেকেই কংগ্রেসকে লাগাতার নিশানা করে গিয়েছে বিজেপি নেতানেত্রীরা। কম যায়নি কংগ্রেসও। গদির লড়াইয়ে বিজেপিকে পাল্টা তোপ দেগেছে কংগ্রেসও। লোকসভা ভোটের চার দফার ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। বাকি আরও তিন দফা। তবে এই লোকসভা ভোটের লড়াইয়ে নামেননি সনিয়াকন্যা প্রিয়াঙ্কা। রায়বরেলি থেকে প্রার্থী হতে পারেন প্রিয়াঙ্কা, এমন একটা জল্পনা চলছিল গোড়া থেকেই। তবে শেষপর্যন্ত সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে প্রিয়াঙ্কা ঘোষণা করে দেন, লোকসভা ভোটের লড়াইয়ে এ বছর নেই প্রিয়াঙ্কা। আর এবার তার জন্যই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযুষ গয়ালের নিশানায় প্রিয়াঙ্কা। প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বঢড়াকে এবার খামখেয়ালি 'পর্যটক' রাজনীতিক বলে কটাক্ষ করলেন বিজেপি মন্ত্রী।
ভোটে না লড়লেন, কংগ্রেসের হয়ে প্রচারে গিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। এমনকী মোদি যখন কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে গিয়ে বলে বসেছিলেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের থেকে সোনাদানা, মঙ্গলসূত্র ছিনিয়ে নিয়ে 'ঘুসপেটিয়াদের মধ্যে বিলিয়ে দেবে, তখনও বিজেপিকে জবাব দিতে আসরে নেমেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। মোদির কথার জবাবে প্রিয়াঙ্কা, সনিয়ার রাজনীতিতে অবদানের কথা তুলে ধরেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিরোধীদের কথা থামেনি। এবার পীযূষ গয়ালের কটাক্ষের সামনে পড়লেন প্রিয়াঙ্কা। কেন তাঁকে পর্যটক রাজনীতিক বলছেন পীযূষ?
তাঁর ব্যখ্যা, প্রিয়াঙ্কা নাকি নির্বাচনের পরেই অদৃশ্য হয়ে যান প্রতিবার। এমনকী আসল ভারতকে বোঝার বা চেনার চেষ্টা প্রিয়াঙ্কার নেই বলেও দাবি করেছেন পীযূষ। পাশাপাশি তিনি এ-ও জানান, তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে গান্ধি-নেহরু পরিবারের ভূমিকাকে সম্মান করে। তবে স্বাধীনতার পরে সেই কংগ্রেসের অবক্ষয় হয়েছে বলেই দাবি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর। দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণের থেকে কংগ্রেসে একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে বলে দাবি পীযূষের।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Priyanka Gandhi Raebareli Seat: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি এই রায়বরেলি আসনেই তিনবার জিতেছিলেন৷ সনিয়া জিতেছেন চারবার, এবার মেয়ের পালা?
