প্রথম নির্বাচনে লড়ছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধি! ইন্দিরা, সনিয়ার পর পারবেন রায়বরেলি ধরে রাখতে?

Priyanka Gandhi Raebareli Seat: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি এই রায়বরেলি আসনেই তিনবার জিতেছিলেন৷ সনিয়া জিতেছেন চারবার, এবার মেয়ের পালা?

inscript
৩ মিনিট
প্রথম নির্বাচনে লড়ছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধি! ইন্দিরা, সনিয়ার পর পারবেন রায়বরেলি ধরে রাখতে?

ভোটের প্রচারে তিনি থেকেছেন হামেশাই। শক্ত হাতে ধরেছেন ভাইয়ের হাত। শক্তভাবে মনোবল সামলেছেন দলের কর্মী সমর্থকদের। এবার সারাদেশেই মোদি বিরোধী ঝড় তোলার চেষ্টায় কংগ্রেস মরিয়া। দলের এই মরিয়া লড়াইয়ে আর নেপথ্যে থেকে নয়, সরাসরি মাঠে নামতে চলেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বঢরা! সম্ভবত উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি রায়বেরেলি থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে আত্মপ্রকাশ করবেন প্রিয়াঙ্কা। উল্লেখ্য, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি এই রায়বরেলি আসনেই তিনবার জিতেছিলেন৷ মহিলা ভোট টানতে আর যুবপ্রতিনিধিকে সামনে আনতেই কংগ্রেসের এই বড় কৌশল। বিজেপিতে মহিলা নেতৃত্বের অভাব রয়েছে যথেষ্ট। অন্যদিকে ইন্দিরা, সনিয়ার উত্তরাধিকার রয়েছে প্রিয়াঙ্কার মধ্যেও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রিয়াঙ্কার রাজনৈতিক বিচক্ষণতাকে বরাবরই এগিয়ে রেখেছেন। অন্যদিকে, সেই রাজ্যে কংগ্রেসের অন্য শক্ত ঘাঁটি, আমেথিতে ফের ভোটে দাঁড়াতে পারেন রাহুল গান্ধি। ২০১৯ সালে ভারতীয় জনতা পার্টির স্মৃতি ইরানির কাছে হেরে গিয়েছিলেন রাহুল। তবে রাহুল কেরলে তাঁর বর্তমান ওয়ানাড় আসন থেকেও লড়বেন।

প্রতি নির্বাচনেই ভাবা হয়, এবার বুঝি প্রিয়াঙ্কা গান্ধি দলের হাল ধরতে মাঠে নামলেন। কোনওবারই সরাসরি ভোটে লড়েননি তিনি। এবার, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বড় আসন থেকে লড়তে চলেছেন সম্ভবত তিনি। প্রিয়াঙ্কার মা, প্রাক্তন কংগ্রেস প্রধান সনিয়া গান্ধি বলেছিলেন, ২০১৯ সহ অতীতে পাঁচবার এই আসনে জিতেছেন তিনি। ফের রায়বরেলি থেকে নির্বাচনে লড়বেন না তিনি। গত নির্বাচনে তিনিই ছিলেন একমাত্র কংগ্রেস নেত্রী যিনি উত্তরপ্রদেশের লোকসভা আসনে জয়ী হন। এবারের লোকসভা ভোটে নরেন্দ্র মোদি বিভিন্ন স্থানেই মহিলা ভোটকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। আর কংগ্রেস রায়বরেলিতে প্রিয়াঙ্কাকে প্রার্থী করার মাধ্যমে আসলে সারা দেশের মহিলা ভোটকেই কংগ্রেসমুখী করতে চাইছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাহুল অতীত? এবার দেশে কংগ্রেসের মুখ কি প্রিয়াঙ্কা গান্ধিই?

