রাহুল অতীত? এবার দেশে কংগ্রেসের মুখ কি প্রিয়াঙ্কা গান্ধিই?

Rahul Gandhi and Priyanka Gandhi: রাহুলের এই ঘটনা প্রিয়াঙ্কা গান্ধির জন্যও নতুন সূচনার সম্ভাবনা তৈরি করছে।

inscript
৩ মিনিট
রাহুল অতীত? এবার দেশে কংগ্রেসের মুখ কি প্রিয়াঙ্কা গান্ধিই?

একরাতের মধ্যেই তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল রাহুল গান্ধির রাজনৈতিক জীবন। ওয়ানাড়ের সাংসদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা, দু'বছরের জেল আর তার জেরেই সাংসদ পদ বাতিল! এই ঘটনার আইনি প্রতিকার চাইতে হলে রাহুল গান্ধিকে আদালতে আপিল করতে হবে। আপিলের জন্য এক মাস সময়ও দেওয়া হয়েছে। তবু, এখনও কংগ্রেসের কোনও হেলদোল নেই আইনি পথে! রাজ্য জুড়ে কংগ্রেস কর্মীরা রাহুল গান্ধিকে দোষী সাব্যস্ত করা এবং লোকসভা সাংসদ হিসাবে তাঁকে অযোগ্য ঘোষণার প্রতিবাদ করছেন। ভারতের প্রাচীন এই রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা কল্পনা চলছে। কিন্তু আইনি পথে এখনও এগোচ্ছে না রাহুলের দল। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিরুদ্ধে কেন এখনও আপিল করেননি রাহুল?

রাজনৈতিক বিবিধ সূত্র বলছে, কংগ্রেস এখনও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিরুদ্ধে আদালতে আপিল দায়ের করতে পারেনি কারণ রাহুলের আইনি দল গুজরাতি ভাষা থেকে এই আদেশের অনুবাদ করছে, যাতে অনেকটা সময় লেগে যাচ্ছে। আর এই সময় লেগে যাওয়ার মধ্যেও 'আশার আলো' দেখছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। মোদির বিরোধিতার জেরে রাহুলের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা আর সাংসদ পদ বাতিলের মতো ঘটনা আসলে 'বিরোধী ঐক্য' তৈরি করেছে বলে মনে করছেন তিনি। শশীর দাবি, আঞ্চলিক নানা দলগুলি নিজেদের রাজ্যে কংগ্রেসকে প্রতিপক্ষ হিসেবে গণ্য করেছে। কিন্তু এই সংকটের সময় তারা কংগ্রেসের পাশে দাঁড়িয়েছে। আপ আহ্বায়ক এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও সহ অনেক বিরোধী নেতাই রাহুল গান্ধির সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন।

নিঃসন্দেহে কংগ্রেসের দুর্বল স্বাস্থ্যকে রাহুলের এই ঘটনা আরও অনেকটাই নড়বড়ে করে দিয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনা দেশে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন রাহুল গান্ধি নিজের আসন বাঁচাবেন কীভাবে, কীভাবেই বা দেশের প্রধান বিরোধী দল নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখবে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
"আমার নাম সাভারকর নয়...", সাংসদ পদ খারিজের পর সাংবাদিক বৈঠক, কী বললেন রাহুল গান্ধী?

Rahul Gandhi Disqualification Press Conference : কংগ্রেসের কী পদক্ষেপ হবে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ। তার মধ্যেই শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন করলেন খোদ রাহুল গান্ধী।

আইনি পথ

কংগ্রেস রাহুলের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিরুদ্ধে কিছু আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। যদিও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিরুদ্ধে আপিল করা হয়নি। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধির আইনজীবীরা কম শাস্তির হয়ে সওয়াল করেছেন। তাঁদের যুক্তি, কাউকে অপমান করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ 'ত্রুটিপূর্ণ'। কেন এই রায়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে দলের পক্ষ থেকে বিলম্ব হচ্ছে তার ব্যাখ্যাও রয়েছে তাঁদের কাছে। রাহুল গান্ধি এখন দায়রা আদালত বা উচ্চতর আদালতে যেতে পারেন, বা আপিলের মাধ্যমে তার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার উপর স্থগিতাদেশ চাইতে পারেন।

সাংসদ পদ খারিজের বিরুদ্ধে লড়াই

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিজেপির 'আচ্ছে দিন', রাহুল গান্ধির হাতছাড়া হবে ওয়ানাড় আসন?

Rahul Gandhi Wayanad Seat: উচ্চতর আদালত রাহুল গান্ধির সাজা বাতিল না করলে তিনি সম্ভবত আট বছরের জন্য আর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।

সাংসদ হিসেবে রাহুলের অযোগ্যতার বিষয়ে অতীতের একটি রায় মাথায় রাখা দরকার। লিলি থমাস বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া মামলা ২০১৩ সালের ঐতিহাসিক রায়ে, সুপ্রিম কোর্ট জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৮(৪) ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। আদালত জানায়, শুধুমাত্র একটি আপিল দায়ের করলেই তা যথেষ্ট নয় আর। দোষী সাব্যস্ত সাংসদকে অবশ্যই ট্রায়াল কোর্টের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশের একটি নির্দিষ্ট আদেশ পেতে হবে।

দেশজুড়ে প্রতিবাদ

কংগ্রেস সদ্যই নিজের 'ভারত জোড়ো যাত্রা' শেষ করেছে। দেশজুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের আন্দোলন আরও মারমুখী হবে বলেই আশা করা যায়। সেই দিক থেকে দেখতে গেলে, রাহুলের এই ঘটনা দেশে মোদিবিরোধী হাওয়াকে আরও গতি দিতে পারে। এই মুহূর্তে শাসক দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে 'সত্যাগ্রহ' করছে কংগ্রেস। তবে এই আন্দোলন টিকবে কিনা তা নির্ভর করবে আইনি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের উপর।

সত্যিই কি রাহুলের সাজার ঘটনায় কংগ্রেস আশার আলো দেখছে?

এই সাজা দলের জন্য ভালো প্রমাণিত হতে পারে কিনা তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে রাহুলের ভাবমূর্তির জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। জোট গঠনের সময় কংগ্রেসের দৃষ্টিভঙ্গিও কিছুটা বদলাতে পারে এক্ষেত্রে। শুক্রবার, রাহুলের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার একদিন পরেই, ১৪ টি দল ইডি এবং সিবিআইয়ের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করেছে। বলা হচ্ছে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে যদি নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারেন তবে বিজেপি বিরোধী দলগুলির সঙ্গে জোট বিষয়ক আলোচনা আরও কার্যকরী হবে। রাহুলের এই ঘটনা প্রিয়াঙ্কা গান্ধির জন্যও নতুন সূচনার সম্ভাবনা তৈরি করছে। প্রিয়াঙ্কা সুবক্তা, দৃঢ় এবং কঠোর পরিশ্রমী। প্রিয়াঙ্কা যদি নেতৃত্ব দেন তাহলে বিজেপি কিছুটা হলেও কোণঠাসা হতে পারে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।