২ বছরের জেল স্থগিত! বিজেপির বিরুদ্ধে কি তবে আরও মজবুত হচ্ছে রাহুল বাহিনী?
Rahul Gandhi Bail: ২০১৯ সালের এক মানহানির মামলায় অবশেষে স্বস্তিতে কংগ্রেস। জামিন পেলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি।

২০১৯ সালের এক মানহানির মামলায় অবশেষে স্বস্তিতে কংগ্রেস। জামিন পেলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়াকে চ্যালেঞ্জ করে আপিলের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর দুই বছরের কারাদণ্ডও স্থগিত করা হয়েছে। গুজরাতের একটি আদালত আগামী ১৩ এপ্রিল তাঁর আপিল গ্রহণ করবে। রাহুল গান্ধি, তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বঢরা এবং তিনজন মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য কংগ্রেস নেতাদের নিয়ে, 'মোদি পদবি' বিষয়ক মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার বিষয়ে একটি আবেদন নিয়ে সুরাটের দায়রা আদালতে হাজির হন। প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধিকে পরবর্তী শুনানির জন্য আর আদালতে হাজির হতে হবে না।
রাহুল গান্ধি দোষী সাব্যস্ত হলে, সাংসদ হিসেবে তিনি অযোগ্য হবেন এবং আট বছরের জন্য কোনও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। ইতিমধ্যেই রাহুল তাঁর সরকারি বাংলো খালি করাও শুরু করে ফেলেছেন। সুরাটে এদিন রাহুল গান্ধির সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস নেতাদের এক বড় দল। তাঁর সঙ্গে গিয়েছিলেন কংগ্রেস শাসিত তিনটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী- অশোক গেহলট, ভূপেশ বাঘেল এবং সুখবিন্দর সিং সুখু। আদালতে হাজিরার আগে মা সনিয়া গান্ধির সঙ্গেও দেখা করেন রাহুল।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Rahul Gandhi Bungalow: দলের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বঢ়রাকে ২০২০ সালের জুলাই মাসে তাঁর সরকারি লোধি এস্টেট বাংলোটি খালি করতে হয়েছিল।
গোটা বিষয়টিকেই 'শিশুসুলভ নাটক' মনে হয়েছে বিরোধী দল বিজেপির। "আপিল করার জন্য একজন দোষীর ব্যক্তিগতভাবে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। সাধারণত, কোনও দোষীই ব্যক্তিগতভাবে যান না। নেতা এবং সহযোগীদের সঙ্গে করে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর এই যাওয়া শুধুমাত্র একটি নাটক,” টুইট করেছেন আইনমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। কংগ্রেস অবশ্য বলেছে, সুরাটে দলের এই নেতাদের উপস্থিতি 'শক্তি প্রদর্শন' নয় বরং রাহুল গান্ধির ব্যাপক 'সমর্থনের প্রতীক'।
দেশের সব চোরদের কেন মোদি পদবি- এই প্রশ্ন তোলার অভিযোগে প্রাক্তন কংগ্রেস প্রধান রাহুল গান্ধিকে সুরাটের একটি আদালত দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়। আদালত কংগ্রেস নেতাকে জামিন মঞ্জুর করে এবং আপিল দায়ের করার লক্ষ্যে এক মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Rahul Gandhi and Priyanka Gandhi: রাহুলের এই ঘটনা প্রিয়াঙ্কা গান্ধির জন্যও নতুন সূচনার সম্ভাবনা তৈরি করছে।
২০১৯ সালের এপ্রিলে সুরাট পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক এবং গুজরাতের প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেশ মোদির দায়ের করা একটি অভিযোগের বিষয়ে রাহুল গান্ধির মন্তব্যের জন্য ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৯ এবং ৫০০-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওয়ানাড়ের লোকসভা সাংসদ ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কর্ণাটকের কোলারে একটি সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় চোর মোদি বিষয়ক মন্তব্যটি করেছিলেন।
কারাদণ্ডের জেরে রাহুলের সাংসদ পদ খারিজ হয়ে যায়। তাই কেরলে রাহুল গান্ধির ওয়ানাড় আসনটি শূন্য হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশন এই আসনটির জন্য একটি বিশেষ নির্বাচন ঘোষণা করতে পারে। সূত্রের খবর, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই কেরলের ওয়ানাড়ে উপনির্বাচন করা হতে পারে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ২০১৫-এর ধারা ১৫১এ অনুসারে, আসন শূন্য হয়ে গেলে সংসদ ও রাজ্য বিধানসভার শূন্য আসনের উপনির্বাচন হতে হবে ছয় মাসের মধ্যেই। এই আইন অনুযায়ীই রাহুল গান্ধির সাংসদ পদ বাতিল করা হয়েছে। আইনের ধারা ৮(৩) অনুসারে, একজন সাংসদ যখন দোষী সাব্যস্ত হন এবং কমপক্ষে দুই বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত হন তখনই তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, লোকসভায় এখন দু'টি আসন খালি রয়েছে - জলন্ধর এবং ওয়ানাড়। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশের আমেথি আসন কংগ্রেসের হাতছাড়া হয়। সেবার দু'টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন রাহুল। তাঁর দ্বিতীয় আসন ওয়ানাড় থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
মোদির বিরোধিতার জেরে রাহুলের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা আর সাংসদ পদ বাতিলের মতো ঘটনা 'বিরোধী ঐক্য' তৈরি করেছে বলে মনে করছে কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতাদের একাংশের দাবি, আঞ্চলিক নানা দলগুলি নিজেদের রাজ্যে কংগ্রেসকে প্রতিপক্ষ হিসেবে গণ্য করেছে। কিন্তু এই সংকটের সময় তারা কংগ্রেসের পাশে দাঁড়িয়েছে। আপ আহ্বায়ক এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও সহ অনেক বিরোধী নেতাই রাহুল গান্ধির সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন।






