লোকলজ্জা নাকি অন্য কিছু , যে কারণে মুখোশে মুখ ঢেকে রাখেন রাজ কুন্দ্রা
Raj Kundra : শোনা যায়, HotShots অ্যাপের মাধ্যমে নাকি এই পর্নোগ্রাফির ব্যবসা রমরমিয়ে চালাতেন রাজ ও তাঁর সঙ্গীরা

মুখোশের আড়ালে আসল মুখটিকে চেনে সকলেই, তবুও কাপড় ঢেকেই রাস্তায় বেরোন তিনি। জনপ্রিয় অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টির স্বামী ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রাকে নিয়ে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। কিছুদিন আগে পর্ন কান্ড-এ জড়িয়ে শিরোনামে এসেছিলেন রাজ কুন্দ্রা। বেআইনি পর্ন ফিল্ম ও ভিডিও তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় শিল্পা শেট্টির স্বামী রাজ কুন্দ্রাকে। যদিও রাজের দাবি এ সবই নাকি তাঁকে ফাঁসানোর চক্রান্ত। কিন্তু পুলিশের হাত থেকে সহজে মুক্তি পাননি শিল্পপতি। টানা ৬৩ দিন আর্থার রোডের জেলে কাটিয়েছিলেন তিনি। অতঃপর জামিনে ছাড়া পান।
এই ধরনের ঘটনার তদন্ত চলাকালীন প্রায়শই লক্ষ্য করা যায় অপরাধীদের মুখ ঢেকে আদলতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা কিন্তু জামিন পাওয়ার পর রাস্তায় বেরোলেও মুখোশ পরে ঘোরার ঘটনা বিরলই বটে। উপরন্তু যখন রাজ কুন্দ্রা নিজেই স্বীকার করতে নারাজ সমস্ত অপরাধ তবে কোন দায় মেনে মুখ দেখাতে চাইছেন না তিনি এইসব প্রশ্নই ঘুরপাক খায় অনুরাগীদের মধ্যে। নেট পাড়ায় বিভিন্ন সময়ে এই নিয়ে ট্রোলের মুখেও পড়েছেন ব্যবসায়ী। তবুও সিদ্ধান্তে বদল হয়নি। কিন্তু কেন এরকম সিদ্ধান্ত? সম্প্রতি মুখ খোলেন স্বয়ং।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
RRR Naatu Naatu Golden Globe Award : তালিকায় ছিল তাবড় তাবড় নাম। টেলর সুইফট, রিহানার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সেরার পুরস্কার ছিনিয়ে নিল RRR
নিজের সোশ্যাল মিডিয়ার প্রোফাইলে অবশেষে খোলসা করে বললেন, কোনও লোকলজ্জার ভয় অথবা সাধারণ মানুষের জন্য মুখ ঢেকে ঘোরেন না তিনি। সংবাদ মাধ্যমকে এড়াতেই মুখোশের আড়ালে নিয়েছেন তিনি। সরাসরি তোপ দাগেন, তাঁকে মিথ্যে ভাবে অপরাধী বানানোর জন্য হাত মিডিয়ার।
প্রসঙ্গত, শোনা যায় HotShots অ্যাপের মাধ্যমে নাকি এই পর্নোগ্রাফির ব্যবসা রমরমিয়ে চালাতেন রাজ ও তাঁর সঙ্গীরা। অ্যাপের যে স্ক্রিনশট ভাইরাল হয় তাতে ‘মিসিং কন্ডোম’, ‘গেট ডার্টি’, ‘বিকিনি যোগা’র মতো কনটেন্ট দেখা যায়। সূত্রের খবর, শর্ট ফিল্ম, HD ভিডিও, ফটোশুটের ভিডিও আপলোড করা হত। আবার লাস্যময়ী মডেলদের সঙ্গে নাকি লাইভ কমিউনিকেশন করার সুযোগও থাকতো সেখানে।
২০২১ সালের জুলাই মাস নাগাদ আটক হন তিনি। এরপর মাস দুয়েক পরে জামিন। তারপর কেটে গিয়েছে আরও দেড় বছর, সেই থেকে এখনও মুখোশের আড়ালেই রয়েছেন তিনি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আর কোনও ভাবেই নিজের ব্যক্তিগত জীবনে সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতি চাইছেন না তিনি। সেই কারণেই এই আড়াল। পাশাপাশি রাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে মিথ্যে বলেও দাবি করেন তিনি। আরও দাবি, অপরাধ দমন শাখার উচ্চপদস্থ কর্তারা তাঁকে ফাঁসিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য চিঠিও দিয়েছেন সিবিআই-কে।
এরই মধ্যে যতবার তিনি প্রকাশ্য রাস্তায় এসেছেন ততবারই মুখোশধারী। নেটিজেনদের প্রশ্নে রাজ জানান, ”আমি আমার বন্ধুদের জন্য কিংবা ভক্তদের জন্য মাস্ক পরে থাকি, এমনটা নয়। আমি সংবাদ মাধ্যমকে এড়ানোর জন্য মুখোশ পরে থাকি।” সোশ্যাল মিডিয়াতে যে ট্রোলে বিদ্ধ হয়েছেন তিনি তার তীব্র নিন্দা করেছেন নিজেই। এমনকী জেলে থাকার সময় কোন মানসিক পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন সেই প্রসঙ্গ টেনে বলেন এই কারণেই মুখ ঢাকার সিদ্ধান্ত। কোনও রকম লোকলজ্জা নেই তার স্পষ্ট করে সেই কথাও। তাই করওয়া চৌথের দিন অথবা গণেশ মূর্তি নিয়ে গাড়িতে ওঠার পথে কোথাও ব্যতিক্রম হয়নি তাঁর পোশাকের। বারবার শিকার হয়েছেন ট্রোলের। কিন্তু সে সব কিছুকে তোয়াক্কা মা করেই টানা দেড় বছর রইলেন মুখোশের আড়ালেই। নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে রক্ষা করতে প্রয়োজনে আরও অনেকটা সময় থাকতে পারবেন এভাবেই।
