Rahul Gandhi and Priyanka Gandhi: রাহুলের এই ঘটনা প্রিয়াঙ্কা গান্ধির জন্যও নতুন সূচনার সম্ভাবনা তৈরি করছে।

২০০৪ সাল থেকে রায়বরেলি আসনে জিতে এসেছেন সনিয়া গান্ধি। ২০০৪ সালে সমাজবাদী পার্টির অশোক কুমার সিংকে হারিয়ে জেতেন সনিয়া। ২০০৬ সালের উপনির্বাচনেও জেতেন সনিয়া। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বহুজন সমাজ পার্টির আর এস খুশওয়াহাকে হারিয়ে জেতেন সনিয়া। আর ২০১৪ ও ২০১৯ সালে বিজেপির অজয় আগরওয়াল আর দীনেশ প্রতাপ সিংকে হারিয়েও জেতেন সনিয়া।

তার বহু আগে, ১৯৫২ সালের প্রথম নির্বাচনে এই আসনে জিতেছিলেন ফিরোজ গান্ধি। ১৯৬৭, ১৯৭১ আর ১৯৮০ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই আসনে জেতেন ইন্দিরা গান্ধি। রায়বরেলি লোকসভা আসনের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি বিধান্সভা কেন্দ্র। বাচরাওয়ান, হরচাঁদপুর, রায়বরেলি, সরেনি আর উনচাহার। এর মধ্যে একটি বিধানসভাও কংগ্রেসের দখলে নেই। তিনটি সমাজবাদী পার্টির আর দু'টি বিজেপির।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাহুল আর প্রিয়াঙ্কা গান্ধির সম্পর্ক আসলে কেমন? যা প্রমাণে মরিয়া বিজেপি...

Rahul Gandhi Priyanka Gandhi : মহাভারতের ট্র্যাডিশন মেনেই তেজস্বী যাদব আর তেজ প্রতাপের মধ্যে লড়াই হয়েছে, সুপ্রিয়া শুলে আর অজিত পাওয়ারের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশাল।

সনিয়া গান্ধি লোকসভা থেকে রাজ্যসভায় চলে যাওয়ার পরে সাধারণ নির্বাচনের আগে দলীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছিল আগেই৷ ঠাকুমা, মায়ের পর এবার মেয়ে। নিঃসন্দেহে লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের তরফে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এটি। প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে প্রতিনিয়তই ঠাকুমা ইন্দিরার তুলনা করা হয়। প্রিয়াঙ্কার চেহারা, মেজাজ, প্রকাশে ইন্দিরাকে আজও খুঁজে পান অনেকেই।

রাহুল বনাম স্মৃতি ইরানির লড়াই আবার হতে চলেছে আমেথি থেকে। ২০১৯ সালে, স্মৃতি ইরানি রাহুলকে ৫৫,০০০ ভোটে হারিয়েছিলেন। স্মৃতি এখনই আশাবাদী যে আমেথিতে রাহুলের আর ঠাঁই হবে না। “২০১৯ সালে তিনি আমেথি ছেড়ে চলে গেছেন। এখন আমেথি তাঁকে ছেড়ে চলে গেছে। যদি তিনি আত্মবিশ্বাসী হন তাহলে, ওয়ানাড়ে না গিয়ে আমেথি থেকে লড়ুন,” চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন স্মৃতি। রাহুল সেই চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে পারবেন কিনা তা জানা এখন সময়ের অপেক্ষা।

বিজেপি এখনও রায়বরেলিতে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেনি। ২০১৯ সালের নির্বাচনে এই আসনে বিজেপি দীনেশ প্রতাপ সিংকে প্রার্থী করেছিল। তিনি ১.৮ লক্ষেরও বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন সনিয়ার কাছে। স্মৃতি ইরানি যে আমেথি আসনেই লড়বেন তা নিশ্চিত। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে চরম গুরুত্বপূর্ণ উত্তর প্রদেশের রায়বরেলিতে কে দাঁড়াবে বিজেপির হয়ে এই সিদ্ধান্তের উপর বিজেপির উত্তরপ্রদেশে ভোট ধরে রাখার বড় অঙ্ক নির্ভর করছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?