প্রিয়াঙ্কার মতো রাজনীতিকরা সত্যিকারের ভারতের সঙ্গে তেমন ভাবে যুক্ত বলে মনে করেন না কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাই তিনি তাঁকে 'খামখেয়ালি (Non-Serious) রাজনৈতিক' বলে আখ্যা দিয়েছেন। পীষূষের কথায়, ইউটোপিয়ান বিশ্বে বসবাস করেন তাঁরা। মাঝেমধ্যে নির্হাটনের সময় মাঠে নেমে আসেন, এবং ভোট মিটলেই অদৃশ্য হয় যান। সম্প্রতি একটি সংবাদ সংস্থার তরফে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ভবিষ্যতের একজন শক্তিশালী রাজনীতিক হিসেবে প্রিয়াঙ্কা গান্ধি কোথাও উঠে আসেন কিনা? তার উত্তরেই এই সব বক্তব্য জানান পীষূষ।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Rahul Gandhi Priyanka Gandhi : মহাভারতের ট্র্যাডিশন মেনেই তেজস্বী যাদব আর তেজ প্রতাপের মধ্যে লড়াই হয়েছে, সুপ্রিয়া শুলে আর অজিত পাওয়ারের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশাল।
কংগ্রেসের বহু পদক্ষেপেরই সমালোচনা উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথাবার্তায়। তাঁর দাবি, স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রিয়াঙ্কা-রাহুলের পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য হলেও আমাদের ভুলে চলবে না, সর্দার প্যাটেলকে কংগ্রেসের প্রায় সকলেই বেছে নিয়েছিলেন দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সে সময়ে। কিন্তু জনগণের ইচ্ছার উপর দিয়ে কোনও একজনের ব্যক্তিগত ইচ্ছা চরিতার্থ হয়েছে সব সময়ে দলে। জওহরলাল নেহরুর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সে কথা জানান মন্ত্রী।
সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশে একটি জনসভায় প্রিয়াঙ্কা বলেন, তাঁর বাবা রাজীব গান্ধী মা ইন্দিরার থেকে সম্পত্তি নয়, দেশপ্রেম উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। যা কোনওদিন বুঝতে পারবেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই আবেগঘন বক্তৃতা ভাসিয়ে দিয়েছিল মানুষকে। সেই বক্তৃতার কথা উল্লেখ করেই গয়াল জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন গত ৮৫-৭৭ বছরে কংগ্রেস একটা এমন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যেখানে একটা দলের সমস্ত কিছুই হয় একটি নির্দিষ্ট পরিবারের জন্য। রাহুল গান্ধি লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর কংগ্রেসের তরফে গান্ধী পরিবারের জন্য পৃথক আইনের দাবি করা হয়েছিল। যার কড়া নিন্দা করেছেন মন্ত্রী। রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা দু'জনেই এই ধরনের রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করেন বলেও মন্তব্য করেন পীষূষ।
দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ তুলে আসছেন বিরোধীরা। কখনও কখনও দলের মধ্যেও পরিবারতন্ত্রের গুরুত্ব পাওয়া নিয়ে অশান্তি বেঁধে যায়। সেই সব ঝামেলার হাত থেকে বাঁচতেই এই প্রথমবার কংগ্রেস সভাপতির ভার দেওয়া হয়েছে গান্ধি পরিবারের বাইরের কাউকে। ওই পদে অভিষিক্ত করা হয় প্রবীণ কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে। এমনকী জোট ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখও করা হয়েছিল খাড়্গেকেই। তবে তার পরেও বিরোধীদের তীর্যক মন্তব্য, খোঁচা কমেনি একচুলও। যদিও নিন্দুকদের একাংশের মত, যতই খাড়্গের হাতে চেয়ার থাক না, দলের সুতোটি এখনও বাঁধা গান্ধি পরিবারের হাতেই। যা নিয়েই বারবার সরব হন বিজেপির একাধিক মন্ত্রী। এই লোকসভা ভোটে গোড়া থেকেই কংগ্রেসকেই সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করেছে বিজেপি। এমনকী সম্প্রতি আদানি-অম্বানির সঙ্গে কংগ্রেসকে জড়িয়েও কটাক্ষ করেছিলেন মোদি। তবে পীষূষ এবার এমন একজনকে আক্রমণ করে বসলেন কংগ্রেসের, যিনি এই ভোটের লড়াইয়ে দাঁড়ানইনি কোনও খানে। যদিও এর আগেও একাধিক বার এমন কটাক্ষের মুখে পড়েছেন প্রিয়াঙ্কা। ২০১৯ সালে বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্য স্বামী প্রিয়াঙ্কার মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, প্রিয়াঙ্কা মানসিক অসুস্থতার জন্য জনমানসে মেশার যোগ্য নন। সে নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল সেসময়। এবার ফের প্রিয়াঙ্কার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্ক বাড়ালেন আরও এক বিজেপি নেতা।







